Author: bangladiganta

  • দেশে মাছের উৎপাদন বাড়ায় মৎস্যজীবী ও চাষিদের আয় বৃদ্ধি

    দেশে মাছের উৎপাদন বাড়ায় মৎস্যজীবী ও চাষিদের আয় বৃদ্ধি

    অভয়াশ্রম গড়ে তুলি, দেশি মাছে দেশ ভরি’ এই প্রতিপাদ্যকে ধারন করে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে সোমবার সকালে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ হুসাইন শওকত। তার ভাষণে তিনি বলেন, মাছ আমাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে মৎস্যজীবী ও মৎস্যচাষীদের আয় বেড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে অনেক পোড়া ও পতিত জমি এখন মাছ চাষের উপযোগী হয়ে উঠেছে, এগুলিকে ব্যবহার করে মাছের উৎপাদন আরো বাড়ানো সম্ভব। এতে দেশের মাছের চাহিদা পূরণ হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মৎস্যখাত দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলছে এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিকল্পিতভাবে মাছ চাষ করলে কম জায়গায় বেশি উৎপাদন সম্ভব। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের বিভাগের পরিচালক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান। এ ছাড়া বক্তৃতা করেন খুলনা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, চিংড়ি চাষি মোঃ আবু হাসান সরদারসহ অন্যান্যরা। অনুষ্ঠানে সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, মৎস্যচাষি, মৎস্যজীবী, মাছ রপ্তানি প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। খুলনা জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর যৌথভাবে এই আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে জেলার ছয়জন সফল মৎস্যচাষি, উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এর আগে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শহিদ হাদিস পার্কের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন। শোভাযাত্রাটি শহিদ হাদিস পার্ক থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এই উৎসবের মাধ্যমে মৎস্যক্ষেত্রে উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে, যা দেশের মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পথে এক গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।

  • শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও সফট স্কিল বিকাশে গুরুত্ব নিবন্ধন: ইউজিসি

    শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও সফট স্কিল বিকাশে গুরুত্ব নিবন্ধন: ইউজিসি

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের বিভিন্ন বর্ষের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মোট ৪৭৫ জন শিক্ষার্থীকে সম্প্রতি মেধাবৃত্তির মাধ্যমে স্বীকৃতি জানানো হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন-ইউজিসির সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব, অন্যদিকে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক, সনদপত্র এবং শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন অতিথিরা।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষের জন্য মেধাবৃত্তি ও তার স্বীকৃতি—সনদপত্র প্রদান—একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি শুধু তাদের মেধার স্বীকৃতি নয়, বরং পরিশ্রম, সততা ও আত্মনিবেদনেরও পরিচয়। তিনি এও উল্লেখ করেন যে, মেধাবী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের পাশাপাশি, তাদের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদেরও উৎসাহিত করতে হবে যাতে তারা ভবিষ্যতে সফলতা অর্জন করতে পারে।

    অতিরিক্তভাবে তিনি 강조 করেন যে, শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক চর্চায় মনোযোগ দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং কমিউনিকেশন দক্ষতা, কম্পিউটার জ্ঞান ও সফট স্কিলেও পারদর্শী হতে হবে। সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্কুল ও কয়েকটি কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেকে আধুনিক ও প্রস্তুত করে তোলার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন ও মাদক থেকে দূরে থাকাও জরুরি। জীবনে হতাশা এলে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়া এবং নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য স্থির করে সে অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

    অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তৃতায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বলেন, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতিই হলো এই সনদপত্র। এটি ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের সিভি সমৃদ্ধ ও গুণগত মান বজায় রাখতে সহায়ক। তিনি আরও বলেন, সিভিতে শুধু একাডেমিক তথ্য নয়, বিভিন্ন প্রজেক্ট, থিসিস, কর্মশালা, সেমিনার ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের তথ্যও যোগ করতে হবে।

    বৃত্তি নীতিমালার বিষয়ে আলোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা একটি অপ্রত্যাশিত রীতি—যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বৃত্তির জন্য যোগ্য নয়। এটা একটিভির অমূলক উল্লেখ করে, তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী পূর্বের অর্জনের পাশাপাশি নতুন করে যোগ্যতা প্রমাণ করলে বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। এ বিষয়ে সরকারের নীতিমালা সংশোধনের প্রয়োজন আছে।

    বিশেষ অতিথির ভাষণে জীববিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম হোসেন ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাত উপস্থিত ছিলেন। স্বাগত বক্তব্য দেন বৃত্তি কমিটির সভাপতি ও কলা ও মানবিক বিভাগের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ শাহজাহান কবীর।

    শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনুভূতি ব্যক্ত করেন ইংরেজি বিভাগের এস এম রেদোয়ান, শিক্ষা বিভাগের নাবিলা ইসলাম এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের রাধিকা চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুমাইয়া আক্তার ও খান মোহাম্মদ মুশফিক আকিব। একই সঙ্গে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের প্রধান, প্রভোস্ট, বিভাগীয় পরিচালক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন, এ উদ্যেশ্য মূলক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

  • ভোমরা বন্দর থেকে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরুতেই দাম কমতে শুরু করেছেঃ বাজারে শঙ্কা কেটে গেছে

    ভোমরা বন্দর থেকে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরুতেই দাম কমতে শুরু করেছেঃ বাজারে শঙ্কা কেটে গেছে

    সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজের প্রথম বিতরণ শুরু হতেই বাজারে তার প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হতে শুরু করেছে। সোমবারের সকালে শহরের বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমে গেছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড়বাজারের পাইকারি বাজারে দেশের পেঁয়াজের দামমানের পরিবর্তন হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি হলে আগামী দিনগুলোতে দেশীয় পেঁয়াজের দাম আরও কমে যাবে।

    ভোমরা কাস্টমসের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর রোববার প্রথমবারের মতো ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে সাতটি ট্রাকের মাধ্যমে ২০২ মেট্রিক টন পণ্য ভোমরা বন্দরে প্রবেশ করে। এরপর সোমবার আরও ২৫ ট্রাকের মাধ্যমে মোট ৭৫০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়। দুই দিন মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৩২ ট্রাকের মাধ্যমে ৯৫০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বাংলাদেশের বাজারে এসেছে।

    বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ার কারণে দাম কমতে শুরু করেছে। সাতক্ষীরার বড়বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ বলেন, “ভারতীয় পেঁয়াজের প্রবেশের ফলে দেশীয় পেঁয়াজের দাম এখন কেজিতে তিন থেকে পাঁচ টাকা কমে গেছে। আশা করছি, আরও বাড়তি সরবরাহের ফলে দাম আরও নেমে আসবে।” তিনি আরও জানান, এখন দেশি পেঁয়াজের পাইকারি মূল্য ৬৫ থেকে ৬৭ টাকা কেজি, যা খুব শীঘ্রই কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    এদিকে ভোমরা সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর এই প্রথম রোববার সন্ধ্যার দিকে দেশের বিভিন্ন বন্দরে ভারতীয় পেঁয়াজের ট্রাক প্রবেশ শুরু হয়। সোমবারের মধ্যে আরও ২৫ ট্রাকের মাধ্যমে আমদানির পরিমাণ বাড়তে থাকে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি অব্যাহত থাকলে দ্রুতই বাজারের দাম সাধারণের নাগালের মধ্যে আসবে।

    ভোমরা কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মোঃ শওকত হোসেন বলেন, ‘রোববার থেকে ভোমরায় ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। গত দুই দিনে মোট ৩২ ট্রাকের মাধ্যমে ৯৫০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশের বাজারে প্রবেশ করেছে। এর আগে শেষবার এই বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল গত ২৭ মার্চ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম কমে যাবে।’

  • মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য জাতীয় স্বর্ণ পদক পেলেন গোলাম কিবরিয়া রিপন

    মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য জাতীয় স্বর্ণ পদক পেলেন গোলাম কিবরিয়া রিপন

    নগরীর রায়মহলের বাসিন্দা ও পাইকগাছা চিংড়ি চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও রয়্যাল ফিস কালচারের স্বত্বাধিকারী তরুণ মৎস্য ও ঘের ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া রিপন সম্প্রতি মৎস্য খাতে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় মৎস্য স্বর্ণ পদক লাভ করেছেন। এই অর্জনের জন্য তিনি চীন বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৫ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মোঃ ইউনুস-এর কাছ থেকে এ পদক গ্রহণ করেন। এর আগে, ১৭ জুলাই মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ভারপ্রাপ্ত ড. মোঃ আবদুর রউফ এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গোলাম কিবরিয়া রিপন নগরীর বয়রা রায়ের মহল এলাকার মৃত নজির উদ্দিন আহমেদের পুত্র। তিনি সরকারি বিএল কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করে চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে, পিতাকে অনুসরণ করে ২০০১ সালে পাইকগাছায় চিংড়ি পোনা ব্যবসায় হাত দেন। তাঁর কঠোর পরিশ্রমে এই ব্যবসায় তিনি সফলতা পেয়েছেন। ২০০৭ সালে ১৫০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে চিংড়ি চাষ শুরু করেন। তাঁর ধারাবাহিক সাফল্য দেখে তিনি আরও ব্যাপকভাবে চিংড়ি চাষে মনোযোগী হন এবং বর্তমানে পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় মোট ৬টি চিংড়ি ঘের রয়েছে, যার মোট আকার প্রায় ১৮৫০ বিঘা। তিনি আধুনিক উন্নত পদ্ধতি অনুসরণ করে চিংড়ি চাষ করে থাকেন, যা দেশের সামুদ্রিক ও অবিচ্ছিন্ন জলাশয় ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এই চাষের ফলে তিনি প্রতি বছর প্রায় ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা আয় করেন। তাঁর ঘেরগুলোতে কাজ করে থাকে ৪ থেকে ৫শ’ শ্রমিক, যা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। তাঁর সফলতা অনুরূপ অন্য ঘের মালিকরাও উন্নত মানের পদ্ধতি গ্রহণে উৎসাহিত হচ্ছেন। দেশের মানুষের নিরাপদ প্রোটিনের চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান, রপ্তানি বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে মৎস্য খাতের অবদান গভীর। বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ জলাশয় রয়েছে প্রায় ৩৮.৬ লক্ষ হেক্টর, এবং সামুদ্রিক জলসীমা ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার, যা দেশের মাছের অন্যতম প্রধান সম্পদ। সরকার এই সম্পদ রক্ষা, উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা ও টেকসই ব্যবহারের জন্য সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করছে। ফলে বাংলাদেশ এখন মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণ। গোলাম কিবরিয়া রিপন ইতোমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন, যেমন ২০১৩, ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ সালে উপজেলা পর্যায়ে এবং ২০২৩ সালে জেলা পর্যায়ে। তিনি বলেন, “যেকোনো পুরস্কার মানুষকে উৎসাহিত করে কর্মে অনুপ্রাণিত করতে। জাতীয় মৎস্য স্বর্ণ পদক পেয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত ও সৌভাগ্যবান। এই সুন্দর অর্জনের জন্য আমি সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, মৎস্য অধিদপ্তর এবং সকল শুভাকাক্সক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

  • বিএনপি বেহেশতে যাওয়ার টিকিট বিক্রি করে না: এড. শফিকুল আলম মনা

    বিএনপি বেহেশতে যাওয়ার টিকিট বিক্রি করে না: এড. শফিকুল আলম মনা

    খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেছেন, বিএনপি একটি ধর্মাবিধানপ্রিয় রাজনৈতিক দল, তবে ধর্মের নামে রাজনীতি করে না। বিএনপি সমাজে সততা, মানবতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে সমুন্নত রাখতে উদাহরণ স্বরূপ কাজ করে, বেহেশতে যাওয়ার টিকিট বিক্রি করে না। গতকাল সোমবার খুলনা ইউনাইটেড ক্লাবের মিলনায়তনে ২১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    শফিকুল আলম মনা আরও বলেছিলেন, বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধ, স্বাধীনতা, আল্লাহর অখন্ড আস্থা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার জন্য দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী। তিনি উল্লেখ করেন, মুসলমান জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইসলামী মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটলে দেশের শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবতার সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময়ে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার পাশাপাশি বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম শব্দ যুক্ত হয়েছিল, যাতে ধর্মের ভিত্তিতে সকল মানুষের সমান মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন সতর্ক করে বলেন, ৫ আগস্টের পর যারা পাড়া-মহল্লায় গিয়ে বেহেশতের টিকিট বিক্রির অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের ষড়যন্ত্র থেকে দেশবাসীকে সচেতন থাকতে হবে। বিএনপির মূল শক্তি হলো সাধারণ মানুষ, যারা সব সময় দলটির পক্ষে। কোনো ষড়যন্ত্র এই দলকে দমানো বা বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। যারা এই বিশ্বাসের বিরোধিতা করছেন, তারা ভুল বুঝছেন বা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক রক্তের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদ পতনের দৃঢ়তা দেখিয়েছে এই দেশের জনগণ। ভোটাধিকার রক্ষায় দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও স্বাধীনতা বিরোধীরা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ভোটের অধিকার খর্ব করতে চাইছে।

    প্রসঙ্গত, অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তৃতা করেন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবু সাঈদ শেখ, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক সৈয়দা রেহানা ঈসা, সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, সদর থানা বিএনপির সভাপতি কে এম হুমায়ূন কবির, সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ফরিদ আহমেদ, শহর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম শফি, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: নাসিরউদ্দিন, মহিলা দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক এডভোকেট হালিমা আক্তার খানম, মো: নুরুল ইসলাম, আলতাফ খান, জাহাঙ্গীর আলম, মনির খান, শহিদুল ইসলাম, মহিলা দল নেত্রী রাশিদা আক্তার ময়না, এডভোকেট জাহানারা পারভীন, আসাদুজ্জা মিঠু, শাহিনুল ইসলাম, মুরাদ হোসেন, শেখ মিজানুর রহমান, মো: কামাল, জিয়াউর রহমান, বাবুল জমাদ্দার, সওগাতুল আলম সগির, রিয়াজ সাহেদ, আসাদুজ্জামান মিঠু, রুবেল জমাদ্দার, মো: জালাল, ফারুক আহম্মেদ, মো: গাউস, মো: জামাল, মিজান সরদার, রিপন আকন, রবিউল ইসলাম রবি, মাওলানা আফসার উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম, অধ্যাপক আজম খান, মোস্তফা পাটোয়ারি, মোস্তফা মাস্টার, হিরণ দেবনাথ, মো: রুম্মান, রিয়াজ, জাহিদুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম লিটন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, শাফিয়া খাতুন, অক্লিমা খাতুন, পুতুল আক্তার, মো: মাসুদুর রহমান, খলিলুর রহমান, মাহাবুব নোমান, আব্বাস, হায়দার আলী, জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।

  • ৩৩টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম কমাল এসেনশিয়াল ড্রাগস, সরকারের সাশ্রয় ১১৬ কোটি টাকা

    ৩৩টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম কমাল এসেনশিয়াল ড্রাগস, সরকারের সাশ্রয় ১১৬ কোটি টাকা

    সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী সংস্থা এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) সম্প্রতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম কমানোর। এই পদক্ষেপের ফলে সরকারের প্রায় ১১৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

    আজ বুধবার (১৩ আগস্ট) এক ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামাদ মৃধা এই তথ্য জানান। তিনি জানান, গত এক বছরে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ৩৩ ধরনের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। এর ফলে, ওষুধের দাম কমে যাওয়ায় সরকারের ওষুধ কেনাকাটায় এই অর্থের সাশ্রয় হবে। ওই ওষুধের মধ্যে রয়েছে ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, ওরস্যালাইন, ইনজেকশনসহ মোট নয় ধরনের ওষুধ।

    সামাদ মৃধা আরও বলেছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনকে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য নানা সংস্কার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সিন্ডিকেট বিরোধী অভিযান, দুর্নীতির অবসান ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। ভবিষ্যতে নতুন টিকাসহ বায়োলজিক্যাল পণ্য উৎপাদনে নতুন প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। তিনি জানান, দুইটি নতুন প্ল্যান্টের মধ্যে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য, যেখানে সানতনি পদ্ধতির পাশাপাশি ইনসুলিন ও অন্যান্য বায়োলজিক্যাল পণ্য তৈরি করা হবে।

    প্রতিষ্ঠানটি খরচ কমানোর পাশাপাশি লাভজনক অবস্থানে ফিরে আসতে কাজ করে চলেছে। অপচয় কমানো, সিন্ডিকেট ভেঙে দিচ্ছে এবং অপ্রয়োজনীয় ৭০০ কর্মচারী ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে, বর্তমানে উৎপাদনে ৫৯ কোটি টাকার বৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি কাঁচামালের কেনাকাটায় টেন্ডার প্রক্রিয়াকে উন্মুক্ত করে খরচ কমানো সম্ভব হয়েছে, যার ফলে প্রতি মাসে প্রায় ১৮ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়।

    সরকারি ওষুধের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সংস্থার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, নিজেদের কারখানায় উৎপাদন বাড়িয়ে টোল ম্যানুফ্যাকচারিং বন্ধ করে সরকারি চাহিদার ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পূরণ করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের মানুষের জন্য সুলভ ও মানসম্পন্ন ওষুধ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর ও ছয় ডেপুটি গভর্নরের ব্যাংক হিসাব তলব

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর ও ছয় ডেপুটি গভর্নরের ব্যাংক হিসাব তলব

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর ও ছয় ডেপুটি গভর্নরসহ বেশ কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার হিসাব সংক্রান্ত সব তথ্য ইতিমধ্যেই তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এই উদ্যোগটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুরোধে নেওয়া হয়েছে, এবং দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

    আজ বুধবার (১৩ আগস্ট) বিএফআইইউর একজন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চিঠিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যাদের হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, ফজলে কবির ও আব্দুর রউফ তালুকদার। উল্লেখ্য, আতিউর রহমান সরকার পতনের পর দেশ ছাড়েন, আর আব্দুর রউফ তালুকদার পলাতক অবস্থায় গত বছর ৭ আগস্ট ই-মেইলের মাধ্যমে পদত্যাগ করেন।

    অপরদিকে, তালিকায় থাকা আরও কিছু সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন এস কে সুর চৌধুরী, মো. মাসুদ বিশ্বাস, আবু হেনা মো. রাজী হাসান, এস এম মনিরুজ্জামান, কাজী ছাইদুর রহমান ও আবু ফরাহ মো. নাছের। উল্লেখ্য, এস কে সুর চৌধুরী ও মাসুদ বিশ্বাস বর্তমানে দুর্নীতির অভিযোগে কারাগারেও আছেন।

    চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম, লেনদেনের বিস্তারিত বিবরণ, কেওয়াইসি (Know Your Customer) ফরমসহ সব ধরনের তথ্য তিন কর্মদিবসের মধ্যে পাঠাতে হবে। যদি কোনো অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে থাকে, তারও তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতীতের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা।

  • সরকারি চাকুরিজীবীদের ওপর কর মুক্ত ৪২ ধরনের আয়

    সরকারি চাকুরিজীবীদের ওপর কর মুক্ত ৪২ ধরনের আয়

    সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হলেও, কিছু নির্দিষ্ট ধরনের আয়ের ওপর তাদের কর দিতে হয় না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য, ৪২ ধরনের আয় করমুক্ত রাখা হয়েছে। এসব আয়ের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের ভাতা যেমন চিকিৎসা ভাতা, নববর্ষ ভাতা, বাড়িভাড়া ভাতা, শ্রান্তি ও বিনোদন ভাতা, শিক্ষাসহায়ক ভাতা, কার্যভার ভাতা, পাহাড়ি ভাতা, ভ্রমণ ও যাতায়াত ভাতা, টিফিন ভাতা, পোশাক ভাতা, আপ্যায়ন ভাতা, ধোলাই ভাতা, বিশেষ ভাতা, প্রেষণ ভাতা, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ভাতা, জুডিশিয়াল ভাতা, চৌকি ভাতা, ডোমেস্টিক এইড অ্যালাউয়েন্স, ঝুঁকি ভাতা, অ্যাকটিং অ্যালাউয়েন্স, মোটরসাইকেল ভাতা, আর্মরার অ্যালাউয়েন্স, নিঃশর্ত যাতায়াত ভাতা, টেলিকম অ্যালাউয়েন্স, ক্লিনার ও ড্রাইভার অ্যালাউয়েন্স, মাউন্টেড পুলিশ অ্যালাউয়েন্স, পিবিএক্স অ্যালাউয়েন্স, সশস্ত্র শাখা ভাতা, বিউগলার অ্যালাউয়েন্স, নার্সিং অ্যালাউয়েন্স, দৈনিক বা খোরাকি ভাতা, ট্রাফিক অ্যালাউয়েন্স, রেশন মানি, সীমান্ত ভাতা, ব্যাটম্যান ভাতা, ইন্সট্রাকশনাল অ্যালাউয়েন্স, নিয়োগ ভাতা, আউটফিট ভাতা ও গার্ড পুলিশ ভাতা। মূল বেতন, উৎসব ভাতা ও বোনাস অবশ্য করযোগ্য আয়ে গণ্য হবে, যেখানে مخصوص হারে আয়কর দিতে হবে।
    এনবিআর আরও জানায়, ২০২৫-২৬ করবর্ষের জন্য গত ৪ আগস্ট থেকে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম ১০ দিনে, এই প্রক্রিয়ায় ৯৬,৯৪৫ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় পাঁচ গুণ বেশি, যা বলছে যে করদাতাদের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে এবং কর পরিশোধে আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা ভারতের বাজারে চালের দাম বাড়িয়ে দিল

    বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা ভারতের বাজারে চালের দাম বাড়িয়ে দিল

    বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত চাল আমদানির ঘোষণা দেওয়ার পরপরই ভারতের বাজারে চালের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। গত দু’দিনে ভারতের বাজারে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার খাদ্য সরবরাহের নিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ৫ লাখ টন চালের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের বেশ কিছু বড় চাল ব্যবসায়ী সুবিধা নিতে বাংলাদেশে চাল রপ্তানির ঝুঁকি নিচ্ছেন, যা ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে সাময়িক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করেছে। ఈ তথ্য জানিয়েছেন ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ ও দক্ষিণ ভারতের ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই জানতেন যে বাংলাদেশ সরকার চালের ওপর থেকে ২০ শতাংশ আমদানি শুল্ক সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করবে। এই খবর পেয়ে তাঁরা পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্তের কাছাকাছি গুদামে চাল প্রস্তুত রেখেছিলেন। গত বুধবার বাংলাদেশ সরকারের এই শুল্ক প্রত্যাহার ঘোষণার পরই তারা ট্রাকে করে চাল বাংলাদেশে পাঠানো শুরু করেন।

    এ কারণে ভারতের খুচরা বাজারে চালের দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। স্বর্ণা চালের দাম কেজি প্রতি ৩৪ রুপি থেকে বেড়ে ৩৯ রুপি, মিনিকেটের দাম ৪৯ থেকে ৫৫ রুপি, রতœা চালের দাম ৩৬-৩৭ থেকে ৪১-৪২ রুপি এবং সোনা মাসুরি চালের দাম ৫২ থেকে ৫৬ রুপি প্রতি কেজিতে উঠেছে।

    রাইসভিলা নামের এক চাল রপ্তানিকারক সংস্থার সিইও সুরজ আগরওয়াল বলেছেন, বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) শুল্ক প্রত্যাহার ঘোষণার সাথে সাথেই ভারতে থেকে চাল বাংলাদেশে রপ্তানি শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘লজিস্টিক সুবিধা ও খরচের দিক থেকে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে চাল রপ্তানি বেশি লাভজনক হওয়ায় উত্তর প্রদেশ ও দক্ষিণ ভারতের মিলাররা এই পথ বেছে নিচ্ছেন।’

    অন্ধ্র প্রদেশের এক চাল মিলার সিকে রাও বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালেই আমার ট্রাকগুলো বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছে।’

    বাংলাদেশের এই শুল্ক প্রত্যাহারের মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দামের স্থিরতা বজায় রাখা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমানো, যাতে ভোক্তারা স্বস্তিতে থাকেন। গত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) বাংলাদেশে চালের দাম ১৬ শতাংশ বেড়েছিল, তখন দেশটি অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য প্রায় ১৩ লাখ টন চাল আমদানি করেছিল।

    চাল রপ্তানিকারক সংস্থা হালদার ভেঞ্চার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেশব কুমার হালদার জানান, বিশ্বব্যাপী চালের সরবরাহ উদ্বৃত্ত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম কম ছিল। তিনি বলছেন, ‘বাংলাদেশের এই রপ্তানি অর্ডার ভারতের বাজারকে মন্দা থেকে ঘুরিয়ে দিতে সাহায্য করবে, কারণ זה নতুন চাহিদা সৃষ্টি করেছে এবং বৈশ্বিক মূল্যহ্রাস হালকা হলেও কিছুটা পুষিয়ে দিচ্ছে।’

  • প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা, ১৭ দিনে এসেছে দেড় বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক ধারা, ১৭ দিনে এসেছে দেড় বিলিয়ন ডলার

    চলতি আগস্ট মাসে দেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে আশাতীত ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। মাসের প্রথম ১৭ দিনে মোট দেড় বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স প্রবাহ হয়েছে, যা বাংলাদেশ মানে প্রায় ১৬১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। এটি যদি এ ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে আগস্ট মাসটি সম্ভবত গত বছরের জুলাই মাসের রেমিট্যান্সের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগস্টের প্রথম ১৭ দিনে অন্তর্জাতিকভাবে পাঠানো এই রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১৬১ কোটি ৯০ হাজার ডলার। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে ৪৯ কোটি ৩৩ লাখ ডলার। বিশেষ করে দুটি ব্যাংকের মধ্যে একটি ব্যাংকের (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে এসেছে ১৫ কোটি ডলার, আর বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে ৯৬ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার। এছাড়া বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৩১ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

    উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। তবে, সেপ্টেম্বর ও জানুয়ারি মাসে কিছু ব্যাংক থেকে রেমিট্যান্সের প্রবাহ স্থগিত ছিল। এ সময়ের মধ্যে কিছু ব্যাংকের মাধ্যমে কোনও রেমিট্যান্স আসেনি, এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

    অর্থবছর ২০২৪-২৫ এর মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল, যা দেশের রেকর্ড। ওই বছরটি ছিল দেশের জন্য গৌরবময় কারণ, প্রবাসী আয় এই অর্থবছরে মোট ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার ছিল, যা আগের বছর থেকে ২৬.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৩.৯১ বিলিয়ন ডলার।

    মাসভিত্তিক রেমিট্যান্সের প্রবাহ এইভাবে ছিল: জুলাই ১৯১.৩৭ কোটি ডলার, আগস্ট ২২২.১৩ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বর ২৪০.৪১ কোটি ডলার, অক্টোবর ২৩৯.৫০ কোটি ডলার, নভেম্বর ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলার, মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি ডলার, মে-তে ২৯৭ কোটি ডলার ও জুনে ২৮২ কোটি ডলার।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের প্রদত্ত প্রণোদনা ও প্রবাসী আয়ের সহজের জন্য নেওয়া নানা পদক্ষেপের কারণে এই ইতিবাচক প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।