Author: bangladiganta

  • স্পেনে ভয়াবহ ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ২১

    স্পেনে ভয়াবহ ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ২১

    স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে নিহতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২১ জন। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এখনও পরিস্থিতির গভীরে তদন্ত চলছে।

    এ দুর্ঘটনা রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে ঘটে, যেখানে লোকজনের মধ্যে শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কোরদোডা শহরের কাছের আদমুজের কাছে এই দুর্যোগক্ষেত্রটি ঘটে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালাগা থেকে মাদ্রিদের দিকে যাচ্ছিলো একটি দ্রুতগামী ট্রেন। হঠাৎ করে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়ে পার্শ্ববর্তী লাইনে আছড়ে পড়ে। পাশাপাশি, বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেন, যা হুয়েলভাগামী ছিলো, ও লাইনচ্যুত হয়।

    স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই পরিস্থিতিকে গভীর দুঃখের সময় বলে অভিহিত করেছেন, বলেছেন, এই রাতটি দেশ গভীর বেদনা সহকারে কাটাবে।

    অপরদিকে, দেশের পরিবহনমন্ত্রী ওসকার পুয়েন্তে জানিয়েছেন, অন্তত ৩০ জন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি দুর্ঘটনার কারণকে ‘অত্যন্ত অদ্ভুত’ বলে উল্লেখ করেছেন, তবে পুরো বিষয়টির বিশদ শিবির এখনো স্পষ্ট নয়।

    আদামুজ শহরের মেয়র রাফায়েল মোরেনো এই দুর্ঘটনাকে ‘দুঃস্বপ্ন’ বলে অভিহিত করেছেন, এবং দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত ছুটে যান।

    আদুলুসিয়ান ইমার্জেন্সি সার্ভিসের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন।

    ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জীবিতদের উদ্ধার করার জন্য মৃতদেহ সরিয়ে নিতে হয়েছে।

    রেল বিভাগের এক কর্মকর্তা আতিফ বলেন, ট্রেনটি মালাগা রেলস্টেশন থেকে ছাড়ার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে এই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঐ ট্রেনে মোট ৩০০ জন যাত্রী ছিলেন।

  • চীনের ঘটনাচক্রে সর্বনিম্ন জন্মহার রেকর্ড

    চীনের ঘটনাচক্রে সর্বনিম্ন জন্মহার রেকর্ড

    চীনে ইতিহাসের সবচেয়ে কম জন্মহার দেখা যাচ্ছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর শুধুমাত্র প্রতি হাজারে ৫.৬ সন্তান জন্মগ্রহণ করেছেন, যা ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর থেকে সর্বনিম্ন। এই কমতায় দেশটির জনসংখ্যা সঙ্কট আরও গভীর হয়েছে।

    সরকারের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে চীনে নবজাতকের সংখ্যা ছিল মাত্র ৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন, যা আগের বছরে থেকে প্রায় এক দশমিক ৬ মিলিয়ন কম। এই হার ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় পতন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এর ফলে শুধু জন্মহারই নয়, মোট জনসংখ্যাও কমছে। গত বছর দেশটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩৯ লাখ কমে দাঁড়িয়েছে, যার ফলে চার বছর ধরে দেশটির জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।

    বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও গবেষকরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক চাপে এবং সামাজিক পরিবর্তনের কারণে অনেক তরুণরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে নিতে দেরি করছে বা সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তান ধারণের উপযুক্ত সময়ে নারীর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা এই পরিস্থিতির মূল কারণ।

    অবশ্য, এই বিপর্যয়ের মাঝেও চীনের অর্থনীতি কিছুটা উন্নতি ঘটেছে। ২০২৫ সালে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দেশের নির্ধারিত লক্ষ্যের ঘরে। তবে, জনসংখ্যার এই ধস ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে চীনে মোট ৭৯ লাখ ২০ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করেছে, যেখানে মারা গিয়েছেন প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ মানুষ। এর ফলে দেশেরজনসংখ্যা কমে গেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। তবে বিয়ের সংখ্যাও কমে গিয়ে সাম্প্রতিক চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে নিচে পৌঁছেছে, যেখানে মাত্র ৬ দশমিক ১ মিলিয়ন দম্পতি নিবন্ধন করেছেন বিয়ের জন্য, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০% কম। একদিকে বিবাহবিচ্ছেদের হার কিছুটা বেড়ে গেছে।

  • গুতেরেসের মন্তব্য: যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে ‘গায়ের জোর’কেই প্রাধান্য দিচ্ছে

    গুতেরেসের মন্তব্য: যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে ‘গায়ের জোর’কেই প্রাধান্য দিচ্ছে

    জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উল্লেখ করেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন দায়মুক্তির ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে নিজের শক্তি ও ‘গায়ের জোর’কেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের হাতে বহুপক্ষীয় সমাধান কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি রেডিও ফোরের ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গুতেরেস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্পষ্ট বিশ্বাস তৈরি হয়েছে যে বহুপাক্ষিকতা কার্যকর নয়। তার মতে, এখন যা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় তা হলো—যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ও প্রভাবের প্রয়োগ, অনেক সময় এটি আন্তর্জাতিক আইনের নিয়মকানুনকে বিনা বাধায় পাশ কাটিয়ে হয়। তার মন্তব্যগুলি এমন এক সময়ে এসেছে যখন সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়েছে এবং দেশটির প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি, ট্রাম্পের Greenland দখলের হুমকিও এই পরিস্থিতিকে আরও জোরদার করেছে। গুতেরেস বলেন, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার মূল নীতিগুলোর মধ্যে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমতা অন্যতম, কিন্তু বর্তমানে এই নীতি হুমকির মুখে। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের কঠোর সমালোচনা করেন এবং উল্লেখ করেন, তিনি একাই অনেক যুদ্ধ শেষ করেছেন, তবে জাতিসংঘ এ বিষয়ে কোনও সাহায্য করেনি বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘পরে বুঝেছি, জাতিসংঘ আমাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সেখানে ছিল না।’ এই কঠোর মূল্যায়নের পর গুতেরেস স্বীকার করেন যে, জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন মানাতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে তিনি বলছেন, বড় বড় বৈশ্বিক সংকটের মোকাবিলায় জাতীয় সংগঠনটির ভূমিকা এখনও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই অতিরিক্ত শক্তি কি সত্যিকারভাবে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে ব্যবহার হচ্ছে, না কেবল সাময়িকভাবে। গুতেরেস বলেন, পার্থক্য আছে এই দুটি পরিস্থিতির মধ্যে। তিনি জানান, জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের সামনে ‘ভয়াবহ সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ’ মোকাবিলায় সংস্থাটির সংস্কার জরুরি, যাতে এর ক্ষমতা ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষ মনে করেন, আইনের শাসনের বদলে শক্তির আইন প্রতিষ্ঠা করা উচিত।’ তার মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগুলোর মধ্যে এক স্পষ্ট ধারণা কাজ করছে—বহুপক্ষীয় সমাধান গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং তার প্রভাব ও শক্তি প্রয়োগই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, অনেক সময় তা আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে। তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও সমালোচনা করেন, জানান, বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতিকে প্রতিনিধিত্ব করছে না এই পরিষদ এবং কার্যকর নয়। স্থায়ী পাঁচ সদস্য—ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র—যারা ভেটো ক্ষমতা ব্যবহারে সক্ষম, তারা এই ক্ষমতা ব্যবহার করে ইউক্রেন ও গাজায় চলমান যুদ্ধের সমাধানে বাঁধা সৃষ্টি করছে। গুতেরেস বলেন, ভেটো ক্ষমতা এখন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ রক্ষার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি নিরাপত্তা পরিষদের গঠনে পরিবর্তনের আহ্বান জানান, যাতে এটি আবার বৈধতা ফিরে পায় এবং বিশ্বব্যাপী কণ্ঠস্বর শোনা যায়। তিনি ভেটো ক্ষমতা সীমিত করার জন্যও প্রকাশে যুক্ত হন, যেন অপ্রয়োজনীয় অচলাবস্থা এড়ানো যায়। ২০১৭ সালে পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘের মহাসচিব পদে আসীন হন গুতেরেস, তিনি এ বছরের শেষের দিকে দায়িত্ব থেকে অবসর নেবেন। তাঁর বার্ষিক সংশ্লেষণে, যেখানে সংস্থার অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়, তিনি বিশ্ব পরিস্থিতিকে ‘সংঘাত, দায়মুক্তি, বৈষম্য এবং অনিশ্চয়তা ভরা এক বিশৃঙ্খল বিশ্ব’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। গুতেরেস উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধগুলো জাতিসংঘের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, যার মধ্যে গাজা রয়েছে। গাজার পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ বেশ কষ্টে পড়েছে কারণ, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। তিনি জোড়ালোভাবে বলেন, ‘অবশ্যই, তবে বিষয়টি স্পষ্ট করা দরকার। দীর্ঘকাল ধরে ইসরায়েল বলছিল যে, জাতিসংঘ সক্ষমতা না থাকায় মানবিক সহায়তা দিতে পারছে না। বোঝা যায়, যখনই ইসরায়েল গাজায় প্রবেশ করে, তখন পরিস্থিতি বদলায় এবং মানবিক সহায়তা প্রবাহিত হয়। তিনি যোগ করেন, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে, জাতিসংঘ প্রস্তুত ছিল। কিছু দিন আগে গুতেরেস বলেন, ‘১৯৪৫ সালের সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি দিয়ে ২০২৬ সালের সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়।’ এর মাধ্যমে তিনি সংস্থার প্রাথমিক কাঠামো এবং বর্তমান চ্যালেঞ্জের দিকে ইঙ্গিত করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব পরিবর্তন, ভেনেজুয়েলায় চাপ, ইরান ও অন্যান্য দেশে চলছে বিশ্লেষণে বিভিন্ন সংকট—এসব কিছু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। প্রশ্ন উঠছে, বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা কি সত্যিই শেষ হয়ে গেছে, বা কিছু বিশ্বনেতা কি আন্তর্জাতিক আইনের শাসন রক্ষা করতে মুখ না খুলে আত্মতৃপ্তিতে রয়েছেন? তবে গুতেরেস আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, মানুষ অনেক সময় শক্তিশালীদের মুখোমুখি হতে ভয় পায়, তবে সত্য হলো—যদি শক্তিশালীদের মোকাবিলা না করা যায়, তাহলে একটি উন্নত ও আরও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়া সম্ভব নয়।

  • নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আনলেন ট্রাম্প

    নোবেল শান্তি পুরস্কার না পেয়ে পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আনলেন ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যেহেতু তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাননি, তাই তিনি এখন শুধুই শান্তির পশ্চাতে মনোযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরকে তিনি জানান, তিনি এই সিদ্ধান্তে আসার কারণ হলো, দীর্ঘ সময় শান্তির জন্য কাজ করার পরও তার দেশে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত। ট্রাম্প বলেছেন, ‘৮টির বেশি যুদ্ধ বন্ধ করার পরও আপনি আমাকে পুরস্কার দেননি, তাই এখন আমি কেবল শান্তির কথাই ভাবার বাধ্যবাধকতা অনুভব করি না।’ তবুও শান্তি বিষয়টি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে, তবে এখন তিনি দেশের জন্য কী উপকারী ও উপযুক্ত, সেই বিষয়েও ভাবতে পারেন।

    এছাড়া, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের ওপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যদি এর নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তবে দ্বীপটির নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা থাকতেই পারে। তিনি বলেন, ‘ডেনমার্ক এই ভূখণ্ডকে রাশিয়া বা চীন থেকে রক্ষা করতে পারবে না… যদি আমাদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তবে বিশ্ব নিরাপদ নয়।’

    সংবাদ সূত্রে জানা যায়, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোর চিঠির বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। এই চিঠি তারা ট্রাম্পকে পাঠানোর পর, বিষয়টি তাদের আলোচনায় এসেছে। পরবর্তীতে, নরওয়ের অংশীদার ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাবের সঙ্গে যৌথভাবে ট্রাম্পের কাছে এই বার্তা পাঠানো হয়েছিল, যেখানে মার্কিন শুল্কনীতির বিরোধিতা করা হয়।

    স্টোর আরো বলেন, তারা এই উত্তেজনা কমানোর জন্য উদ্যোগ নিচ্ছেন এবং ট্রাম্প, প্রেসিডেন্ট স্টাব ও নিজেকে নিয়ে ফোনালাপে যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছেন। নরওয়ের অবস্থান এখনো গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে তাদের শক্তিশালী থাকছে।

    অভিযোগ করেন যে, নরওয়ে সরকার এই পুরস্কার দেয় না, এটি স্বাধীন নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি দিয়ে থাকে। এরপর, ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যমে একই বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করেন ও আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করে বলেছেন, এটা মোকাবিলার জন্য এখনই সময়।

  • স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯

    স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯

    স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। দেশটির সিভিল গার্ডের বরাতে বিবিসি জানাচ্ছে, এটি গত এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে স্পেনের সবচেয়ে মারাত্মক রেল দুর্ঘটনা।

    ঘটনাটি ঘটে সোমবার সন্ধ্যায় কর্দোবা শহরের কাছে আদামুজ এলাকায়। যেখানে মাদ্রিদগামী একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয় এবং বিপরীত লাইনে চলে যায়। এরপর ওই ট্রেনের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই দুর্ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা ঘটে।

    রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, মোট প্রায় ৪০০ জন যাত্রী এই দুর্ঘটনায় উপস্থিত ছিলেন। উদ্ধার কার্যক্রমে ১২২ জনকে চিকিৎসা দেওয়া hasiে, যার মধ্যে পাঁচ শিশু সহ ৪৮ জন এখনও হাসপাতালে ভর্তি। এর মধ্যে গুরুতর আহত ১১ জনের সঙ্গে একটি শিশু আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

    আদিফ রেল নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে (গ্রিনিচ সময় ৬টা ৪৫) এই দুর্ঘটনা ঘটে। মালাগা থেকে মাদ্রিদগামী ট্রেনটি যাত্রা শুরু করার এক ঘণ্টার মাথায় সোজা একটি রেলপথে লাইনচ্যুত হয়।

    স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে এই ঘটনার জন্য ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেন, সব রেল বিশেষজ্ঞ এই দুর্ঘটনাকে অবিশ্বাস্যভাবে দেখছেন। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল তার তদন্ত শুরু হয়েছে।

    দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ থেকে হুয়েলভাগামী ট্রেনের কয়েকটি বগি পাশের মাটি ও ঢিবির দিকে ছিটকে পড়ে। পরিবহনমন্ত্রী বলেন, নিহত ও আহত most জনের বেশিরভাগই ওই ট্রেনের সামনের দিকের বগিতে ছিলেন।

    রয়টার্সের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনায় কবলে পড়া দ্বিতীয় ট্রেনটি ছিল ফ্রেচ্চিয়া ১০০০ মডেলের, যার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটার।

    উদ্ধারকর্মীরা এখনো পুরোপুরি ট্রেনে রয়ে যাওয়া যাত্রীদের উদ্ধার কাজে ব্যস্ত। কর্দোবার ফায়ার সার্ভিসের প্রধান ফ্রান্সিসকো কারমোনা RTভিতে বলেন, “উদ্ধার কাজ অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ।”

    প্রভাবের কারণে, স্পেনের মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়া মধ্যকার সব রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সোমবার এই রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

    বেসরকারি রেল কোম্পানি ইরিও জানায়, মালাগা থেকে আসা ট্রেনটিতে প্রায় ৩০০ যাত্রী ছিলেন, এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রেনফে পরিচালিত ট্রেনটিতে ছিলেন প্রায় ১০০জন।

    এখনো দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানা যায়নি। পরিবহনমন্ত্রী জানাতে পারেন, এই তদন্তের ফলাফল পেতে কমপক্ষে এক মাস সময় লাগবে।

    স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এটি দেশের জন্য ‘গভীর বেদনার মুহূর্ত’। পাশাপাশি রাজার ফেলিপে ষষ্ঠ ও রানি লেতিসিয়া নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, চীনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চগতির রেল নেটওয়ার্ক স্পেনের। এই রেল ব্যবস্থা দেশের ৫০টির বেশি শহরকে সংযোগ করেছে।

  • ঝিনাইদহ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজকে দল থেকে বহিষ্কার

    ঝিনাইদহ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফিরোজকে দল থেকে বহিষ্কার

    ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজকে বিএনপি কঠোরভাবে বহিষ্কার করেছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে সংগঠন থেকে বাদ দেওয়া হয়।

    বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দলের গঠনতন্ত্রের ৫(গ) ধারা অনুযায়ী, সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সকল পর্যায়ের সদস্যপদসহ সাংগঠনিক পদসমূহ থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার করা হয়েছে। এটি শুধু বিএনপির কেন্দ্রীয় পদ নয়, সঙ্গে সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ সব পর্যায়ের পদ থেকেও তাঁকে ছাঁটাই করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এই বহিষ্কার আদেশ আগামীদিনে কার্যকর হবে। এছাড়াও, বহিষ্কার সংক্রান্ত নথি খুলনা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদকা অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

    বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, দল ভবিষ্যতেও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে দলের শৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং দলের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।

  • খুলনায় ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

    খুলনায় ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে খুলনার ছয়টি নির্বাচনী আসনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দিনে ব্যাপক এই কার্যক্রমের মাধ্যমে পাঁচজন প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীদের মধ্যে খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা রয়েছেন।

    খুলনার এই ছয়টি আসনে মোট প্রার্থী ছিল ৪৩ জন, তবে আজকের শেষে পাঁচজনের মনোনয়ন প্রত্যাহার হওয়ায় এখন মোট প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৮। অর্থাৎ, বর্তমানে এই ছয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৮ প্রার্থী।

    বিশেষভাবে উল্লেখ্য, প্রত্যাহার করা প্রার্থীরা হলেন: খুলনা-১ থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফিরোজুল ইসলাম, খুলনা-২ থেকে খেলাফত মজলিসের মো. শহিদুল ইসলাম, খুলনা-৩ থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হারুনুর রশীদ, খুলনা-৪ থেকে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মোঃ কবিরুল ইসলাম, এবং খুলনা-৫ থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আব্দুল কাইয়ুম জমাদ্দার। তারা সবাই নিজেদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

    অপরদিকে, আগামীকাল প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। এই সময়ে প্রার্থীরা তাদের ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নির্বাচনী মতবিনিময় ও প্রচার কার্যক্রম চালাবেন।

  • খুলনা-১ আসনে সুনীল শুভ রায়ের ১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

    খুলনা-১ আসনে সুনীল শুভ রায়ের ১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ আসনে জাতীয় সম্মিলিত জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সুনীল শুভ রায়। আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

    সুনীল শুভ রায় আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই ইশতেহার ভিত্তি করে তিনি জনগণের আস্থা অর্জন করতে চান। এটি খুলনায় প্রথমবারের মতো কোনও সংসদপ্রার্থী তার নিজ থেকে ইশতেহার প্রকাশ করলেন। এছাড়া, তিনি জানান, তিনি এবার মোট তিনটি প্রতীক পেয়েছেন—মোমবাতি, যা বাংলাদেশের ইসলামী ফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক। ইসলামী ফ্রন্টের অন্য কোন প্রার্থী না থাকায়, এই প্রতীকেই তিনি নির্বাচন করছেন বলে তিনি আরও জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি অঙ্গীকার করেন যে, তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ধর্মীয় মূল্যবোধকে ভিত্তি করে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি করবেন। একই সঙ্গে, তিনি রাজনীতি থেকে বিরোধপূর্ণতা ও হিংসা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    অতিরিক্ত দফাগুলির মধ্যে রয়েছে, দাকোপ ও বটিয়াঘাটার সব স্তরের জনগণের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা; সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, দখলদারিত্ব ও মাদক মুক্ত করতে সর্বদা অবদান রাখা; প্রশাসনকে সহযোগিতার মাধ্যমে এই এলাকাগুলোকে দস্যু, ডাকাত ও ছিনতাইমুক্ত করা; পর্যটন শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করে নতুন শিল্পের প্রবেশের জন্য বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা; যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে পানখালী ও পোদ্দারগঞ্জে সেতু নির্মাণ; নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান ও খনন কাজ করা; গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীনদের জন্য বাসস্থান সৃষ্টি; নদী বা খাল খনন ও ব্যবহারে কৃষি সেচের সুবিধা বাড়ানো; রাস্তা-সড়ক উন্নয়ন ও সংস্কার; পানীয় জলের জন্য আবাসিক পানি সরবরাহ প্রকল্প; শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধির দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকাটির জীবনমান উন্নত করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

    এছাড়া, তিনি সরকারি বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকীকরণ ও উন্নত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। প্রত্যেক ইউনিয়নে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন, অবিচল দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, ও জনতার সরাসরি অংশগ্রহণে সরকারের কার্যক্রমে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি ও জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    সুনীল শুভ রায় আরও বলেন, আমার জন্য কিছু চাওয়া-পাওয়া নেই। অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শেখার প্রয়োজন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বটিয়াঘাটা ও দাকোপ উপজেলার জাতীয় পার্টি (রওশন) ও এর অঙ্গসংঘঠনের নেতৃবৃন্দ।

  • পিএসসির আলোচিত ড্রাইভার আবেদ আলীর ছেলে সিয়াম গ্রেপ্তার

    পিএসসির আলোচিত ড্রাইভার আবেদ আলীর ছেলে সিয়াম গ্রেপ্তার

    বাংলাদেশের সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) এর সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গ্রেপ্তার করেছে। তার বিরুদ্ধে প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।

    আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সৈয়দ সোহানুর রহমান অর্থাৎ সিয়ামকে দুপুর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের আশেপাশে ঘোরাঘুরি অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়।

    সিয়াম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহ-সম্পাদক ছিলেন।

    দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি, তার নামে ৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা অবৈধ সম্পদ এবং প্রায় ৪৫ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আজ সেসব মামলার নিষ্পত্তিতে সিয়ামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সিআইডি পুলিশ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। সেই সময় বিচারের জন্য তদন্ত শুরু করে দুদক।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এর আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রে আবেদ আলী ও তার ছেলে সোহানুর রহমান সিয়াম জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এই সমস্ত ঘটনা বাংলাদেশের একাধিক উচ্চপ্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নামে চারিদিকে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা দেশের ভাবমূর্তি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের বার্তা দেয়।

  • আপনার ভোটের অধিকার, যা খুশি তাতে দিতে পারেন

    আপনার ভোটের অধিকার, যা খুশি তাতে দিতে পারেন

    খাদ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেছেন, ভোটের ব্যাপারে আপনাদের কাছে ভোট প্রার্থীরা আসবেন এবং এটি তাদের অধিকার। পাশাপাশি, কাকে ভোট দিবেন, সেটা কিনা আপনার একটি স্বতন্ত্র অধিকার। এই গুরুত্বপূর্ণ অধিকার কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া হবে না, সেটি নিশ্চিত করবেন নির্বাচন কমিশনের অধীনস্থ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা। আপনি যার পক্ষে মনোযোগী, তারই পক্ষ ভোট দিবেন, এটা হচ্ছে সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এই প্রক্রিয়াকে কেউ বাধা দিতে পারবেনা বা বাঁধা সৃষ্টি করতে পারবে না।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বাগেরহাট সদর উপজেলার মাজার সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত গনভোটের প্রচার এবং ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।

    তিনি আরও বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে এই ভোটের উপর। যে মানুষটি ভোটে হ্যাঁ বলবে, সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কিভাবে দেশ চলবে তা নির্ধারিত হবে। দেশের দায়িত্ববাহী মানুষ নির্বাচন করবে আপনারা, সুতরাং এই ভোট গুরুত্বপূর্ণ। আগামী পাঁচ বছরে দেশের চলার পথ কোনদিকে যাবে, সেটি আপনাদের ভোটের উপর নির্ভর করছে। তাই সবাইকে এই গণভোটে অংশগ্রহণের অনুরোধ করেন তিনি।

    বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী, জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ আবু আনসার, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মুইনুল ইসলাম। এতে শিক্ষক, ইমামসহ সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    অপর দিকে, একই দিনে সকালেই গনভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে ইসলামী ফাউন্ডেশন অনুমোদিত বাগেরহাট জেলা পর্যায়ের ইমাম সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এ সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: মমিনুর রহমান এবং প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন।

    শ্রেষ্ঠ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু আনসার, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুইনুল ইসলাম, কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবুল কালাম শাহেঅসহ বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব।

    সম্মেলনে গণভোটের গুরুত্ব, জাতীয় নির্বাচন এবং যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করার বিষয়গুলি আলোচনা হয়। বিশেষ করে, মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আলোচনা করে গণভোটের গুরুত্ব ও সংসদ নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অপরিহার্যতা তুলে ধরা হয়। এ দায়িত্বে থাকা ইমামদের প্রতি বিশ্বাস এবং তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বসহকারে অনুরোধ জানানো হয়।

    জেলা পর্যায়ের এই ইমাম সম্মেলনে প্রায় ৫ শতাধিক ইমাম অংশগ্রহণ করেন।