জনপ্রিয় অভিনেতা ও সাংবাদিক হাসান মাসুদ গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাতে তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ প্রচণ্ড মাথাব্যথা ও খিঁচুনি দেখা দেওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তারা নিশ্চিত করেন, তিনি ইস্কেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত। পাশাপাশি তার মাইল্ড হার্ট অ্যাটাকও হয়েছে। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী বলেন, হাসান মাসুদ ইস্কেমিক স্ট্রোক করেছেন এবং তার হালকা হার্ট অ্যাটাকও হয়েছে। তিনি বর্তমানে নিউরোলজিস্ট, কার্ডিওলজিস্ট এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। সাধারণত এই ধরনের রোগীদের ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়, এরপর পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় থেকে দূরে থাকা হাসান মাসুদ সম্প্রতি আলোচনায় আসেন অভিনেত্রী হানিয়া আমিরকে নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য। পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এখন আর অভিনয়ে ফিরতে আগ্রহী নন, বরং কোনো স্থায়ী চাকরি খুঁজছেন। তাঁর ভাষ্য, আমি এখন একটা চাকরি খুঁজছি। সেটা যেকোনো ক্ষেত্র—সাংবাদিকতা, প্রশাসন বা অন্য কিছু। আমি হারিয়ে যেতে চাই একেবারে। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীতে যোগ দেন হাসান মাসুদ। সাত বছর পর, ১৯৯২ সালে তিনি ক্যাপ্টেন পদ থেকে অবসর নেন। এরপর ক্রীড়া সাংবাদিকতা শুরু করেন এবং ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিবিসি বাংলায় কাজ করেন। সাংবাদিকতা ছাড়ার পরে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ব্যাচেলর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার অভিনয় জীবন শুরু হয়। এরপর তিনি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ সিনেমায় অভিনয় করেন এবং একের পর এক জনপ্রিয় টেলিভিশন নাটকে কাজ করে দর্শকদের মন জয় করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে – হাউসফুল, ট্যাক্সি ড্রাইভার, এফডিসি, বউ, খুনসুটি, গ্র্যাজুয়েট, রঙের দুনিয়া, আমাদের সংসার, গণি সাহেবের শেষ কিছুদিন, বাতাসের ঘর ও প্রভাতী সবুজ সংঘ।
Author: bangladiganta
-

চেন্নাই শহরে রজনীকান্ত ও ধানুশের বাড়িতে বোমা হামলার ভুয়া হুমকি, পুলিশ তৎপর
তামিল সিনেমার দুই জনপ্রিয় তারকা রজনীকান্ত ও ধানুশের বাড়িতে বোমা হামলা হবে বলে ভারতের চেন্নাই পুলিশের কাছে কঠোর হুমকি এসেছে। একইসঙ্গে সেই হুমকির আওতায় পড়েছে শহরের এক রাজনীতিবিদের বাড়িও। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পুলিশ তৎপর হয়ে কাজ শুরু করেছে এবং শহরজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
রোববার সকালে তামিলনাড়ু পুলিশের মহাপরিদর্শকের (ডিজিপি) দপ্তরে একটি ইমেইলে অভিযোগ করা হয়, তাদের বাড়িতে বিস্ফোরক রাখা হয়েছে। এই হুমকি পাওয়ার পর immediately পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ও তদন্তকারীরা রজনীকান্ত, ধানুশ এবং ঐ রাজনীতিবিদের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। কয়েক ঘণ্টা বিশ্লেষণের পরে পুলিশ জানায়, কোথাও কোনও সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি এবং এটি মূলত একটি ভুয়া হুমকি বলে মনে হচ্ছে।
এর আগে, অক্টোবর মাসে অভিনেত্রী ত্রিশা কৃষ্ণন, রাজনীতিবিদ ও অভিনেতা এস. ভি. শেখর এবং সুরকার ইলাইয়ারাজার স্টুডিওতেও একই ধরনের হুমকি আসে—যা তদন্তের পর সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
অক্টোবরের শুরুর দিকেও অভিনেতা বিজয়র বাড়িতে এই ধরনের বোমা হুমকি এসেছিল, যার ফলে পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এই ইমেইল ও ফোনকলের মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।
চেন্নাই পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিজিপি অফিস ও গ্রেটার চেন্নাই সিটি পুলিশের যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে হুমকির উৎস শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এতদূর পর্যন্ত এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে কোনও সংগঠিত গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা বা স্পষ্ট উদ্দেশ্য জানা যায়নি।
-

সালমান শাহ হত্যা মামলায় সামিরার মা লুসির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় বুধবার রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার অন্যতম আসামি হলেন অভিনেতার প্রাক্তন স্ত্রী সামিরার মা, লতিফা হক লিও, যিনি লুসি নামে জনপ্রিয়। এই মামলায় তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আদেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। পুলিশ এই বিষয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে।
লুসি ঠাকুরের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে তিন নম্বর আসামি হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার তদন্তে নিষ্পত্তি করতে মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান এই নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।
এর আগে, ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর, সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক ও অভিনেতা আসরাফুল হক ডনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। এ জন্য তাঁদেরও আগাম সতর্কতা হিসেবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ফলে এই মামলার সাথে যুক্ত তিনজনের দেশত্যাগে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনের নিজের বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় সালমান শাহের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর অনেক তদন্ত চললেও, দীর্ঘ সময়ের মধ্যে আসল কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সালমান শাহ স্বেচ্ছায় আত্মহত্যা করেছেন। তবে তার মৃত্যুর রহস্য আজও ঘেঁটি ধরে দর্শকদের মাঝে।
-

চলন্ত মোটরসাইকেলে দাঁড়িয়ে সিনেমার প্রচার, গ্রেপ্তার অভিনেতা
ভারতের আহমেদাবাদের ব্যস্ত সড়কে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালানো ও স্টান্ট দেখানোর জন্য গুজরাটের অভিনেতা টিকু তালসানিয়া সহ আরও কয়েকজন অভিনেতা ও অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চালানো হয়েছে। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর সড়ক নিরাপত্তা লঙ্ঘনের উদ্দেশ্যে এই অভিনেতারা গুজরাটের বিখ্যাত সিনেমা ‘মিসরি’র প্রচারণার অংশ হিসেবে জনসমাগমপূর্ণ রাস্তার ওপর এই বিপদজনক স্টান্ট দেখাচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে আহমেদাবাদের সায়েন্স সিটি এলাকােপর এই অপ্রত্যাশিত ও বিপজ্জনক কাণ্ড ঘটে। ভিডিওতে দেখা যায়, অভিনেতা টিকু তালসানিয়া হেলমেট পরলেও চলন্ত মোটরসাইকেলে উঠে দাঁড়িয়ে স্টান্ট দেখাচ্ছেন এবং অন্য একজন খুব দ্রুত গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশেষ করে বেশ সমালোচনার জন্ম দেয়া ঘটনা ঘটে তখন, যখন অভিনেত্রী মানসী পারেখের একটি দৃশ্য সোশ্যাল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, তিনি চলন্ত বাইকের পেছনে দাঁড়িয়ে দুই বাহু প্রসারিত করে উল্লাস করেছেন, অথচ তার মাথায় কোনো হেলমেট ছিল না। এই বিপজ্জনক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার সাথে সাথেই ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
প্রায় এক সপ্তাহ পরে অর্থাৎ ৩১ অক্টোবর, এই ছবির মূল বিষয় ‘মিসরি’ সিনেমার মুক্তি হয়। কিন্তু এর আগেই, এই অভিনেতাদের গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাটি গুজরাটের চলচ্চিত্র মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার ফলে সিনেমার প্রচার ও দলের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
-

খুলনায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সাঁতার প্রতিযোগিতার সমাপনী এবং পুরস্কার বিতরণ
তারুণ্যের উৎসব উদযাপন উপলক্ষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন ক্রীড়া পরিদপ্তর আয়োজন করেছে বার্ষিক ক্রীড়া কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশেষ একটি সাঁতার প্রতিযোগিতা ও সমাপনী অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা ক্রীড়া অফিসার মোঃ আলিমুজ্জামান। গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সুইমিং পুল হলরুমে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তৌফিকুর রহমান, যিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। প্রায় ১৫০ জন ছাত্রছাত্রী বিভিন্ন স্কুল ও পার্শ্ববর্তী থানা থেকে অংশ নিয়ে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন খুলনার বিভিন্ন স্কুল থেকে আগত প্রাতিষ্ঠানিক ক্রীড়া শিক্ষকদের নেতৃত্বে তালিমপ্রাপ্ত ক্রীড়া শিক্ষিকা ও শিক্ষকের দল। এই আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উৎসাহ এবং উদ্দীপনা লক্ষ্যণীয় ছিল, যা শিশুরা তাদের সাহস ও কলাকৌশল প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রমাণ করেন।
-

বিশ্বকাপের জন্য আকাশে ফুটবল স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা সৌদি আরবের
সৌদি আরব আসন্ন ২০৩৪ বিশ্বকাপের জন্য এক অভিনব ও ভাবনার বাইরে যেখানে আর কখনো দেখা যায়নি, এমন একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা করছে। সামাজিক মাধ্যমে এই খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই তা দ্রুত আলোচনা ও ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। সেটি হলো, আকাশে নির্মাণ হবে একটি ভাস্বর ফুটবল স্টেডিয়াম, যার নাম ‘নিওম স্টেডিয়াম’। এই স্টেডিয়াম বিশ্ব ফুটবল মহাধুমধাম ছাড়াবে বলে আশা করছে অনেকে।
প্রকল্প অনুযায়ী, এই স্টেডিয়ামটি ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপের আয়োজনের অংশ হিসেবে নির্মাণ করা হবে, যেখানে ২০টি নতুন স্টেডিয়াম তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি, আরও চারটি পুরোনো স্টেডিয়ামকে আধুনিক যৌগিক ও প্রযুক্তিগত মান উন্নত করার কাজ চলবে।
ফিফার বিডে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘নিওম স্টেডিয়াম’ হবে বিশ্বের অন্যতম অনন্য ও চোখে পড়ার মতো একটি স্টেডিয়াম। এর মাঠ থাকবে ৩৫০ মিটার উচ্চতায় মাটি থেকে ওপরের দিকে, যেখানে ভবনটি শহরের নিজস্ব কাঠামো দিয়ে নির্মিত হবে। এতে দর্শকরা এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা পাবেন।
এই স্টেডিয়ামটি তৈরি হবে ‘দ্য লাইন’ নামে পরিচিত এক ভবিষ্যতনির্ভর স্মার্ট শহরের অংশ হিসেবে। ২০২১ সালে ঘোষণা করা এই প্রকল্পটি এক সরল রেখার মতো অবস্থিত, দৈর্ঘ্য ১৭০ কিলোমিটার, প্রস্থ ২০০ মিটার এবং সর্বোচ্চ উচ্চতা ৫০০ মিটার। এই শহরে গাড়ি থাকবে না, রাস্তা বা কার্বন নিঃসরণ সম্ভব হবে না। প্রায় ৯০ লাখ মানুষের বসবাসের পরিকল্পনা রয়েছে এই ‘দ্য লাইন’ নগরীতে। প্রকল্পের মূল কাঠামো এখন নির্মাণধীন, এবং পুরোপুরি বাস্তবায়নে সম্ভবত পুরোপুরি শেষ হবে ২০৪৫ সালে, অর্থাৎ বিশ্বকাপের ১১ বছর পরে।
প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী, ‘নিওম স্টেডিয়াম’ এ প্রত্যাশা করা হয়, দর্শকদের বসার জায়গা হবে ৪৬ হাজার। এই স্টেডিয়ামটি থাকবে ৩৫০ মিটার ওপরে, যা দর্শকদের এক অনন্য মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ দেবে। সৌদি আরবের অন্যান্য প্রস্তাবিত ভেন্যুগুলো হবে রিয়াদ, জেদ্দা, আল খোবার ও আভা শহরে, যেখানে প্রতিটি স্টেডিয়ামের নিজস্ব আলোকসজ্জা ও স্থাপত্যশৈলী থাকবে। কিছু স্টেডিয়ামে থাকবে রঙিন আলো, স্ফটিকের মতো নকশা বা স্থানীয় উপকরণ দিয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা।
ফিফা এবারের ২০৩৪ বিশ্বকাপের ঘোষণা ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর একটি বিশেষ কংগ্রেসে ঘোষণা করে, যেখানে সৌদি আরবকে স্বাগতিক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ফিফার শর্ত অনুযায়ী, কমপক্ষে চারটি স্টেডিয়ামে ধারণক্ষমতা ৪০ হাজারের বেশি দর্শক হতে হবে। অন্যান্য দেশের পক্ষ থেকে বিড না থাকায়, সৌদি আরব এককভাবে আয়োজক হওয়ার সুযোগ পায়।
ফিফা’র রোটেশন নীতি অনুসারে, এবার এই বিশ্বকাপ কেবল এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের জন্য উন্মুক্ত ছিল। স্বাগতিক নির্বাচনের জন্য মাত্র ২৫ দিনের মধ্যে প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়, যেখানে সৌদি আরবই একমাত্র আগ্রহ দেখায়। এই বিশ্বকাপ হবে ২১ শতকে এশিয়ায় তৃতীয় বড় আয়োজন হিসেবে, যেহেতু ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান এবং ২০২২ সালে কাতার স্বাগতিক ছিল।
২০২৬ সালে হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনের বিশ্বকাপ। তার পরের বছর, ২০৩০ সালে, স্পেন, পর্তুগাল, মরক্কো এবং দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে কিছু ম্যাচ আয়োজন করবে। এই ঘটনাগুলোর মধ্য দিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নত্বের দীর্ঘ ও ঐতিহাসিক পথ চলা অব্যাহত থাকবে।
সৌদি আরবের জন্য এখনো মোট বা অনেক সময় রয়েছে ভেন্যু নির্মাণ ও সংস্কার কাজ শেষ করার। তবে এরই মধ্যে তৎপরতা দেখা যাচ্ছে, কারণ আগামী ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে, যা শুরু হবে আগামী ১১ জুন। সেখানে হয়তো শেষবারের মতো দেখা যাবে ফুটবল মহাতারকাদের, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসিকেও।
-

বাংলাদেশের জন্য শেষ সুযোগ ধবলধোলাই এড়ানোর ম্যাচে
বাংলাদেশ এখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে, যা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজে সম্মান রক্ষা ও ধবলধোলাই এড়ানোর জন্য। প্রথম দুই ম্যাচে হেরে সিরিজটি হেরেছে টাইগাররা, ফলে আজকের ম্যাচটি তাদের জন্য এক ধরনের লজ্জা রক্ষার সন্ধান। এই ম্যাচে জয় ছাড়া বাংলাদেশ মনে করছে অনেক কিছুই হারানোর মতো। লিটন দাসের নেতৃত্বে বাংলাদেশি দলের সামনে এটি এক সুযোগ নিজেদের মর্যাদা ফিরে পাওয়ার এবং ঘুরে দাঁড়ানোর। ম্যাচের গুরুত্ব বুঝে বাংলাদশের অধিনায়ক স্বাগতিকরা টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে টসে হারায় বাংলাদেশ ব্যাট করতে পরে হয়েছে, ফলে রান তাড়ায় তাদের ব্যর্থতা দেখা গেছে। আজকের ম্যাচে তারা বড় সংগ্রহ গড়ার লক্ষ্য নিয়েছে, যাতে সিরিজের অবশিষ্ট মিসকমপ্লিশনগুলি সংস্কার করা যায়।
প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ দলে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে ভালো করতে পারেননি তাওহিদ হৃদয় ও শামীম হোসেন, তাই আজ তাদের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন নুরুল হাসান ও মেহেদী হাসান। এছাড়া মোস্তাফিজুর রহমান এবং তানজিম হাসানও আজ খেলছেন না; পরিবর্তে দলে স্থান পেয়েছেন শরীফুল ইসলাম ও পারভেজ হোসেন।
বাংলাদেশ একাদশ :
লিটন দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান, সাইফ হাসান, পারভেজ হোসেন ইমন, নুরুল হাসান সোহান, জাকের আলি, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, তাসকিন আহমেদ, শেখ মেহেদি, শরিফুল ইসলাম।অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সম্ভাব্য একাদশে রয়েছেন: আমির জাঙ্গু, আলিক আথানেজ, রোস্টন চেইস, জেসন হোল্ডার, আকিল হোসেন, ব্র্যান্ডন কিং, খ্যারি পিয়ের, রভম্যান পাওয়েল, আকিম অগাস্টে, গুড়াকেশ মোতি ও রোমারিও শেফার্ড।
এটি বাংলাদেশের জন্য এক শেষ সুযোগ, যাতে তারা নিজেদের মর্যাদা রক্ষা করতে পারে এবং সিরিজে সম্মানজনক এক ফলাফল নিশ্চিত করতে পারে।
-

বিপিএলে অংশ নেবে আগামীতে ১০ দল
এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই আসরে মোট কতটি দল অংশ নেবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যে বিপিএলে অংশগ্রহণের জন্য ১১টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আগ্রহ প্রকাশ হয়েছে। এই বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার বিপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যরা এক জরুরি বৈঠক করেছেন। বুলেটিনে প্রকাশিত একটি সংবাদ সম্মেলনে সদস্য সচিব শাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বিপিএলে ১০ দলের পক্ষে তারা। বর্তমানে গেলে ৫-৬ দল নিয়ে টুর্নামেন্ট হলেও, আগামী বছরগুলোতে এই সংখ্যা বাড়িয়ে সাত থেকে আটটি দল করা পরিকল্পনা রয়েছে। তার বিশ্বাস, এই বৃদ্ধি পাঁচ বছরের মধ্যে ১০ দলের একটি পূর্ণাঙ্গ প্ল.Stage হিসেবে গড়ে উঠবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ১০ দলের নাম ঠিক করেছি। যদি সব কিছু ঠিক থাকে, তাহলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আমাদের লক্ষ্য হলো এই লিগে দশটি দল সম্পূর্ণভাবে নিয়ে আসা। পরে সম্ভব হলে সাত থেকে আটটি দল হবে, তারপরে আরও বাড়বে। আমাদের সক্ষমতা ও পর্যাপ্ত খেলোয়াড়ের ওপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু ঢাকা নয়, দেশের অন্যান্য ভেন্যুও খুঁজে বের করা হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, দলগুলো বাড়লে ক্রিকেটারদের জন্যও সুফল হবে। ভবিষ্যতে ভেন্যুও আরও বাড়ানো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বর্তমানে আইপিএলে ১০টি দল থাকছে, তাই আমাদেরও পরিকল্পনা আছে একদিন যেন ওরকমই একটি ১০ দলের বিপিএল আয়োজন করা যায়। শাখাওয়াত হোসেন উল্লেখ করেন, ‘যদি রাজশাহী বা অন্য কোথাও একটি ম্যাচ হয়, তবে সেখানে সব দল থাকা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তাই দল সংখ্যা বাড়ানোর দিকে আমরা নজর দিচ্ছি। দল বাড়লে খেলোয়াড়দের জন্যও ভালো হবে। তবে মানের খেলোয়াড় থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা অবশ্য মাথায় রাখতে হবে। সব দিক মিলিয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করছি।’ তিনি শেষ পর্যন্ত বলেন, ‘আমরা ১০ দলের কাঠামো তৈরি করেছি এবং একদিন আইপিএলের মতো ১০ দলের লিগ চালানোর স্বপ্ন দেখছি।’
-

বাংলাদেশকে ধবলধোলাই করে সিরিজ জিতল ওয়েস্ট ইন্ডিজ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ হেরে বাংলাদেশের জন্য সিরিজ হার নিশ্চিত হয়ে ছিল। তাই তৃতীয় ম্যাচটি ছিল এক প্রকারের মানসিক লড়াই। তবে এই পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের দল ব্যর্থতা көрсৎ দিয়েছে। ব্যাটিং এবং বোলিং উভয় ক্ষেত্রেই তারা নূন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করে সিরিজে ধবলধোলাই করে। চট্টগ্রামের মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে অলআউটের আগে ১৫১ রান সংগ্রহ করে লাল-সবুজের দল। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা রোস্টন চেজ ও আকিম অগাস্টের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ১৯ বল হাতে রেখেই জয়ের স্বাদ নেয়।
বাংলাদেশের দেওয়া ১৫২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। দলীয় ৬ রানে আউট হন আলিক আথানেজ, যিনি শেখ মেহেদির বলের শিকার হন। এরপর দলের ৩৭ রানে আউট হন ব্র্যান্ডন কিং, যার ব্যাট থেকে আসে ৮ রান। আরেক ওপেনার আমির জাঙ্গুও ২৩ বলে ৩৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তবে এর মাঝে দ্রুতই জয়তালিকার কাছে পৌঁছে যায় ক্যারিবীয়রা। চতুর্থ উইকেটে চেজ ও অগাস্টে ৪৬ বলে ৯১ রানের ঝঞ্ঝাবূল জুটি গড়ে, দুজনেই ফিফটি করেন। চেজ ২৯ বলে ৫০ ও অগাস্টে ২৫ বলে ৫০ রান করে বিদায় নেন। এই জুটি ভাঙার পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৯ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের সহজ জয় লাভ করে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে জিতেছে।
ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ শুরু থেকেই দুর্দান্ত ব্যর্থতা দেখায়। শেষ পাঁচ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে মোট ৪২ রান করতে সক্ষম হয়। বিশেষ করে, ওয়েস্ট ইন্ডিজেরর দুই নম্বর বোলার রোমারিও শেফার্ড টি-টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিক করেন, যা এ সিরিজের অন্যতম মূল আকর্ষণ।
তানজিদ হোসেন একাই দলের জোড়ালো লড়াই চালিয়ে যান। দুটি জীবন পাওয়া এই ওপেনার ১১টি চার ও ৪টি ছক্কা সহ ৮৯ রান করে। ফলে মূলত একা লড়াই করে বাংলাদেশকে কিছুটা সম্মানজনক সংগ্রহ এনে দেন। তার সাথে সাইফ হাসানও দুটি অঙ্কের ভিতর পৌঁছে ২৩ রান করেন।
ইনিংসের শুরুতে আগ্রাসী চার্লেঞ্জ দেখালেও খুব বেশিদূর যেতে পারেননি উদ্বোধনী জুটি। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলেই সহজ ক্যাচ দিয়ে আউট হন পারভেজ হোসেন ইমন ও লিটন দাস। এবারের টুর্ণামেন্টে আগে ব্যাট করা টাইগাররা শেষ ৫ ওভারে ৪২ রান সংগ্রহের মাধ্যমে শক্তির অভাব প্রকাশ করে।
দলের অন্যান্য ব্যাটারদের মধ্যে, রাইলি রোস্টন চেজ ও অগাস্টে দ্রুত লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সাইফ হাসান প্রথম স্তরেই আউট হলেও, দলে প্রাণচাঞ্চল্য জোগান দেওয়ার জন্য তানজিদ দ্রুত ফিফটি পূর্ণ করেন। এরপর জ্যাক আলী, নাসুম আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম দ্রুত ফিরে যান। তবে শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১১ রান, যেখানে শেফার্ডের প্রথম ডেলিভারিতে তানজিদ ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন। এরপর শরিফুল ইসলামকেও বোল্ড করে হ্যাটট্রিক সার্থক করেন শেফার্ড, যারা ছিল ম্যাচের মূল নায়ক।
-

তানজানিয়ায় নির্বাচনী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৭০০, বিরোধী দলের দাবি
তানজানিয়ায় recent ইতিবাচক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিন দিনের ব্যাপক বিক্ষোভের ঘটনায় প্রায় ৭০০ জন নিহতের অভিযোগ উঠেছে দেশটির প্রধান বিরোধী দল চাদেমা থেকে। শুক্রবার, দারুস সালামের কেন্দ্রস্থল থেকে দলের মুখপাত্র জন কিটোকা এই তথ্য পেশ করেন। তিনি জানান, নিহতের সংখ্যার মধ্যে দারুস সালামে ৩৫০ জন, মওয়ানজায় ২০০ এর বেশি এবং দেশের অন্যান্য অংশে এই সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা প্রায় ৭০০। এ তথ্য শোনা গেছে একটি নিরাপত্তা সূত্র থেকেও, যা এএফপিকে নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এই খবর ছড়িয়ে পড়েছে তানজানিয়া সেনাবাহিনীর মধ্যেও। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তারা অন্তত ১০০ জন নিহতের সুস্পষ্ট তথ্য পেয়েছে। মুখপাত্র জন কিটোকা বলেন, চাদেমার পক্ষ থেকে এই মৃত্যুর সংখ্যা একটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে তারা বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে গিয়ে মরদেহ গণনা করেছে। তবে, বেশ কিছু হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কথা বলতে রাজি হয়নি। কিটোকা একান্তে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করুন, পুলিশি নির্যাতন বন্ধ করুন এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখান—এটাই ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি। তিনি আরও বলেন, প্রকৃতপক্ষে, এ মুহূর্তে কোনো নির্বাচন হয়নি। তাই আমাদের একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দরকার, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন বাস্তবায়ন করবে।
