Author: bangladiganta

  • চলমান অপচেষ্টা নতুন বাংলাদেশের যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা

    চলমান অপচেষ্টা নতুন বাংলাদেশের যাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে: প্রধান উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, চলমান অপচেষ্টা নতুন বাংলাদেশের যাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    বুধবার (৪ ডিসেম্বর) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    ড. ইউনূস বলেন, এখন গোটা বিশ্বকে জানাতে হবে যে আমরা এক। আমরা যা পেয়েছি তা একসাথে অর্জন করেছি। যারা আমাদের বুকে চেপে ধরেছিল তাদের আমরা বের করে দিয়েছি। আমরা নিজেদের মুক্ত করেছি। আমাদের একসঙ্গে বিশ্বের সামনে এটা দেখানো উচিত।

    এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ চেয়ে প্রফেসর ইউনূস বলেন, এ বিষয়ে এগিয়ে যেতে গিয়ে যেন কোনো ভুল না হয়। আসুন একসঙ্গে কাজ করি। আমরা সবাই মিলে এটা করতে পারলে একটা সম্মিলিত শক্তি তৈরি হবে।

    তিনি বলেন, ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নিপীড়নের চরম ঐতিহাসিক পাথর উপড়ে ফেলা হয়েছে কিন্তু ‘আমাদের স্বাধীনতা’ অনেকে পছন্দ করেনি। তাই ৫ আগস্টের পর তারা তা উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

    তিনি বলেন, যখন দুর্গাপূজা এগিয়ে আসছিল, তখন মনে হচ্ছিল যে এটি নিয়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে এবং সে কারণেই সরকার ঐক্যের ডাক দিয়েছিল এবং সবাই সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল। সারা দেশে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপিত হয়েছে এবং সকলেই পূজার আনন্দে অংশ নিয়েছেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা নেই, তবে অনেকে এটি পছন্দ করেন না। সেই মহল নতুনভাবে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন বাংলাদেশে আমরা যা গড়ার চেষ্টা করছি, সেসব নিয়ে সৃষ্টি করছে কাল্পনিক কাহিনী।

    তিনি বলেন, সব সময় তারা এটাকে বিভিন্ন রূপ দিচ্ছে। এটা শুধু একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষ করে বড় বড় দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। যারা আমাদের মহান বিপ্লব পছন্দ করে না, তারা এটা মুছে ফেলতে চায় এবং লুকাতে চায়।

    তিনি বলেন, একটি মহল ন্যারেটিভ তৈরি করছে যে, বাংলাদেশে একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে এবং এটি থেকে দেশকে রক্ষা করা উচিত। একে মিথ্যা প্রমাণ করে বাস্তবতা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক দলসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এটি রাজনৈতিক মতাদর্শের বিষয় নয় বরং জাতি হিসেবে আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা বিপ্লবের মাধ্যমে মুক্ত ও স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছি, কিন্তু তারা (স্বার্থান্বেষী মহল) তা মুছে ফেলতে চায়। তারা আগের সরকারে ফিরে যেতে চায়। তারা মৌখিকভাবে বলেন না, কিন্তু তাদের মনোভাব হচ্ছে ‘ক্ষমতাচ্যুত শাসকগোষ্ঠী ভালো ছিল’।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাস্তবতা দেখতে বারবার বাংলাদেশ সফরের আহ্বান জানানো সত্ত্বেও তারা (স্বার্থান্বেষী মহল) কাল্পনিক গল্প তৈরি করছে।

  • কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার

    কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাবেক এসপি বাবুল আক্তার

    স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় জামিনের পর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার।

    তিন বছর ৭ মাস পর বুধবার (৪ ডিসেম্বর) কারামুক্ত হলেন তিনি। গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. ইব্রাহিম।

    তিনি বলেন, বাবুল আক্তারের জামিনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিকেলে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে গত ২৭ নভেম্বর বাবুল আক্তারকে জামিন দেন হাইকোর্ট। বুধবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত হাইকোর্টের জামিন বহাল রেখে আদেশ দেন।

    ২০১৬ সালের ৫ জুন নগরীর জিইসি এলাকায় ছেলেকে স্কুলের বাসে তুলে দিতে গিয়ে নৃশংসভাবে খুন হন বাবুলের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরের পাঁচলাইশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্তে বাবুল আক্তার সেই মামলায় আসামি হন।

  • রমেন রায়ের ওপর হামলার ঘটনাটি পুরোনো, তিনি চিন্ময়ের আইনজীবী নন

    রমেন রায়ের ওপর হামলার ঘটনাটি পুরোনো, তিনি চিন্ময়ের আইনজীবী নন

    ইসকনের সাবেক নেতা ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানি ছিল গতকাল মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর)। এ শুনানির আগের রাতে (২ ডিসেম্বর) একাধিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের হয়ে লড়াই করায় হামলার শিকার হয়েছেন আইনজীবী রমেন রায়। তাঁর বাড়িঘরে হামলা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে এসব প্রতিবেদনে।

    তবে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্ট ওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা যায়- 
    ১। অ্যাডভোকেট রমেন রায়ের আহত হওয়ার ঘটনাটি গত ২৫ নভেম্বরের  
    ২। তাঁর বাড়িঘরে হামলার দাবিটিও সত্য নয়। 
    ৩। তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী নন। 
    তাই ফ্যাক্টওয়াচ দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করছে।

    দাবিটি নিয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি নিউজ, এবিপি লাইভ, দ্য ওয়াল, হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলাসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, গত মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের হয়ে আদালতে লড়েছেন রমেন রায়। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) আবারও আদালতে আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তাঁর আগেই রমেন রায়ের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে এবং তাঁকে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনগুলোতে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ইসকন কলকাতার মুখপাত্র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাসের গত মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাতে করা একটি টুইটকে। টুইটটিতেও দাবি করা হয়েছে, আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণের হয়ে মামলা লড়ার কারণে ইসলামপন্থীরা রমেন রায়ের বাড়ি ভাংচুর করে এবং তাকে নৃশংসভাবে আক্রমণ করে।

    দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী রমেন রায়ের ওপর হামলার দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সঠিক নয়। এই নামে চট্টগ্রামে কোনো আইনজীবী নেই।’’ চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির তালিকা খুঁজেও এমন কোনো আইনজীবীর নাম পাওয়া যায়নি।

    ফ্যাক্টওয়াচের হাতে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের ওকালত নামা থেকে দেখা যায়, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী হিসেবে তাঁর মামলাটি লড়ছেন শুভাশিস শর্মা।

    দাবিটি সম্পর্কে জানতে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের প্রতিনিধি স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস বলেন, “রমেন রায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী ছিলেন না। চিন্ময় কৃষ্ণ যেদিন গ্রেপ্তার হয়েছিল (২৫ নভেম্বর), সেদিন সন্ধ্যায় শাহবাগে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচীতে রমেন রায়কে দূর্বৃত্তরা কুপিয়ে আহত করেছিল।”

    রমেন রায়ের সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবিটিও তাঁকে দেখানো হয়। ছবিটি দেখে স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস নিশ্চিত করেন, এটি রমেন রায়েরই ছবি।

    এ ছাড়া সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদনের শুনানিতে চিন্ময়ের কোনো আইনজীবী না থাকা নিয়ে একটি বিবৃতি দেয়। বিবৃতিটিতেও জামিন শুনানি ঘিরে রমেন রায় নামে কোনো আইনজীবীর ওপর হামলার বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়নি। স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাসের সূত্র ধরে কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানে দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমে গত ২৫ নভেম্বর রমেন রায় নামে এক ব্যক্তি আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।

    রমেন রায়ের আহত হওয়ার ব্যাপারে গত ২৫ নভেম্বরে একটি নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শাহবাগে চলা অবস্থান কর্মসূচিতে হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় রমেন রায় (৫০) নামে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার (২৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    আহত রমেন রায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আমরা শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলাম। পরে হঠাৎ বেশ কয়েকজন লোক লাঠি হাতে নিয়ে এসে আমাদের ওপরে হামলা চালায়। এ সময় আমি মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হই। পরে কয়েকজন আমাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এসেছে।

    পরে এই নামে খুঁজে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে রামেন্দ্রনাথ রায় নামে এক আইনজীবীর নাম পাওয়া যায়। এসব তথ্যের সূত্রে রমেন রায়ের এক নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্যাক্টওয়াচ। তিনি জানান, রমেন রায় পেশায় একজন আইনজীবী ও অ্যাডভোকেট। তিনি গত ২৫ নভেম্বর ঢাকায় হামলার শিকার হন এবং আহত হন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। তিনি আরও জানান,  রমেন রায়ের বাড়ীঘরে হামলার দাবিটিও সঠিক নয়।

    সার্বিক বিবেচনায় ফ্যাক্টওয়াচ দাবিগুলোকে মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করছে।

  • ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব

    ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব

    বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য নিজেদের পররাষ্ট্র সচিবকে ঢাকায় পাঠাচ্ছে ভারত।

    আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় আসার কথা রয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরির।

    বুধবার (৪ ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরি আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গত আগস্টে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিনিয়র কোনও ভারতীয় কর্মকর্তার ঢাকায় এটিই প্রথম সফর হতে চলেছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

    হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, উভয় দেশের কেউই এখনও এই সফরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা দেয়নি। তবে বিক্রম মিসরি সম্ভবত আগামী ১০ ডিসেম্বর পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্ষিক আলোচনার জন্য বাংলাদেশে আসবেন। উভয় দেশের রাজধানীতে তথা ঢাকা ও দিল্লিতে বিক্রমের সফরের প্রস্তুতির বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে একথা জানিয়েছেন।

    ভারতীয় এই সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিসরির এই সফরটি এমন এক সময়ে হতে চলেছে যখন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কে অভূতপূর্ব উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

    হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর কথিত নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তারের অভিযোগে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কয়েকটি ভারতীয় রাজ্যে বিক্ষোভ হচ্ছে।

    এছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হামলা-ভাঙচুর এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননার দায়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার ভারতীয় রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মাকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানায়।

    এর আগে উভয় দেশের দুই পররাষ্ট্র সচিবের মধ্যে সর্বশেষ সংলাপ ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবারের সংলাপে ভারত-অর্থায়নকৃত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো পুনরায় চালু করা, ভিসা ব্যবস্থা সহজ করা, আরও সরাসরি ফ্লাইট চালু করা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মতো ইস্যু অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত লোকেরা জানিয়েছে।

    ভারতের দ্বিতীয় একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বাংলাদেশ এই সফরটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য আগ্রহী। কারণ ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সম্ভাব্য এই সফরকে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ শুরুর একটি সুযোগ হিসাবে দেখা হচ্ছে। সফর ঠিকঠাকভাবে অনুষ্ঠিত হলে মিসরি ও ড. ইউনূসের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

  • মাহমুদুর রহমান নামে দাফন করা লাশটি বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর

    মাহমুদুর রহমান নামে দাফন করা লাশটি বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর

    সাভারে ২০২১ সালে মাহমুদুর রহমান নামে দাফন করা মরদেহটি বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর। তার সঙ্গে মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরীর ডিএনএ মিলেছে। এমন প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর হারিছ চৌধুরীকে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী স্থানে দাফন করার অনুমতি দিয়েছেন হাইকোর্ট।

    বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ-সংক্রান্ত আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহদীন চৌধুরী।

    এর আগে হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরীর করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন।

    সাভারের একটি মাদ্রাসার কবরে ‘মাহমুদুর রহমান’ নামে সমাহিত হারিছ চৌধুরীর লাশ তুলে ডিএনএ পরীক্ষা করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। হারিছ চৌধুরীর প্রকৃত পরিচয় শনাক্তে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিচালককে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

    নির্দেশ অনুসারে, সাভারে ২০২১ সালে ‘মাহমুদুর রহমান’ নামে দাফন করা লাশটি গত ১৬ অক্টোবর কবর থেকে তোলা হয়। লাশটি উত্তোলন করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা। হারিছ চৌধুরীর পরিচয় নিশ্চিত হতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে ইতিবাচক ফল আসে, যার মধ্য দিয়ে হারিছ চৌধুরীর প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হয়।

    রিট আবেদনে প্রার্থনা ছিল, সাভারের মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে হারিছ চৌধুরীর অবশিষ্ট (মরদেহের) যা আছে, তা তুলে ডিএনএ পরীক্ষা করে তার প্রকৃত পরিচয় নির্ধারণ। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রাপ্য সম্মানসহ নিজ বাড়িতে দাফন করা।

    আইনজীবী মাহদীন চৌধুরী বলেন, হারিছ চৌধুরীর মেয়ের সঙ্গে ডিএনএ মিলেছে। অর্থাৎ, মাহমুদুর রহমান নামে দাফন করা ব্যক্তিই হারিছ চৌধুরী। লাশ এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে যথাযথ সম্মান দিয়ে তাকে পরিবারের ইচ্ছা অনুযায়ী দাফন করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।

    হারিছ চৌধুরী বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ছিলেন।

    রিট আবেদনকারীর আইনজীবীর ভাষ্য, তৎকালীন সরকারের রোষানল থেকে বাঁচার জন্য হারিছ চৌধুরী আত্মগোপনে ছিলেন। পরবর্তী সময়ে মাহমুদুর রহমান পরিচয়ে ঢাকা শহরেই ছিলেন তিনি। আমৃত্যু ঢাকা শহরেই ছিলেন। ২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান। কিন্তু তৎকালীন সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাপে তার মৃত্যুর বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে জোরপূর্বক ঢাকার অদূরে সাভারের একটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তাকে কবর দিতে বাধ্য করা হয়। সরকার সে সময় তার প্রকৃত পরিচয় অনুযায়ী কোনো মৃত্যুসনদ দেয়নি। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার প্রাপ্য সম্মান দেয়নি।

  • কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা

    কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা

    বর্তমানে বাংলাদেশ কঠিন সময় পার করছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাই, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে আহ্বান জানান তিনি।

    বুধবার (৪ ডিসেম্বর) ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ কমপ্লেক্সে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ২০২৪ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স ২০২৪-এর কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানে সার্টিফিকেট প্রদান শেষে এ আহ্বান জানান তিনি।

    ড. ইউনূস বলেন, বৈশ্বিক ও কৌশলগতভাবে এখন কঠিন সময় যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    এ সময় প্রধান উপদেষ্টা সফলতার সঙ্গে কোর্স সম্পন্ন করার জন্য ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ২০২৪ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স ২০২৪-এ অংশগ্রহণকারী সবাইকে অভিনন্দন জানান। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এনডিসির উচ্চমান সম্পন্ন পাঠ্যক্রমে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত থাকায় প্রধান উপদেষ্টা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।

    এ বছর ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স ২০২৪-এ ৯৫ জন কোর্স মেম্বার অংশগ্রহণ করেন, যার মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ৪৬, বেসামরিক প্রশাসনের ১৬ এবং ১৮টি বন্ধুপ্রতীম দেশের ৩৩ সদস্য।

    অপরদিকে বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী থেকে ৫৫ কোর্স মেম্বার আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স ২০২৪ সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেন।

  • দেশে বড় সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা, সীমান্তে সতর্ক বিজিবি

    দেশে বড় সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা, সীমান্তে সতর্ক বিজিবি

    ইসকন নেতা চিন্ময় দাসের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে দেশের চলমান পরিস্থিতি অবনতি ঘটাতে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার বিষয় মাথায় রেখে ঢাকাসহ সারাদেশে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এদিকে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কিংবা অপতৎপরতা রোধে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করে বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলা ভ্রমণে তাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলেছে।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সূত্রগুলো বলেছে, পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে হত্যার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। চোরাগোপ্তা হামলার আশঙ্কাও রয়েছে। হামলায় ব্যবহৃত হতে পারে, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রসহ সন্ত্রাসীদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র। সেই সঙ্গে বোমা হামলার আশঙ্কাও রয়েছে। এ অবস্থায় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে এক খুদে বার্তায় বিজিবি সদর দপ্তর সূত্র জানায়, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কিংবা অপতৎপরতা রোধে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এতে বলা হয়, ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা থেকে আখাউড়ামুখী লং মার্চ কর্মসূচি ঘিরে সীমান্তে উত্তেজনা থাকায় আখাউড়া সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

    পুলিশ সদর দপ্তরের (এআইজি মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর বলেন, চলমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ নূরে আলম জানান, ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের ভেতরে বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনার পর ঢাকার গুলশান এলাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেন, সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যায়। অবশ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে তৃতীয় পক্ষও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে পারে।

    পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সারাদেশে ইসকনের মন্দিরগুলোতে নজরদারি চলছে। কারা এতে অর্থায়ন করছে তার একটি তালিকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা এরই মধ্যে সেই তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। একই সঙ্গে বাইরে থেকে কোনো অর্থায়ন হয় কি না তারও অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

  • পশ্চিমবঙ্গের ৮ জেলায় বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ালো ভারত

    পশ্চিমবঙ্গের ৮ জেলায় বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়ালো ভারত

    পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গ এলাকার আট জেলার বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে ভারত। বিএসএফ বলছে, উত্তরবঙ্গের আট জেলার বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারবিহীন এলাকায় কাঁটাতার লাগানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) উত্তরবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের আইজি সূর্যকান্ত শর্মা সোমবার শিলিগুড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

    এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের ডিআইজি (জেনারেল) কুলদীপ সিং, ডিআইজি (অপারেশন) সঞ্জয় শর্মা, ডিআইজি (পিএসও) সঞ্জয় পন্থ প্রমুখ।

    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উত্তরবঙ্গের ৮ জেলায় রয়েছে ১ হাজার ৯৩৭ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত।

    সেই সীমান্তের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। থার্মাল ক্যামেরা, নাইটভিশন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি চালানো হচ্ছে। সীমান্তের ভারতীয় অংশের চেকপোস্টে বসানো হচ্ছে বায়োমেট্রিক লক।

    সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সীমান্তে বেড়া দিতে জমি অধিগ্রহণে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সহযোগিতা পাওয়া গেছে।

    উত্তরবঙ্গের ৮ জেলার বাংলাদেশ সীমান্তের ১০ শতাংশ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। ২০২৩ সালে উত্তরবঙ্গের ৮ জেলার সীমান্তে মোট ১২৭ বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    আর চলতি বছর ১৯৪ জন বাংলাদেশি ও ১৯৭ জন ভারতীয় গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ছাড়া তিন রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার হয়েছেন।

  • উত্তপ্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতি, পদত্যাগের ঘোষণা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

    উত্তপ্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাজনীতি, পদত্যাগের ঘোষণা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

    বিরোধীদের ‘দমন করতে’ আকস্মিক সামরিক আইন জারির ঘটনায় উত্তপ্ত দক্ষিণ কোরিয়া। এরই মাঝে দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউন পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন।

    গতকাল মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল হঠাৎ করেই ‘উত্তর কোরিয়াপন্থীদের’ হুমকির কথা উল্লেখ করে সামরিক আইন জারি করেন। পার্লামেন্টে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড’র অভিযোগ তোলেন।

    মঙ্গলবার আকস্মিক সামরিক আইন জারি করেন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল। ছবি: সংগৃহীত

    প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এশিয়ার গণতান্ত্রিক এ দেশটিতে আকস্মিক সামরিক আইন জারির ঘোষণায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েন নাগরিকরা। দ্রুতই এটা পরিষ্কার হয়ে ওঠে বাইরের কোনো হুমকিতে নয়, বরং বিরোধী দলকে ‘দমন করতে’ এ সিদ্ধান্ত নেন ইউন সুক।

    ঘটনার প্রতিবাদে পার্লামেন্টের বাইরে গতকাল রাতেই সমবেত হন হাজার হাজার মানুষ। একই সময় প্রেসিডেন্টের ওই পদক্ষেপ জরুরি এক ভোটাভুটির মাধ্যমে আটকে দিতে পার্লামেন্টে ছুটে যান আইনপ্রণেতারা।

    পরে সর্বসম্মতিক্রমে ভোটে হেরে যান প্রেসিডেন্ট ইউন। এর কয়েক ঘণ্টা পর তিনি আবার হাজির হন। রায় মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে ঘোষণা দেন সামরিক আইন প্রত্যাহারের। এমন প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট নিজের দল থেকেই বহিষ্কারের শিকার হতে পারেন।

    এমন উত্তপ্ত পতিস্থিতিতে আজ বুধবার গণমাধ্যমে শেয়ার করা এক বার্তায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউন জানান, জরুরি সামরিক আইনের কারণে সৃষ্ট অস্থিরতার জন্য তিনি নিজেকে দায়ী মনে করছেন।

    তিনি জনগণের মাঝে ‘বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ সৃষ্টির জন্য’ ক্ষমা চেয়েছেন। কিম বলেন, আমি সামরিক আইন সংক্রান্ত সব ঘটনার দায়িত্ব নিচ্ছি এবং প্রেসিডেন্টের কাছে আমার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।

  • ন্যাটোতে ইউক্রেনের সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন জোটের মহাসচিব

    ন্যাটোতে ইউক্রেনের সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন জোটের মহাসচিব

    সামরিক জোটে ন্যাটোতে ইউক্রেনের সম্ভাব্য সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন জোটের মহাসচিব মার্ক রুট। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইউক্রেনের সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত রাশিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যতে যে কোনো শান্তি আলোচনায় আরও অস্ত্র পাঠিয়ে দেশটির হাতকে শক্তিশালী করা।

    তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যে কোনো মূল্যে ন্যাটোর সদস্য হতে চাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, কিয়েভের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলোতে জোটের সদস্যপদ সম্প্রসারণই ইউক্রেনে তিন বছরের যুদ্ধের ‘উত্তপ্ত পর্যায়ের’ অবসান ঘটাতে পারে।

    ন্যাটো মহাসচিব বলেন, ফ্রন্ট পূর্ব দিকে এগোচ্ছে না। এটি ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

    মার্ক রুট বলেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, ইউক্রেন শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। শান্তি আলোচনা শুরু করার ক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় সরকারকে পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কীভাবে তা পরিচালনা করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

    জুলাইয়ে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশের নেতারা জোর দিয়ে বলেন, ইউক্রেন সদস্যপদ পাওয়ার পথে রয়েছে।

    কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কেউ কেউ যুদ্ধ চলাকালীন এবং দেশের সীমানা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত হওয়ার আগে ইউক্রেনকে জোটে নেওয়ার বিষয়ে পিছপা হয়েছে। ইউক্রেনে যোগ দিতে হলে ৩২টি দেশকে সর্বসম্মতিক্রমে একমত হতে হবে।

    ৩০ বছর আগে হাঙ্গেরির রাজধানীতে সই করা একটি চুক্তির আওতায় রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তার বিনিময়ে সোভিয়েত আমলের পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগ করতে রাজি হয়েছিল ইউক্রেন। সেই সময়ের হিসেবে যা ছিল বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রের সমান।

    ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি দৃঢ় বিবৃতি জারি করে বুদাপেস্ট চুক্তিকে ‘কৌশলগত নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত গ্রহণে অদূরদর্শিতার স্মারক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, আমরা নিশ্চিত যে ইউক্রেনের নিরাপত্তার একমাত্র আসল গ্যারান্টি এবং রাশিয়ান আগ্রাসনের প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো ন্যাটোতে ইউক্রেনের পূর্ণ সদস্যপদ।

    ব্রাসেলসে ন্যাটোর সদর দপ্তরে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সাংবাদিকদের বুদাপেস্টের নথির একটি কপি দেখান। তিনি বলেন, এই নথি- এই কাগজ ইউক্রেনীয় নিরাপত্তা এবং ট্রান্সআটলান্টিক নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই এ ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকতে হবে।

    ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার বলেছেন, ইউক্রেনের মিত্রদের অবশ্যই যতক্ষণ সময় লাগে ততক্ষণ তাদের আত্মরক্ষার জন্য যা করা দরকার তা করতে হবে। আবার যুদ্ধটি আলোচনা এবং সম্ভাব্য সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হবে বলেও আশা করেন তিনি।