সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের ভক্তকরো সমাবেশে জনসমাগমে মুখরিত হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিএনপি প্রধান তারেক রহমান নিরাপত্তার জন্য কড়া ব্যবস্থা নিশ্চিত করে মঞ্চে উঠেন। তার উপস্থিতি মুহূর্তে পুরো এলাকাজুড়ে উচ্ছ্বাসের ঝঙ্কার উঠে আসে, করতালির মধ্যে তারেক রহমান মাথা উঁচু করে দাঁড়ান। হাস্যোজ্জ্বল মুখে তিনি নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান এবং হাত নেড়ে উত্তর দেন। মঞ্চে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ছয় দিন ধরে চলমান প্রচারণা আজ কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে, যা ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। সকাল থেকেই সিলেটের চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা, মেডিকেল সড়ক, দরগা সড়কসহ আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের আনাগোনা চোখে পড়ে। ছয়টি নির্বাচনি আসনের প্রার্থী এবং সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনের প্রার্থীসহ হাজারো নেতা-কর্মী এই সমাবেশে অংশ নেন, যেখানে তারা তাদের জলস্থল সমর্থকদের সঙ্গে মিলিত হন। পুরো এলাকা জনসমুদ্রে রূপ নেয়, যা এক বিশাল গণসমাবেশে পরিণত হয়।
Author: bangladiganta
-

বাংলাদেশে ইসলামপন্থি প্রার্থীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বেড়েছে: টিআইবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলের প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থীর প্রায় ৩৬ শতাংশই ইসলামপন্থি দল থেকে দাঁড়িয়েছেন, যা বিগত পাঁচটি নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ হার।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনের মূল বিষয় ছিল নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ নিয়ে তৈরি প্রতিবেদন। এ উদ্যোগটি গ্রহণ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।
ইফতেখারুজ্জামান উল্লেখ করেন, আমাদের রাজনীতিতে অর্থ, পেশি শক্তি এবং ধর্মের সংমিশ্রণে একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এটি দেশের সুস্থ রাজনীতি ধীরেধীরে গভীর জটিলতায় নারীপুর্ণ হয়ে উঠছে। তিনি বলছেন, বর্তমান রাজনীতির অঙ্গনে যারা অর্থ, পেশি এবং ধর্মের অপব্যবহারে যুক্ত তারা মূলত ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
বিশেষ করে জমির ব্যাপারে তিনি বলেন, একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ৫০ একর জমির বেশি মালিক হতে পারেন। তবে, আইন অনুযায়ী এই সীমা লঙ্ঘন করলে প্রার্থীতার বৈধতা বাতিল হতে পারে। তবে, এই বিষয়ে বাস্তবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব অন্য সংস্থাগুলোর। তিনি মনে করেন, অবৈধভাবে অতিরিক্ত জমির মালিক হলে সেই সম্পদ রাষ্ট্রের বাজেয়াপ্ত করে জনসাধারণের কল্যাণে ব্যবহার করা উচিত।
বৃহস্পতিবারের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। চূড়ান্ত প্রার্থী সংখ্যা হলো ১৯৮১ জন। এর মধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশ প্রার্থী স্বতন্ত্র।
নারীদের অংশগ্রহণের ব্যাপারে ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, নারীর সংখ্যা খুবই নগণ্য। জুলাইয়ে নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা কেউই পূরণ করতে পারেনি।
অর্থসম্পদ অনুযায়ী, এই নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫১ জন। এছাড়াও, সম্পদের মূল্যের ভিত্তিতে শতকোটিপি প্রার্থীর সংখ্যা ২৭। উল্লেখ্য, দুজন প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্বের স্বীকৃতিপ্রমাণ না থাকলেও জানা গেছে তারা ব্রিটিশ নাগরিক। একজনের বিদেশে সম্পদের তথ্য প্রকাশিত না হলেও, তার স্ত্রীর নামে দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাটের মালিকানা রয়েছে বলে দাবি করেছেন টিআইবি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টিআইবির পরিচালক মোহাম্মদ তৌহাম্মদ, সহকারী কো-অর্ডিনেটর কে এম রফিকুর আলম, ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর জাফর সাদিক ও আরো অন্যরা।
-

রিট খারিজ, গফুর ভূঁইয়া কুমিল্লা-১০ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) হাইকোর্টে দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে কুমিল্লা-১০ আসনে (লালমাই-নাঙ্গলকোট) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্যতার রায় ঘোষণা করেন। আদালত এই রিট খারিজ করে দেন, ফলে তিনি ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আদালতের বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম এই আদেশ imagine করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে, অভিযোগকারী প্রার্থী কাজি নুরে আলম সিদ্দিকি এই বিষয়ে আপিল করেছিলেন। তারপরে, ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন একাদশে আপিলের শুনানি শেষে গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ২০ জানুয়ারি, নির্বাচন কমিশন দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে গফুর ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বাতিল করে। তার বিরুদ্ধে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন ভিন্ন পক্ষের আইনজীবীরা, আর মোটামুটি রাজনৈতিক প্রচারণার মধ্য দিয়ে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। এই পরিস্থিতিতে, বিএনপি মনোনীত এই প্রার্থী এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্যতা পেয়েছেন, যা মূলত তার নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগের কারণে।
-

গণতন্ত্র কেবল জাতীয় নয়, স্থানীয় পর্যায়েও কার্যকর করতে হবে : তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গণতন্ত্রের ধারণা কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় বা জাতীয় স্তরে সীমাবদ্ধ নয়, সেটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থারও অঙ্গ হিসেবে কার্যকর হতে হবে। তিনি emphasize করেন যে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও অন্যান্য স্থানীয় পর্যায়ের কমিউনিটিতে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক চর্চা প্রতিষ্ঠা ছাড়া নাগরিকসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে ‘সিলেটে দ্য প্ল্যান, ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে তরুণদের সঙ্গে সরাসরি কথ-pacedন করেন তিনি। সেখানে তরুণদের অনুভূতি ও মতামত শুনে তাদের জন্য দিকনির্দেশনা দেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘হাজার বছর ধরে আমরা গণতন্ত্রের চর্চা করে আসছি, আর উন্নত দেশগুলো দেখলাম—ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই গণতন্ত্রের সক্রিয়তা রয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের সংখ্যা দাঁড়ায় খুবই কম, যার ফলে অনেক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে সীমিত সম্পদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হয়।
তারেক রহমান বলেন, হাসপাতাল নির্মাণের জন্য জমি অধিগ্রহণ, বাজেট ও টেন্ডার প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় নিয়ে থাকে। কিন্তু রোগীরা সেই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা পায় না। তাই এই সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত গণমুখী উদ্যোগ হিসেবে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন সম্ভব নয়, তবে উন্নত দেশগুলোর মতো নির্দিষ্ট রোগের জন্য নির্দিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকা দরকার।
প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে মৌলিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এতে ঘরে ঘরে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে এবং হাসপাতালে চাপ কমবে।
বিদেশে অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর বিষয়েও আলোকপাত করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রতি বছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বিদেশে যায়, তাদের মধ্যে অনেকই অদক্ষ। এর ফলে তারা দেশের অর্থনীতি থেকে পর্যাপ্ত অবদান রাখতে পারেন না। তাই কারিগরী ও ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করতে হবে, যেখানে ভাষা শিক্ষাও যুক্ত থাকবে, যাতে তরুণরা জাপান, ইউরোপ কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে দক্ষ হিসেবে কাজ করতে সক্ষম হন।
নারী ক্ষমতায়নের বিষয়েও তারেক রহমান উল্লেখ করেন, বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে মানোন্নয়নশীল প্রকল্পের মাধ্যমে মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা শুরু হয়, যা আজ বড় অগ্রগতি দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার পরিকল্পনা করছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর, যা পরিবারের প্রধান নারীর নামে দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ অর্থ বা খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।
তিনি জানান, গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা অর্থ লাভ করলে তা সন্তান শিক্ষায়, পরিবারের স্বাস্থ্যে ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যয় করে মাতৃত্ব ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি সচল হয় এবং নারীর সামাজিক মর্যাদা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হয়।
প্রতিবেশবিদের সঙ্গে সংবাদ দিচ্ছেন, পরিবেশের সুরক্ষার সঙ্গে গণতন্ত্রের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার থাকলে শহরের ময়লা ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণের মতো সমস্যা সহজে সমাধান সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সেই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বিএনপি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশজুড়ে ৮০ কোটি গাছের বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রতিটি উপজেলায় সরকারি নার্সারির মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে চারা বিতরণ করা হবে।
কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি বাস্তবতা, তবে অন্যায় হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কৃষকদের জন্য বাস্তব ও কার্যকর সহায়তা দিতে হবে যাতে তারা প্রকৃত সুবিধা পায়।
-

টিআইবি: ত্রয়োদশ নির্বাচনে ইসলামপন্থি প্রার্থীর সংখ্যা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো থেকে প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ডা. ইফতেখারুজ্জামান। তাঁর ভাষ্য, মোট প্রার্থীর কাছাকাছি ৩৬ শতাংশের বেশি একই ধরনের দল থেকে এসেছে—গত পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ হার।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির আয়োজিত ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে অর্থ, পেশি ও ধর্ম একসঙ্গে মিশে যাওয়ায় সুষ্ঠু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ঝুঁকিতে পড়ছে। ‘‘ক্রমশ সুস্থ রাজনৈতিক ধারার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে; অসুস্থ রাজনীতির ধারক–বাহকরা সেই খালি জায়গা দখল করে নিচ্ছে,’’ তিনি মন্তব্য করেন।
প্রার্থী ও সম্পদ সংক্রান্ত কিছু সমস্যার ওপরও মনোনিবেশ করেন তিনি। তিনি জানান, কৃষি জমির ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির ৫০ একরের বেশি জমি রাখতে পারার কথা নয়; কিন্তু এই সীমা লঙ্ঘন করলে প্রার্থিতা বাতিলের সুনির্দিষ্ট আইনগত বিধান এখনো আমাদের জামানত আইন বা নির্বাচনশাসনতন্ত্রে নেই। সে কারণে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নিতে টিআইবি সীমাবদ্ধতা দেখছে। তবু তিনি অনুরোধ করেন, যে কেউ বৈধ সীমা লঙ্ঘন করেছে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর ব্যক্তিগত মতামত, অবৈধভাবে অধিক জমির মালিক যারা হয়েছেন তাদের অতিরিক্ত সম্পদ ও জমি রাষ্ট্র বাজেয়াপ্ত করে রাজনৈতিকভাবে ভূমিহীণদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করার সুপারিশ রয়েছে।
টিআইবির দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, এ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনীতিক দল অংশ নিয়েছে এবং চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১,৯৮১ জন। এছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ১৩ শতাংশই স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।
নারী প্রার্থীর অংশগ্রহণ সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, ‘‘প্রতিবারের মতো এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নগণ্য। জুলাই মাসে প্রস্তাবিত পাঁচ শতাংশ নারী প্রার্থীর লক্ষ্য কোনো রাজনৈতিক দলই পূরণ করতে পারেনি।’’
অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী প্রার্থীর সংখ্যা নিয়েও টিআইবি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য অনুসারে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ৯৫১ জন। অন্য একটি পরিমাপে ২৭ জনকে শতকোটিপতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আনমতে দু’জন প্রার্থীর বিষয়ে টিআইবির কাছে বৈধ দ্বৈত নাগরিকতার তথ্য অনুসারে তারা বিদেশি নাগরিকত্বধারী বলে সন্দেহ আছে, কিন্তু তারা হলফনামায় তা উল্লেখ করেননি; টিআইবি দাবি করেছে তারা ব্রিটিশ নাগরিক। এক প্রার্থীর নিজের বিদেশি সম্পদের তথ্য না থাকলেও তাঁর স্ত্রীর নামে দুবাইয়ে একটি ফ্ল্যাটের মালিকানার তথ্যও প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলণে আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবি পরিচালক মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সহকারী কো-অর্ডিনেটর কে এম রফিকুর আলম, ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর জাফর সাদিক ও সহকারী কো-অর্ডিনেটর রিফাত রহমান।
-

রূপগঞ্জে জিয়াউল আহসানের ফ্ল্যাট সিলগালা
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলার প্রেক্ষিতে সাবেক এনটিএমসি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অবঃ) জিয়াউল আহসান এবং 그의 স্ত্রীর নামে থাকা একটি ফ্ল্যাট সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন।
বুধবার দুপুরে জলসিঁড়ি প্রজেক্টের ১২ নম্বর সেক্টরের ৫০৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর প্লটে অবস্থিত আটতলা ভবন ‘জয়িতা’-র তৃতীয় তলার ওই ফ্ল্যাটটি সিলগালা করা হয়। অভিযানটি পরিচালনা করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের আরডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার পারভেজ।
প্রশাসন জানিয়েছে, ভবনের অন্যান্য ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া থাকায় এবং সেখানে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করায় সেগুলো আপাতত সিলগালা করা হয়নি। অভিযানে পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো দেলোয়ার হোসেন, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদার আবুল কালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পেছনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ এপ্রিল আদালত জিয়াউল আহসানের নামে থাকা এক বাগানবাড়িসহ চারটি বাড়ি এবং তিনটি ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তার নামে থাকা নয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করারও আদেশ দেন, যেগুলোতে জমা থাকা অর্থের মোট পরিমাণ এক কোটি ২৮ লাখ টাকা বলে বলা হয়েছে। ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোঃ জাকির হোসেন বিভিন্ন কৃষিজমিও জব্দের আদেশ দেন।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, রূপগঞ্জে জিয়াউল আহসানের নামে একটি আটতলা বাড়ি, বরিশালে একটি বাগানবাড়ি, একটি একতলা বাড়ি ও নির্মাণাধীন আরেকটি আটতলা ভবন রয়েছে। তার তিনটি ফ্ল্যাট আছে—মিরপুর, উত্তরা ও মিরপুর ডিওএইচএসে।
দুর্নীতির অভিযোগের সূত্রে গত বছরের ২৩ জানুয়ারি দুদক জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি নিজ নামে ২২ কোটি ২৭ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে ৫৫ হাজার মার্কিন ডলার জমা রাখার অভিযোগও রয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, তার আটটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব অর্থ স্ত্রীর সহায়তায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে।
দুদকের মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত বছরের ৭ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।
-

ঢাকা-১৭: তারেক রহমানের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীক গ্রহণ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয় থেকে ধানের শীষ প্রতীকের নিকটতম নিলেজ পাওয়া যায় এবং প্রতীক গ্রহণ করেন ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সাবেক সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম।
প্রতীক গ্রহণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মনিরুল ইসলাম জানান, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার তারেক রহমানকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ করেছেন। তিনি বলেন, সব প্রার্থীর কাছে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার। তিনি আরও জানান যে, যুবক থেকে শুরু করে সব শ্রেণির ভোটাররা তারেক রহমানকে সমর্থন করে ভোট দিতে প্রস্তুত।
একই দিনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জমানকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় শেষে বুধবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করে। প্রতীকপ্রাপ্ত প্রার্থীরা বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন।
ইসির ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী নির্বাচনী ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সমান্তরালভাবে পৃথক ব্যালটে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
-

বিএনপি বহিষ্কার করল ৫৯ বিদ্রোহী প্রার্থী
দলীয় সিদ্ধান্ত না মানায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি ৫৯ জন বিদ্রোহী প্রার্থীকে দল থেকে বহিস্কার করেছে। বুধবার এই সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ করা হয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বহিষ্কৃত নেতাদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব স্তরের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আগেই ৩০ ডিসেম্বর বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ১১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
নীচে বিভাগভিত্তিক বহিষ্কৃত তালিকা দেওয়া হল:
রংপুর বিভাগ: দিনাজপুর-২ আ ন ম বজলুর রশিদ, দিনাজপুর-৫ এ জেড এম রেজয়ানুল হক এবং নীলফামারী-৪ রিয়াদ আরাফান সরকার রানা।
রাজশাহী বিভাগ: নওগাঁ-৩ পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি, নাটোর-১ তাইফুল ইসলাম টিপু ও ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন, নাটোর-৩ দাউদার মাহমুদ, রাজশাহী-৫ ইসফা খাইরুল হক শিমুল ও ব্যারিস্টার রেজাউল করিম, পাবনা-৩ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এবং পাবনা-৪ জাকারিয়া পিন্টু।
খুলনা বিভাগ: কুষ্টিয়া-১ নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, নড়াইল-২ মনিরুল ইসলাম, যশোর-৫ অ্যাডভোকেট শহিদ ইকবাল, সাতক্ষীরা-৩ ডা. শহীদুল আলম, বাগেরহাট-১ ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ এবং বাগেরহাট-৪ প্রার্থী খায়রুজ্জামান শিপন।
বরিশাল বিভাগ: বরিশাল-১ আব্দুস সোবহান এবং পিরোজপুর-২ মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন।
ঢাকা বিভাগ: নারায়ণগঞ্জ-১ (সাবেক সদস্য ও জেলা বিএনপি নেতা) মোহাম্মাদ দুলাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-২ মো. আতাউর রহমান খান আঙুর, নারায়ণগঞ্জ-৩ অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম, টাঙ্গাইল-১ মোহাম্মাদ আলী, টাঙ্গাইল-৩ লুৎফর রহমান খান আজাদ, টাঙ্গাইল-৫ ফরহাদ ইকবাল। এছাড়া নরসিংদী-৫ মো. জামাল আহমেদ চৌধুরী, মুন্সিগঞ্জ-১ মো. মুমিন আলী ও মুন্সিগঞ্জ-৩ প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগ: কিশোরগঞ্জ-১ রেজাউল করিম চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৫ শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, ময়মনসিংহ-১ সালমান ওমর রুবেল, ময়মনসিংহ-১০ এবি সিদ্দিকুর রহমান, ময়মনসিংহ-১১ মো. মোর্শেদ আলম, নেত্রকোণা-৩ মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, শেরপুর-৩ মো. আমিনুল ইসলাম বাদশাহ। মাদারিপুর-১ থেকে লাভলু সিদ্দিকী ও কামাল জামাল নুরুউদ্দিন মোল্লা, মাদারিপুর-২ মিল্টন বৈদ্য, রাজবাড়ী-২ নাসিরুল হক সাবু, গোপালগঞ্জ-২ এম এস খান মঞ্জু ও সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, গোপালগঞ্জ-৩ হাবিবুর রহমান হাবিবও বহিষ্কার তালিকায় 名前।
সিলেট বিভাগ: সুনামগঞ্জ-৩ আনোয়ার হোসেন, সুনামগঞ্জ-৪ দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, সিলেট-৫ মামুনুর রশীদ (চাকসু), মৌলভীবাজার-৪ মহসিন মিয়া মধু এবং হবিগঞ্জ-১ শেখ সুজাত মিয়া।
কুমিল্লা বিভাগ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ কামরুজ্জামান মামুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ কৃষিবিদ সাইদুজ্জামান কামাল, কুমিল্লা-২ আব্দুল মতিন, কুমিল্লা-৭ আতিকুল আলম শাওন এবং চাঁদপুর-৪ এম এ হান্নান।
চট্টগ্রাম বিভাগ: চট্টগ্রাম-১৪ মিজানুল হক চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম রাহী, চট্টগ্রাম-১৬ লিয়াকত আলী চেয়ারম্যান, নোয়াখালী-২ কাজী মফিজুর রহমান, নোয়াখালী-৬ ফজলুল আজীম ও নোয়াখালী-৬ প্রার্থী তানবীর উদ্দীন রাজীব।
বিএনপির বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও সিদ্ধান্ত মানার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। দল জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ বা নিয়মভঙ্গ করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে।
-

ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে সোনা: এক ভরি ২,৪৪,১২৮ টাকা
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, দেশের স্থানীয় বাজারে সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৫,২৪৯ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে, ফলে সবচেয়ে ভালো মানের সোনা (২২ ক্যারেট) এক ভরিতে ২,৪৪,১২৮ টাকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে সোনার সর্বোচ্চ রেকর্ড দাম।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রকাশ করা হয় এবং নতুন এই দাম বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনটি বলেছে, বৈশ্বিক বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণ (পিওর গোল্ড) এবং অন্যান্য বাজারগত চাপের কারণে স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ার this প্রভাব পরেছে।
গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি-র তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪,৭৪৫ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, যা স্থানীয় মূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
নতুন ঘোষিত দর অনুযায়ী এক ভরি সোনার মূল্য:
– ২২ ক্যারেট: ২,৪৪,১২৮ টাকা
– ২১ ক্যারেট: ২,৩২,৯৮৮ টাকা
– ১৮ ক্যারেট: ১,৯৯,৭৪৬ টাকা
– সনাতন পদ্ধতি অনুযায়ী: ১,৬৩,৮২১ টাকা
সোনার সঙ্গে সঙ্গে রূপার দামও বেড়েছে। নতুন দর অনুযায়ী রূপার মূল্য প্রতিভর:
– ২২ ক্যারেট: ৬,৫৯০ টাকা
– ২১ ক্যারেট: ৫,২৯৯ টাকা
– ১৮ ক্যারেট: ৫,৪২৪ টাকা
– সনাতন পদ্ধতি অনুযায়ী: ৪,০৮২ টাকা
বাজুস ভবিষ্যতে বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী আবার দামে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছে। সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে এই শক্তিশালী উঠানামা মাথায় রেখে লেনদেন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
-

রেকর্ড: ভরিতে সোনার দাম ছুঁল ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা
দেশের বাজারে একদিনের ব্যবধানে আবারও সোনার দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। বাজুস জানিয়েছে, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ 8,340 টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি হওয়ায় সবচেয়ে ভালো মানের সোনার দাম 252,467 টাকা ছুঁয়ে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বাজুসের এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বুধবার, ২১ জানুয়ারি, এবং নতুন মূল্য বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। সংগঠনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে বৈশ্বিক বাজারে বিশুদ্ধ সোনার (পিওর গোল্ড) দামের উত্থানের প্রভাব স্থানীয় বাজারে পড়ে এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।
গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি নামের বিশ্বস্ত ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ীও বৈশ্বিকভাবে স্বর্ণের দর বেড়েছে; সেখানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম 4,800 ডলারের উপরে উঠে গেছে, যা স্থানীয় স্থিতি নিয়েও প্রভাব ফেলেছে।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী বিভিন্ন মানের সোনার সর্বশেষ মূল্যগুলো হলো:
– ২২ ক্যারেট (সর্বোচ্চ মান): প্রতি ভরি 252,467 টাকা
– ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি 240,978 টাকা
– ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি 206,569 টাকা
– সনাতনী পদ্ধতির সোনা: প্রতি ভরি 169,653 টাকা
সোনা ছাড়াও রুপার দামও বাড়িয়েছে বাজুস। রুপার নতুন মূল্য হলো:
– ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি 6,882 টাকা
– ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি 6,532 টাকা
– ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি 5,599 টাকা
– সনাতনী পদ্ধতির রুপা: প্রতি ভরি 4,200 টাকা
বাজুসের এই নতুন মূল্য তালিকা ২২ জানুয়ারি থেকে ঢাকাসহ দেশের স্থানীয় বাজারগুলোতে কার্যকর হবে। ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য মূল্য ওঠানামা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
