সুন্দরবনের ঝোলা জলদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর সাথে যুক্ত চার জনসহ মোট ছয়জন জলদস্যুকে কোস্ট গার্ড অবশেষে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এই অভিযান চলাকালে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অস্ত্র, গুলি এবং মাদকপণ্য জব্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে শনিবার ৬ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে, যখন কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা সুন্দরবনের পশুর নদীসংলগ্ন চাদপাইঁ রেঞ্জের ছোট পদ্মা খাল এলাকায় সচেতন অভিযান চালান। এই এলাকায় জেলেদের অপহরণের জন্য জলদস্যুরা অবস্থান করছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড এই অভিযান শুরু করে। অভিযান চলাকালে, অভিযানে থাকা কোস্ট গার্ড সদস্যরা দেখেন যে দস্যুরা পালানোর চেষ্টা করছে, তখন তাদের ধাওয়া করে চার জলদস্যুকে আটক করে। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, চার রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও চার রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়। আটককৃতরা হলেন মোঃ বিল্লাল হোসেন (২৫), মোঃ রবিউল শেখ (৩২), মোঃ জিন্নাত হাওলাদার (৩৫), আর মোঃ কালাম গাজী (২৪)। জানা গেছে, তারা খুলনা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এসেছে এবং দীর্ঘদিন ধরে ছোট সুমন বাহিনীকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরবরাহ করে আসছিল। এদিকে, একই দিন রাত ২টায় কোস্ট গার্ডের স্টেশন কৈখালী থেকে আনুমানিক ২৫ হাজার টাকার মূল্যবিশিষ্ট ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার ও নগদ ১৭ হাজার ৫৮০ টাকা সহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। ভোরে, লবনচরা সুইচগেটের কাছ থেকে চারটি দেশীয় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ আরও একজনকে আটক করে কোস্ট গার্ড। এই সব অভিযানের জব্দকৃত মালামাল ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জাহাজের নেভিগেটিং কর্মকর্তা লেঃ মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, সম্প্রতি সুন্দরবনে জলদস্যুদের সক্রিয়তা বেড়েছে। ১ সেপ্টেম্বর সুন্দরবনকে উম্মুক্ত ঘোষণা করার পর সেখানে হাজার হাজার জেলে অবস্থান করছে, যারা মুক্তিপণের জন্য অপহরণের আশঙ্কাও রয়েছে। তবে, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও অন্যান্য প্রশাসন এই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্রিয় রয়েছে। ভবিষ্যতেও দেশীয় উপকূল ও সুন্দরবনকে মাদক ও দস্যুমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
Author: bangladiganta
-

কেসিসিতে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ
পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) নগর ভবনের চত্বরে একটি বিশেষ আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোঃ ফিরোজ শাহ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি মহানবী (সা.) এর জীবনদর্শন ও আদর্শ অনুসরণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, মহানবী (সা.) এর শিক্ষা হলো একটি ন্যায়, সাম্য ও মানবিকতার সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে প্রত্যেকের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও দায়িত্বের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। আজকের এই দিবসের মূল বার্তা হলো তাঁর জীবনাচরণের সত্যটাই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দেওয়া। মুসলমানদের জন্য তাঁর পবিত্র জীবনদর্শন এখনও অপরিহার্য।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আয়োজিত এই অনুষ্ঠান প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিক্ষা ও সংস্কৃতি কর্মকর্তা এস কে এম তাছাদুজ্জামান। এসময় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কোহিনুর জাহান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
আলোচনায় অংশ নেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলাম, দারুল কোরআন দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এহসানুল হক, ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোঃ গোলাম কিবরিয়া, কেসিসি শিক্ষক সমিতির সহসভাপতি মাওলানা মোঃ মুসফিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোঃ হাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কেসিসির সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম।
শেষে, প্রধান অতিথি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করেন। এই পরিবারের সব সদস্যের জন্য আজকের দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
-

খুলনা প্রেসক্লাবে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া
পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে খুলনা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আজ শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে একটি বিশেষ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের পূর্বে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়, যেখানে তার জীবনদর্শন ও শিক্ষাগুলো গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন খুলনা প্রেস ক্লাবের ইমাম, হাফেজ মাওলানা মোঃ ইফসুফ হাবিব।
আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন খুলনা প্রেস ক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক, আর সভা পরিচালনা করেন ক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য আশরাফুল ইসলাম নূর। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন খ্যাতনামা সাংবাদিক ও ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ দিদারুল আলম, কালো সদস্য মো. এরশাদ আলী, মো. রাশিদুল ইসলাম, আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. হেদায়ের হোসেন মোল্লা, আব্দুর রাজ্জাক রানা, খলিলুর রহমান সুমন, এবং এস এম নূর হাসান জনি সহ আরও nhiều অতিথি।
মূলত, এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য আহমদ মুসা রঞ্জু, ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা যেমন আলমগীর হান্নান, মোহাম্মদ মিলন, এস এম আমিনুল ইসলাম, এস এম ইয়াসীন আরাফাত (রুমী), মো. মাহফুজুল আলম (সুমন), মো. বেল্লাল হোসেন সজল, একরামুল হোসেন লিপু, এবং কিছু অস্থায়ী সদস্য যেমন শেখ ফেরদৌস রহমান, মো. হাসানুর রহমান তানজির, ইমাম হোসেন সুমন, মো. মেহেদী মাসুদ খান। এছাড়া, সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন জি এম রাসেল, মো. নুরুল আমিন (নূর), ফটো সাংবাদিক শেখ মো. সেলিম, এম রোমানিয়া, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শায়লা রহমান, অর্পিতা ও সুমাইয়া হুদা রাত্রি সহ আরো অনেকে।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি একযোগে শুভেচ্ছা, ভাবনা ও আলোকোজ্জ্বল অংশগ্রহণে উদযাপন করা হয়, যা রীতি অনুযায়ী মহানবীর আদর্শ ও জীবনময় আলো ছড়িয়ে দেয়।
-

খুলনায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ এক ব্যক্তি আটক
খুলনায় যৌথ বাহিনীর অভিযান চালিয়ে যুবদলের সাবেক নেতা কামরুজ্জামান টুকুকে অস্ত্র ও গোলাগুলিসহ আটক করা হয়েছে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে নগরীর লবনচরা এলাকায় বিশেষ এ অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানকালে টুকুর হেফাজত থেকে একটি সুটানগান, নয়টি রাউন্ড গুলি, একটি সাদা রঙের গ্রেনেড এবং পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। খুলনার লবণচরা থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান জানাচ্ছেন, গভীর রাতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা হঠাৎ করে হাজী মালেক কবরস্থানের কাছাকাছি এলাকায় অভিযান চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, অভিযানে কামরুজ্জামান টুকু নামে এক ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়। তার বাড়ি থেকে একটি একনলা বন্দুক, শর্টগানের গুলি এবং গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
-

এনবিআর চেয়ারম্যানের দাবি: ন্যূনতম কর একটি কালো আইন
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান বলেছেন, ন্যূনতম কর আইনটি সত্যিই একটি কালো আইন। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘করপোরেট কর ও ভ্যাটে সংস্কার: এনবিআর এর জন্য একটি বিচারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, বেশিরভাগ ব্যবসায়ী এবং করসংক্রান্ত বিশ্লেষকদের মতে, ন্যূনতম করটি স্বাভাবিকভাবে ব্যবসায়িক স্বার্থের পরিপন্থী এবং এটি একটি অনুচিত আইন। তিনি একেএই সময়ে মন্তব্য করেন, করের জন্য দেশের প্রবৃদ্ধির স্বার্থে একটি সমতুল্য ও ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধাজক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে প্রাসঙ্গিক করনীতি কার্যকর হয়। এনবিআর চেয়ারম্যানের দাবি, করের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে হলে করসংকোচনের পাশাপাশি কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, করছাড় ও করসংক্রান্ত সুবিধাদি দিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করা হলেও, এখনো কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে সক্ষম হচ্ছেন না। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন করের পরিমাণ বৃদ্ধি, যদিও বর্তমানে করের হার কমে যাচ্ছে। তিনি জানান, গত বছর দেশে কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ৭.৪ শতাংশ, আর এবছর তা কমে ৬.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য উদ্বেগজনক। এর পাশাপাশি তিনি বলেন, ঋণের বোঝা বাড়ছে, কারণ মূলত রাজস্ব আদায় খুব কম থাকায় পরবর্তী প্রজন্মের উপর ঋণের চাপ বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় এনবিআর একটি ডিজিটাল ও অটোমেটেড সিস্টেম তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে কর נফরমেশন সহজ ও দ্রুত হয়। তিনি জানান, অডিটের জন্য ম্যানুয়াল পদ্ধতি বন্ধ করে অডিট নির্বাচন কঠোরভাবে ঝুঁকি ভিত্তিক হবে, যাতে স্বচ্ছতা ও সততা প্রতিষ্ঠা করা যায়। কর জাল বা কর পরিশোধে প্রতারণা রোধে করদাতাদের জন্য আরও বেশ কিছু আধুনিকায়ন প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই সংলাপে অংশ নেয়া গবেষকদের মতে, ৮২ শতাংশ ব্যবসায়ী current কর হারকে ‘অন্যায্য’ এবং ব্যবসার জন্য বড় বাধা হিসেবে দেখেছেন। তাদের মধ্যে ৭৯ শতাংশ জানিয়েছেন, কর কর্মকর্তাদের জবাবদিহির অভাব প্রধান প্রতিঘাত। উচ্চ অনুরোধ ও জটিল ভ্যাট আইনের কারণে ব্যবসায়ীরা নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে এসেছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ঢাকা ও আশপাশের ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা যায়, ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগই নানা রকম দুর্নীতি ও অস্পষ্ট বিধানের কারণে সমস্যা অনুভব করেন।
-

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এখন ৩১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। বুধবার দিনের শেষে দেশের মোট গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী, রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৬ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার। আগে গত রোববার এই রিজার্ভের পরিমাণ ছিল গ্রস হিসাবে ৩০ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফ হিসাব অনুযায়ী ২৫ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্যে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
-

ডাক বিভাগের অধীনে থাকছে না ‘নগদ’, ১ সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞাপন আসছে
বাংলাদেশে মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) খাতে প্রতিযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, নগদ ডিজিটাল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানকে আরও স্বচ্ছন্দ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে সরকার নগদকে দেশের ডাক বিভাগের অধীন থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা চাই অর্থনৈতিক এই খাতে উন্নতি এবং প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি হোক। এজন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, নগদকে বেসরকারিকরণ করা হবে এবং এটি জন্য উপযুক্ত বিনিয়োগকারী আনা হবে। বুধবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আইসিএমএবি ও মাস্টারকার্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ক্যাশলেস বাংলাদেশ সামিটে এ সব কথা তিনি জানান। গভর্নর আরও জানিয়েছেন, ‘আমরা সম্ভবত মুক্তির এক সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে জানিয়ে দেব।’ এটি করার মূল কারণ হলো, বর্তমান সময়ে ডাক বিভাগের অধীনে থাকা নগদ এর কার্যক্রম চালানোর জন্য উপযুক্ত সক্ষমতা নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নগদ প্রধান শেয়ারহোল্ডার হিসেবে একটি উন্নত প্রযুক্তি কোম্পানি আনা জরুরি। এতে করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুনভাবে নগদকে গড়ে তুলতে পারবে যাতে এটি মোবাইল অর্থটেক কৌশলে একটি শক্তিশালী প্রতিযোগী হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: শীর্ষনিউজ.
-

সরকারের কাছে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থা গত জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোট ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তাব পেয়েছে। আজ (২৮ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বোর্ড সভায় এ তথ্য প্রকাশিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি ছাড়াও উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়্যারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রাপ্ত বিনিয়োগের প্রস্তাবের মধ্যে প্রায় ৪৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি বিনিয়োগের। এর পাশাপাশি স্থানীয় বিনিয়োগ এসেছে ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবং যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে মোট ৮৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সব চেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে, যার পরিমাণ প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার। এছাড়াও, সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে।
সভায় জানানো হয়, প্রস্তাবগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়েছে ২৩১ মিলিয়ন ডলারের। মোট প্রস্তাবের প্রাথমিক পর্যায় থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপান্তরের হার প্রায় ১৮ শতাংশের মতো, যা গোটা বিশ্বে গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে।
বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট কমানোর জন্যও আলোচনা হয়। সেখানে জানানো হয়, দীর্ঘদিন ধরে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি কন্টেইনার পড়ে থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকারের সময় বিডা বন্দরে কার্যক্রম দ্রুত করার জন্য একাধিক উদ্যোগ নেয়, যার অংশ হিসেবে গত দুই মাসে ১ হাজার কন্টেইনার নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নিলামের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে নির্দেশনা দেয়।
আশাকরি, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে আরও ৫০০ কন্টেইনার নিলামে তোলার কাজ চলমান থাকবে, এবং নিলামের পণ্য হস্তান্তর প্রক্রিয়াও চালু থাকবে। একই সময়ে, বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টাল (বিবিপি) চালুর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
বিডা, বেজা, বেপজা ও বিসিকের পরিষেবাগুলোকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। এই পদ্ধতিতে ব্যবসায়ীরা সহজে সকল পরিষেবা পাবে। আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এই প্ল্যাটফর্মের সফট লঞ্চিং এবং সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পূর্ণাঙ্গ চালু নিশ্চিত করা হবে বলে জানা গেছে।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস হাউজসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
-

দেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে ২৫৯৩ ডলার
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মানুষের গড় আয় ২৫৯৩ ডলার। এর ফলে গত বছরে এই সংখ্যা ৪২ ডলার বৃদ্ধিপেয়েছে। এই উন্নতির কারণগুলো ব্যাখ্যা করে বলা হয় যে, বাংলাদেশের অর্থনীতির কিছু সূচক ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে। তবে, বিশ্বব্যাংকের অন্যান্য দেশের তথ্য অনুযায়ী, দেশের এই অবস্থান এখনো বেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। এশিয়ার ২০টি দরিদ্র দেশের তালিকায়, জর্ডান শীর্ষে থাকলেও সেখানে মাথাপিছু আয় ৪৬১৮ ডলার, যা বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বেশি। বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম এবং মাথাপিছু আয় ২৫৯৩ ডলার। উল্লেখ্য, আগে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু ভুয়া তথ্য প্রকাশ করে বলা হত যে, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় প্রায় ৩০০০ ডলার। তবে এখন স্বীকৃত তথ্য বলছে, সেই সংখ্যা এর চেয়ে কম। প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারতের সড়ক তালিকায় বাংলাদেশের পরে রয়েছে, যেখানে ভারতের মাথাপিছু আয় প্রায় ২৫৯৩ ডলার, যা বাংলাদেশের চেয়ে মাত্র ১০০ ডলার বেশি। শ্রীলঙ্কার আয়ও উল্লেখযোগ্য, যেখানে মাথাপিছু আয় প্রায় ৫৫৩৩ ডলার। পাকিস্তানের অবস্থান ৮ম স্থানে, যেখানে মাথাপিছু আয় প্রায় ১৬০৩ ডলার, যা বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় এক হাজার ডলার বেশি। অন্যদিকে, এশিয়ার সবচেয়ে দরিদ্র দেশ আফগানিস্তানের মাথাপিছু আয় মাত্র ৪১৩ ডলার, যা দেখায় এই দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা কত গভীর।
-

নুরের সুস্থতার প্রক্রিয়া নিয়ে পরিকল্পনা চলছে: রাশেদ খান
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার পর তার শরীরিক স্থিতি এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নয়—এমনই অভিযোগ করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, নুরুল হক নুর এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, তার নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে এবং নাকটি বাঁকা হয়ে গেছে। তার মাথায় আঘাত হয়েছে, হাঁটতে পারছেন না এবং মুখ হা-ও করতে পারছেন না। সরকার জানিয়েছে, তার উন্নত চিকিৎসার জন্য ভবিষ্যতে তাকে বিদেশে পাঠানো হবে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। তবে, রাশেদ খান বলছেন, তার শারীরিক অবস্থা এখনো আগের মতোই সংকটপূর্ণ এবং তিনি এখন প্লেনে ওঠার মতো পরিস্থিতিতে не। যেমনটা তারা মনে করছেন, তিনি কেবলমাত্র একটু সুস্থ হলে অক্টোবরের এক সপ্তাহের মধ্যে তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, গতকাল তারা হাসপাতাল থেকে শুনেছেন যে নুরুল হক নুর সম্পূর্ণ সুস্থ, যা তিনি সঠিক মনে করেন না। তিনি বলছেন, তার অবস্থা দেখে মনে হয়, তাকে সুস্থ দেখানোর জন্য একটি পরিকল্পনা চলছে। তিনি নিজে তার দেখাশোনা করে বুঝতে পারেন, নাক থেকে জমাট বাঁধা রক্ত বের হচ্ছে, যা ডাক্তারের দৃষ্টি আকর্ষণ করায় হাসপাতালের পরিচালকসহ চিকিৎসকরা উপস্থিত হন। তারা নুরের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নির্দেশনা দেন। তবে, গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে যে তিনি এখনো সুস্থ, যা তার প্রকৃত পরিস্থিতির সঙ্গে मेल খায় না।
রাশেদ খান বলেন, আমি নিজে নুরের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলাম তবে তিনি কথা বলতে পারছেন না। তার চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, মুখ দিয়ে কথা বলতেও অসুবিধা হচ্ছে। তার মুখের মাড়িতে প্রচণ্ড ব্যথা এবং ব্রেনেও আঘাতের চিহ্ন থাকায় ব্রেন সঠিকভাবে কাজ করছে না। তিনি স্পষ্ট মনে করেন, নুর সম্পূর্ণ সুস্থ হননি। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, তিনি বলেন, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়েছিল।
তাঁর মতে, এই হামলাকে কেন্দ্র করে দেশের মানুষ ব্যাপক একতাবদ্ধ হয়েছে। লাখ-প্রকারের চাওয়া হচ্ছে, জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলসহ অন্যান্য ফ্যাসিবাদী শক্তির সাংগঠনিক কার্যক্রমও বন্ধ করতে হবে, যেমনটি আওয়ামী লীগকে করা হয়েছে। তবে, এই ঘটনার মধ্যে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া সরকারের জন্য লজ্জাজনক। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অনুমতি ছাড়া এই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তিনি আদায় করে বলেছেন, নুরের ওপর হামলা ও তার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই ঘটনার তদন্ত ও বিচারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অন্ততঃ প্রত্যাহার হওয়া দরকার।
অতএব, রাশেদ খান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, যেভাবে নুরকে সুস্থ দেখানোর পরিকল্পনা চলছে, তা কোনো লাভ করবে না। হামলার বিচার হতে হবে, জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।
