Author: bangladiganta

  • দ্বিতীয় দিনের প্রথমার্ধে ২৭ আপিল মঞ্জুর, ৫টি নামঞ্জুর

    দ্বিতীয় দিনের প্রথমার্ধে ২৭ আপিল মঞ্জুর, ৫টি নামঞ্জুর

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বাছাই নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রার্থীর আপিলের দিকে নজর ছিলো দেশের নির্বাচনী বাতাবরণে। গতকাল থেকে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এই আপিল শুনানি শুরু হয়। আজ রবিবারের প্রথমার্ধে (সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা) মোট ৩৫ জন প্রার্থীর আপিল শুনানি সম্পন্ন হলো। এর মধ্যে ২৭ জনের আপিল মঞ্জুর করা হয় এবং ৫ জনের আপিল নামঞ্জুর ঘোষণা করা হয়। এছাড়া, পুরো তালিকায় ৩জনের আপিল বিবেচনাধীন রাখা হয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুনানি বিকেল ২টায় শুরু হবে।

    এই প্রথম পর্যায়েই মোট ২৭ জন প্রার্থীর আপিল মঞ্জুর করা হয়। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: চাঁদপুর-২ আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মুবিন, কুড়িগ্রাম-২ আসনের জাতীয় পার্টির মো. আতিকুর রহমান, গাজীপুর-২ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী খন্দকার রুহুল আমীন, টাঙ্গাইল-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের হাসানাত আল আমীন, টাঙ্গাইল-৮ আসনে মো. শহীদুল ইসলাম, বগুড়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম তালু, জয়পুরহাট-২ আসনে অ্যাবি পার্টির প্রার্থী এস. এ জাহিদ, রাঙামাটি (২৯৯) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা, ঢাকা-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের নুরুল ইসলাম, কুমিল্লা-৬ আসনে বাসদ প্রার্থী কামরুন্নাহার সাথী এবং আরও অনেক প্রার্থী।

    অপরদিকে, আপিল নামঞ্জুর করা প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: ফরিদপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোরশেদুল ইসলাম আসিফ, রাজশাহী-৩ আসনের মোসা. হাবিবা বেগম, শেরপুর-১ আসনের মো. ইলিয়াছ উদ্দিন, ভোলার মিজ তাসলিমা বেগম ও রংপুর-৪ আসনের মো. জয়নুল আবেদিন। এছাড়া, ৩ জন প্রার্থীর আপিল বিবেচনাধীন রাখা হয়েছে—কুমিল্লা-১ আসনের সৈয়দ মো. ইফতেকার আহসান, ভোলা-২ আসনের মহিবুল্যাহ খোকন, ফরিদপুর-৪ আসনের আবদুল কাদের মিয়া।

    প্রথম দিনের মতো এই দিনেও মনোনয়ন বাছাইয়ের বিভিন্ন আপিলের ব্যাপক সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছিলো। মার্চ ১ থেকে ৭২০টির বেশি মনোনয়ন বাতিলের তালিকা প্রকাশের পর, গত ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় আপিল গ্রহণের কার্যক্রম। আপিল শুনানি ৯ জানুয়ারি শেষ হলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য চলছে ধারাবাহিক বিচার। আজ রবিবার ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর আপিলের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। পরের দিনগুলোতে আরও বিভিন্ন নম্বরের আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

    উল্লেখ্য, সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, আপিলের নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবেন ২১ জানুয়ারি, এর পর প্রতীক বরাদ্দ হবে। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণের দিন হবে ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৭:৩০ থেকে বিকাল ৪:৩০ পর্যন্ত।

  • জাতীয় পার্টির আশা: আসন্ন নির্বাচনে ৭০ আসনে ভালো ফলের সম্ভাবনা

    জাতীয় পার্টির আশা: আসন্ন নির্বাচনে ৭০ আসনে ভালো ফলের সম্ভাবনা

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও ন্যায্যভাবে অনুষ্ঠিত হলে জাতীয় পার্টি ৪০ থেকে ৭০টি আসনে ভালো ফলের প্রত্যাশা করছে। দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী এই আশা ব্যক্ত করেন আজ রবিবার (১১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানির পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে।

    শামীম হায়দার জানান, গতকাল তারা ১৩ প্রার্থী মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। এর মধ্যে ১১ জনের আপিল গ্রহণ করা হয়েছে, দুজনের নথি নামঞ্জুর হওয়ায় তারা উচ্চ আদালতে যাবেন। এছাড়া, কুমিল্লা-১ আসনের সৈয়দ মোহাম্মদ ইফতেকার আহসান ও বগুড়া-২ আসনের মো. শরিফুল ইসলাম জিন্নার আপিলও গ্রহণ করা হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, আজ চারটি এবং আগামীকাল ছয় বা সাতটি আপিলের শুনানি হবে। আপিল ট্রাইব্যুনাল কারিগরি ত্রুটিগুলোর জন্য সংশোধনের সুযোগ দিচ্ছে, ফলে অনেক প্রার্থী নির্বাচনে ফিরে আসার সুযোগ পাচ্ছেন।

    শামীম হায়দার বলেন, ১২ থেকে ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের কিছু এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে অনেক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি। অতীতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ছোটখাটো ভুলের জন্য সংশোধনের সুযোগ দিলেও এবার তারা তা করেননি। ভয় ও ট্যাগিংয়ের কারণে তারা ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, আইনশৃঙ্খলার মূল সমস্যা ঢাকা ও কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ। যদি প্রশাসন দৃঢ়তা না দেখায়, তাহলে নির্বাচনের মান নিচে নামতে পারে। বগুড়া জেলা পার্টি কার্যালয় দখলের ঘটনা নজিরবিহীন, যেখানে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে এবং উল্টো মিথ্যা জিডি করা হয়েছে। এ জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন।

    শামীম হায়দার বলেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলার অবস্থা মূলত ঢাকা ও কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও, কোথাও কোনো বিরূপ ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। তাই ব্যাপক সেনা ও পুলিশ মোতায়েন ও প্রশাসনের দৃঢ়তা অপরিহার্য, অন্যতায় মানহীন বা অবাধ নির্বাচন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    জাতীয় পার্টির সংগঠনের বিভাজন প্রসঙ্গে তিনি জানিয়ে বলেছেন, দলটি নানা বিভক্তি সত্ত্বেও মূল অংশটি জিএম কাদেরের নেতৃত্বে একসঙ্গে থাকায় শক্তিশালী রয়েছে। দলটি ২৪৪টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল, এর মধ্যে প্রায় ২০০টি বৈধ হয়েছে। আপিলের পর আরও ২০ থেকে ২৫টি আসনে প্রার্থী যোগ হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এর ফলে দলটি ২২০ থেকে ২৪০টি আসনে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

    মহাসচিব বলেন, ভোটের মাঠ এখন খুবই পরিবর্তনশীল ও গতিশীল। যদি সবদলকে সাম্য ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয় এবং সুষ্ঠু নির্বাচন সবার জন্য নির্বিঘ্ন হয়, তাহলে জাতীয় পার্টি ৪০ থেকে ৭০টি আসনে ভালো ফল করতে পারে। এখন রাজনৈতিক আলোচনা ও সমঝোতার সময়। নির্বাচন কমিশন, প্রধান উপদেষ্টা বা বড় রাজনৈতিক দলগুলো উদ্যোগ নিয়ে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করাই এখন মূল লক্ষ্য। অন্যথায়, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

  • ইইউ ২ মাসের মধ্যে প্রকাশ করবে পূর্ণাঙ্গ ভোটের প্রতিবেদন

    ইইউ ২ মাসের মধ্যে প্রকাশ করবে পূর্ণাঙ্গ ভোটের প্রতিবেদন

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার দু’ মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে জানানো হয়েছে। এটি নির্বাচন শেষে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোটগ্রহণের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রকাশ করা হবে।

    রোববার (১১ জানুয়ারি) ঢাকা গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইইউর প্রধান নির্বাচন পর্যবেক্ষক ড. ইভারস আইজাবস এই তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিন দেশের মোট দুইশ’ পর্যবেক্ষক এই নিরীক্ষায় অংশ নেবেন। হাজার শ্রেণির বিভাগীয় শহরসহ কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল আজ ঢাকায় এসে কাজে যুক্ত হবেন এবং সেখান থেকে তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন।

    আইজাবস জানান, তারা গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্বাচনের বিষয়ক আলোচনা মনিটরিং করবেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে ইইউ নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু ভোটের জন্য সব ধরনের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে। ইইউর এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের ফলাফল ১৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হবে। এরপর দু’ মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হবে।

    নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ মনে করে, জনগণের মধ্যে বিশ্বাস ও আস্থা তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং তা নিশ্চিত করতে হলে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইইউর আলোচনা ও মতবিনিময় চলমান রয়েছে এবং তারা আশা করে, বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে একটি সত্যিকারের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে।

    অতিরিক্তভাবে, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এমন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চিহ্নিত ও প্রতিরোধে ইইউর নিজস্ব ফ্যাক্ট চেকিং ইউনিট কাজ করছে।

    আইজাবস আরও বলেন, একসঙ্গে গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচনের ব্যাপারে ইইউ কোনো অস্বাভাবিকতা দেখে না এবং নির্বাচন সময়কালে সহিংসতার বিষয়টিও তারা পর্যবেক্ষণে রাখবে। দেশের ৬৪ জেলায় অসাম্প্রদায়িক পরিবেশে নারী, সংখ্যালঘু ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের বিষয়েও নজরদারি চলবে।

    অবশেষে, ইইউর এই পর্যবেক্ষক দল জানান, নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান কেনার বিষয়টি যতক্ষণ পর্যন্ত ভোট বা নির্বাচনের উপর প্রভাব ফেলবে না, ততক্ষণ তারা কোনও মন্তব্য করবে না।

  • চিন্তা করে ভোট দিন, পরে পস্তাবেন না: উপদেষ্টা রিজওয়ানা

    চিন্তা করে ভোট দিন, পরে পস্তাবেন না: উপদেষ্টা রিজওয়ানা

    আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) গুলশান-২ এর নগর ভবনে অনুষ্ঠিত ‘নাগরিক পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দুটি ভোট দিতে হবে। একদিকে সংসদ নির্বাচন, যেখানে আমাদের সবাইকে ভাবতে হবে কাকে ভোট দেবেন যেন পরে আফসোস না হয়। আর অন্যদিকে ওই দিনই অনুষ্ঠিত হবে গণভোট, যা বাংলাদেশের জন্য এক গুরুত্ব পূর্ণ সিদ্ধান্ত।

    সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, “দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য এই ভোটগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি আমরা সত্যিই পরিবর্তন চাই, তাহলে আমাদের ‘হ্যাঁ’ বলতেই হবে। এই সুযোগকে হারিয়ে গেলে দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার স্থগিত হতে পারে অনেক বছর।” তিনি আরও বলে থাকেন, সরকারের দেয়া তথ্যগুলো মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা করে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যেভাবে তরুণরা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে এগিয়ে এসেছিল, তাদের অর্জন বৃথা যেতে দেবেন না। আমাদের সকলেরই সচেতন হতে হবে যেন ইতিহাসের সেই সংগ্রাম অব্যাহত থাকে।

    তিনি উৎসাহ দেন ভয়কে জয় করতে—কারণ বাংলাদেশ বারবার ভয়কে জয় করেছে। তরুণ প্রজন্মের নানা আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশ গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী হয়েছে, সেটি আমরা ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে প্রমাণ করব।

    এছাড়াও, এই অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘নাগরিক পদক-২০২৫’ প্রদান করে মর্যাদা দেয়, যারা নগর উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।

  • প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

    সৌদি আরবে ওমরাহ পালনে গিয়েছেন টিকটক তারকা আব্দুল্লাহ আল মামুন, পরিচিত প্রিন্স মামুন, কিন্তু দেশের মাটিতে তার জন্য অপেক্ষা করছে দুঃসংবাদ। ঢাকার আদালত তার বিরুদ্ধে একটি গুরুতর মামলার কারণে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এই মামলার তদন্ত ও অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

    বৃহস্পতিবার, ঢাকায় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সেফাতুল্লাহ এই আদেশ দেন। ওই দিন মামলার অভিযোগ গঠনের জন্য শুনানি নির্ধারিত ছিল। মামুন ওমরাহ করায় আদালতে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তবে তার পক্ষে আইনজীবী আশিকুল ইসলাম আবেদন করেন যে, সময় দেওয়া হোক। কিন্তু বাদী লায়লা আখতার ফরহাদ সাক্ষ্য দিয়ে আদালতকে জানান যে, মামুন তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে বিচারাধীন অন্য একটি মামলাও আছে।

    আদালত ওই অভিযোগের ভিত্তিতে জানিয়ে দেন যে, তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে আদালত তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন এবং মামলার বিচার শুরু করার নির্দেশ দেন। আগামী ৫ মার্চ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

    অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, প্রিন্স মামুন ফেসবুকের মাধ্যমে লায়লার সাথে পরিচয় হয়। ১০ মে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মামুন ক্যান্টনমেন্ট ডিওএইচএস-এর বাসায় যান এবং সেখানে লায়লার পূর্বের মামলার ও জিডির বিষয়টি তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেন। যখন লায়লা তা অস্বীকার করেন, তখন মামুন ফেসবুক লাইভে গিয়ে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের গালি দেন। এরপর লাইভ বন্ধ করে তিনি মারধর শুরু করেন এবং ছুরি দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। লায়লা আহত হন, তাকে হাত দিয়ে ঠেকানোর সময়। এই ঘটনায় ওই দিনই ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন লায়লা।

    উপ-পরিদর্শক আতিকুর রহমান সৈকত তদন্ত শেষে অক্টোবর ৩০ তারিখে মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। এই মামলার বিস্তারিত এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • পশ্চিমবঙ্গে গাইতে এসে মবের শিকার বলিউডের দুই শিল্পী

    পশ্চিমবঙ্গে গাইতে এসে মবের শিকার বলিউডের দুই শিল্পী

    বর্ষবরণের রাতে পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাটে এক ভয়েতর ঘটনা ঘটেছে বলিউডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জুটি সাচেত ট্যান্ডন ও পরম্পরা ঠাকুরের সঙ্গে। তারকাদের উন্মাদনা ও উৎসাহের অন্ধকার দিক প্রকাশ পেয়েছে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে, যেখানে পরিস্থিতি এক পর্যায়ে অগ্নিস্পৃহ উন্মত্ত জনতার তাণ্ডবে রূপ নেয়। ভাগ্যক্রমে তারা অক্ষত থাকলেও তাদের বহনকারী গাড়িটি ব্যাপক ভাঙচুরের শিকার হয়।বালুরঘাটে নতুন বছর উদযাপন উপলক্ষে একটি জমকালো কনসার্টে অংশ নিয়েছিলেন এই দুই শিল্পী। অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে ঘটে ঘটনা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তাদের গাড়িটি শত শত জনতার দখলে। জনতা এতটাই উন্মত্ত হয়ে উঠে যে, তারা চলন্ত গাড়ির ওপর কিল-ঘুষি মারতে শুরু করে।সেখানে প্রচণ্ড শব্দে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ির ভিতর থেকে সাচেতকে আঁতকে উঠে ‘ওহ শিট’ বলতে শোনা যায়। পাশেই থাকা পরম্পরা আতঙ্কিত হয়ে জনতাকে শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলছিলেন, ‘গাইজ রিল্যাক্স, শান্ত থাকো।’ তবে উন্মত্ত জনতার হামলা থেকে তাদের গাড়ি রক্ষা পায়নি। এই আকস্মিক হামলার দৃশ্য দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন শিল্পীরা। এ ব্যাপারে তারা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি, তবে তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন।সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। নেটিজেনরা হেঁয়ালি করে বলছেন, পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে বলিউডের তারকা শিল্পীদের ওপর এমন হামলা ভারতীয় আইনি পরিস্থিতি ও শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় সংশয় সৃষ্টি করেছে। এই ধরনের ‘মব কালচার’ এখন ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা যাচ্ছে, যেখানে দিন দিন শিল্পীদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনা বেড়ে চলেছে। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে কৈলাস খেরের কনসার্টেও সহিংসতার ঘটনা ঘটে, সেখানে মাঝপথে অনুষ্ঠান বন্ধ করে মঞ্চ ত্যাগ করেন শিল্পীহীরা। এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেশের সাংস্কৃতিক মুক্তি ও নিরাপত্তার বিষয়ে চিন্তার জন্ম দিয়েছে।

  • বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা আবদুল লতিফ বাচ্চু আর নেই

    বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা আবদুল লতিফ বাচ্চু আর নেই

    প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা আবদুল লতিফ বাচ্চু (৮৪) আজ সোমবার (৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তিনি ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    কথা বলতে গেলে, চলচ্চিত্র পরিচালক ও বন্ধু কবিরুল ইসলাম রানা এই দুঃখদায়ক খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গতকাল বিকেলে তার সাথে আমার ফোনে কথা হয়েছিল, এবং আজ দুপুরে জেনে বার্তা পেলাম যে তিনি আর বেঁচে নেই।

    কবিরুল ইসলাম রানা আরও জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে তিনি নিউমোনিয়ার আক্রান্ত হয়ে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং সুস্থ হয়ে আবার দেশে ফেরেন।

    আবদুল লতিফ বাচ্চু ১৯৪২ সালের ৯ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্রগ্রাহক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন তিন ছেলেদের জনক। তার তিন সন্তানই বর্তমানে আমেরিকাত বাস করছেন।

  • ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ এর সিক্যুয়েল আসছে!

    ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ এর সিক্যুয়েল আসছে!

    বলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ এর সিক্যুয়েল তৈরি হওয়ার খবর আলোচনায় রয়েছে। বছরের শুরুতেই জানা যায়নি এমন এক বড় আপডেট that নতুন বছরটিতে আসছে করণ জোহর পরিচালিত আরেকটি পারিবারিক ছবি, যা মূলত একটি আবেগঘন ফ্যামিলি ড্রামার গল্প নিয়ে। কেউ ভাবেননি, এই ছবিটি কি হবে ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ এর সত্যিই এক সিক্যুয়েল।

    পিঙ্কভিলার প্রতিবেদনে জানা গেছে, করণ জোহর তার পরবর্তী ছবিতে একটি রোমান্টিক কমেডির পর এবার একটি পারিবারিক ড্রামা নির্মাণে মনোযোগী। এই সিনেমা ধর্ম প্রোডাকশনের ব্যানারে निर्माण পর্যায়ে থাকবে এবং ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রি-প্রডাকশনের কাজ শুরু হবে। এছাড়া, এই বছরের শেষের দিকে শুটিং শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ছবিতে দুইজন নায়ক এবং দুইজন নায়িকা থাকবেন, যার জন্য কাস্টিং প্রক্রিয়া তাড়াতাড়ি শুরু হবে।

    খবরের মধ্যে আরও বলা হয়েছে যে, এই সিনেমাটির নাম হয়তো হবে ‘কাভি খুশি কভি গাম ২’, তবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি। করণ জোহর বা ধর্ম প্রোডাকশনের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে কোনও অফিসিয়াল জাননোর প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি।

    প্রায় ২৫ বছর আগে, অর্থাৎ ২০০১ সালে, মুক্তি পেয়েছিল করণের অন্যতম ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘কাভি খুশি কাভি গাম’। এ সিনেমার জনপ্রিয়তা এবং দর্শকদের প্রশংসা এখনও অব্যাহত। এখন সেই গল্পের পরবর্তী অংশের কাজ শুরুর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, যা অনেকের জন্যই উৎসাহের।

    উল্লেখ্য, করণ জোহর তার কর্মজীবনে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘কাভি খুশি কাভি গাম’, ‘কাভি আলবিদা না কেহনা’, ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’, ‘বোম্বে টকিজ’, ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’, ‘লাস্ট স্টোরিজ’ এবং ‘রকি অর রানি কি প্রেম কাহানি’ পরিচালনা করেছেন।

  • ধর্মেন্দ্রর স্মরণসভা নিয়ে পারিবারিক বিভাজন নয়, জানালেন হেমা মালিনী

    ধর্মেন্দ্রর স্মরণসভা নিয়ে পারিবারিক বিভাজন নয়, জানালেন হেমা মালিনী

    প্রয়াত বলিউড অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর স্মরণে দুটি পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় চর্চা শুরু হয়েছিল। এই বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু সময় ধরে গুঞ্জন চালু ছিল যে, পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। একদিকে, সানি ও ববি দেওলের আয়োজনে হেমা মালিনী উপস্থিত ছিলেন না, আবার হেমার সম্পাদনায় তার আয়োজনেও সানি ও ববির প্রবেশাধিকার হয়নি। এসব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে নানা আলোচনা চলতে থাকায় এবার স্পষ্ট করে মন্তব্য করলেন হেমা মালিনী।

    ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পারিবারিক এই বিচ্ছিন্নতা কিংবা দ্বন্দ্বের বিষয়টি আসলে সত্যিই কিছু নয়। তিনি যোগ করেন, এটি শুধুমাত্র আমাদের পরিবারের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। আমি একজন রাজনীতিবিদ, ফলে আমার এই আয়োজনগুলো মূলত আমার কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব ও আবেগের প্রতিফলন। দিল্লিতে আমার রাজনৈতিক সফর ও বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য আলাদা করেই এই স্মরণসভা আয়োজন করতে হয়েছে। এছাড়া, আমার নির্বাচনী এলাকা মথুরার এলাকার মানুষের অনুভূতি ভেবে সেখানে অন্য একটি অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    হেমা মালিনী আরও জানান, তাদের পরিবারের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি বা ভাঙনের সুরাহা হয়নি। তারা সবাই তাঁদের প্রিয় অভিনেতা ধর্মেন্দ্রকে যথাযথ শ্রদ্ধা আর সম্মান জানিয়ে থাকেন।

    প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৪ নভেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র। তার প্রিয়সাধারণ আত্মীয়-স্বজন ও ভক্তরা তাকে স্মরণে মেতেছিলেন। ৩ ডিসেম্বর হরিদ্বারে ধর্মেন্দ্রর অস্থি বিসর্জনের আচার অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়, যেখানে সানি ও ববি দেওল উপস্থিত ছিলেন। তবে, এই শেষকৃত্য ও তার পরবর্তী ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দু’পক্ষের কেউ একসঙ্গে দেখা যায়নি, যা বলিপাড়ায় নানা আলোচনা ও গুঞ্জনের সৃষ্টি করে।

    উল্লেখ্য, পারিবারিক বিভাজনের গুঞ্জনকে তিনি অস্বীকার করে বলেন, ধর্মেন্দ্রর স্মৃতি ধরে রাখতে সানি দেওল বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে চলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে, মুম্বাইয়ের লোনাভেলায় অবস্থিত ধর্মেন্দ্রর ১০০ একর জমির ওপর নির্মিত ফার্মহাউসটিকে একটি মিউজিয়ামে রূপান্তর করতে পরিকল্পনা। হেমা মালিনী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি ধর্মেন্দ্রর অনুরাগীদের জন্য একটি বিশেষ উপহার হবে।

  • বিসিবি পরিচালক নাজমুলের তামিমকে ‘ভারতের দালাল’ বলে তোপ

    বিসিবি পরিচালক নাজমুলের তামিমকে ‘ভারতের দালাল’ বলে তোপ

    বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যত ও দেশের আন্তর্জাতিক মঞ্চে আপাত ভাবনা নিয়ে চলমান আলোচনায় এবার গুরুতর বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আইপিএলের স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশে ক্রিকেটাঙ্গনে নানা প্রশ্ন ওঠে। এছাড়াও, আসন্ন ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করেছে এবং সে ব্যাপারে আইসিসিকে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে, এই পরিস্থিতির মাঝে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল বিপজ্জনক মন্তব্যের শিকার হন, যেখানে বিসিবির একজন পরিচালক, নাজমুল ইসলাম, তাকে ‘ভারতের দালাল’ বলে আখ্যা দেন।

    বর্তমানে বোর্ডের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে থাকা নাজমুল ইসলাম তার এক পোস্টে তামিমের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, এইবার বাংলার জনগণ আরও একজন পরীক্ষিত ভারতীয় দালালের আত্মপ্রকাশ দেখল। এই পোস্টটি চলতি সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। তামিমের প্রতি এই অবমাননাকর ভাষায় মন্তব্যের জন্য ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

    বিসিবির সাবেক ক্রিকেটার শামসুর রহমান শুভ এ বিষয়টিকে অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, একজন ক্রিকেটারের প্রতি বোর্ডের এমন বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য এবং সম্পূর্ণ অপমানজনক। তিনি আরও যোগ করেন যে, বোর্ডের একজন কর্মকর্তা এ ধরনের মন্তব্য করবেন বললে বোর্ডের নীতিমালা ও আচরণবিধি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তিনি দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষমা চাওয়া ও জবাবদিহিতার দাবি জানান।

    অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলামও প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, আমি হতবাক হয়েছি বোর্ডের একজন পরিচালকের পক্ষ থেকে এমন বাজে মন্তব্যের জন্য। তিনি বলেন, একজন জাতীয় ক্রিকেটারের প্রতি এরকম রুচিহীন ভাষা ব্যবহার সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং ক্রিকেট সংস্কৃতির পরিপন্থি। তাঁর মতে, এই ধরনের মন্তব্য পেশাগত নৈতিকতা ও আচরণবিধির জন্য ভয়ঙ্কর। তিনি সমালোচনা করে বলেন, এমন আচরণ সাধারণত একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির জন্য মানানসই নয়। তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষমা চাওয়ার ও দায় brঅদানের দাবি জানান।

    তামিমের প্রতি এই আচরণের প্রতিবাদে আরও কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার ও বোর্ড কর্মকর্তারা সোচ্চার হন। তাসকিন আহমেদ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন বলেন, ক্রিকেট বাংলাদেশের প্রাণ। দেশের জন্য অবদান রাখা একজন সাবেক অধিনায়ককে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য দেশের ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকারক। তাঁরা আশা করেন ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করা হবে।

    তেমনি আরও একজন সাবেক অধিনায়ক, মুমিনুল হক, তার ফেসবুক পোষ্টে লিখেছেন, বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামের মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য ও অপমানজনক। তিনি বলেন, একজন ক্রিকেটারকে এইভাবে অপমান করার মতো বিষয়টি দেশের ক্রিকেট সমাজের জন্য লজ্জাজনক। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি এমন মন্তব্য করেন না। দ্রুতই ঘটনার প্রতিবাদে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিসিবির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    অবশ্য, তামিম এখনও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার, তামিম বলেন, একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ও আইসিসির সঙ্গে আলোচনা শেষে খোলাখুলিভাবে মন্তব্য করা উচিত। তিনি বলেন, যদি প্রথমে বলা হয়, আমরা ভারতে খেলবো না বা খেলবো, তার পর পরিবর্তন হলে ঠিক কী বলবেন? এভাবে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া ঠিক না। তিনি আরও পরামর্শ দেন, বোর্ড ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিক এবং পরে জানান।

    তামিম আরও বলেন, ভবিষ্যতের ভাবনা ও বাস্তবতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই উচিত। তাঁর মতে, দর্শকদের আবেগে থাকলেও পুরো বোর্ডের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত দুঃখজনক, তবে সেটি সম্ভবত সময়ের দাবি থেকেও এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও দেশের ক্রিকেটের জন্য এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।