ভারতের উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ শক্তিশালী ঝড়ের কারণে কমপক্ষে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি ধসে পড়া, গাছ উপড়ে যাওয়া এবং বজ্রপাতে হতাহতরা এ ক্ষতির মুখোমুখি হন। আহতের সংখ্যা আরও ৫০ জনের বেশি বলে জানা গেছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই ঝড়টি তীব্র আকার ধারণ করে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের তীব্রতায় শতাধিক গাছ ও বিলবোর্ড উপড়ে গেছে, বহু কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে হিন্দু তীর্থনগরী হিসেবে পরিচিত প্রয়াগরাজ (এলাহাবাদ) এ সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। সরকারি সূত্র বলছে, এই দুর্যোগে মূলত প্রয়াগরাজে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, এর পরে ভাদোহীতে ১৮ জন, মির্জাপুরে ১৫ জন, ফতেহপুরে ১০ জন, উন্নাও ও বদায়ু জেলাতে ছয়জন করে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়াও প্রতাপগড়, বেরেলি, সীতাপুর, রায়বরেলি, চন্দৌলি, কানপুর দেহাত, হার্দোই এবং সম্বল জেলায় বহু মানুষের মৃত্যু খবর পাওয়া গেছে। কর্মকর্তাদের মতে, ঝড়ের তীব্রতায় কাঁচা বাসগৃহ ধসে পড়েছে, গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে, আর বজ্রপাতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। তার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ক্ষেতের ফসল ও গবাদি পশু। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, প্রবল বাতাসে বিশাল গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে রাস্তায় পড়ে আছে। কোথাও কোথাও ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী রাম কিশোর বলেন, হঠাৎ এক ঝটকায় ঝড় শুরু হয়, মুহূর্তের মধ্যেই পুরো পরিবেশ অন্ধকারে ঢেকে যায়। বাতাসের তোড়ের সঙ্গে টিনের চাল উড়ে যায়, মানুষ দিগ্বিদিক ছুটতে শুরু করে। সন্ধ্যার সময় টানা গাছ পড়ার শব্দ দৃশ্যমান ছিল। এই দুর্যোগের খবর পেয়ে পুলিশ ও দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। তারা রাস্তা ও রেললাইন থেকে গাছ ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে যোগাযোগের ব্যবস্থা সচল করার জন্য চেইনসো, ক্রেন ইত্যাদি ব্যবহার করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বিপদের সময় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় অনেক জেলা অন্ধকারে নিমজ্জিত। প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার কাজ শেষ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব পাওয়া গেলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বুধবার সন্ধ্যার দিকে উত্তর প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন ও প্রবল বেগে বাতাস শুরু হলে বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। বেশ কিছু বিলবোর্ড, টিনের চালা ও গাছ উপড়ে পড়ে যানবাহনের ওপরে, ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক স্থান থেকে এই ঝড়ের ভয়াবহতা দৃশ্যমান ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। বারেলির বামিয়ানা গ্রামে একজনের ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রবল বাতাসে টিনের চালা উড়ে গিয়ে প্রায় ৫০ ফুট দূরে মাঠে পড়ে যাচ্ছে। মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসনকে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য জেলা কৃষি ও রাজস্ব বিভাগ, বিমা সংস্থাগুলোকেও দ্রুত জরিপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সরকারের কাছে রিপোর্ট পাঠানো যায়। এই দুর্যোগের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পিছনে সতর্কবার্তা হিসেবে প্রশাসন কাজ করছে। সূত্র: এনডিটিভি ও স্কাই নিউজ।
