বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, সরকারের উন্নয়ননীতিতে প্রকৃতভাবেই বৈষম্য দেখা যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উত্তরাঞ্চলের অর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করা সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। এটি দীর্ঘদিনের এক منط.logical দাবিও। যদি নির্বাচিত এলাকার বাইরে অন্যত্র এই বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে সেটি হবে মহান অবিচার ও বৈষম্যের প্রকাশ। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পথে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি এড. আতিকুর রহমান, এবং সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, বিএনপি’র নির্বাচিত এমপিদের এলাকা হওয়ায় কোথাও নতুন উপজেলা বা বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে, যা আশার আলো দেয়। কিন্তু বাস্তবতায় সেই উন্নয়নগুলো নানা অঞ্চলে বিভক্ত। তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের প্রবাদ আছে, ‘যে যায় লঙ্কায়, সে হয় রাবণ,’—অর্থাৎ ক্ষমতায় থাকাকালীন কিছু অপকর্ম ও লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সেই একই পথে হাঁটছে, ৭০ ভাগ জনমতের উপেক্ষা করে প্রতারণার রাজনীতি করছে। নির্বাচনের আগের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পাশে থাকা ভোটাররা এখন গণভোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করছেন। সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেও আসলে গণভোটের সিদ্ধান্ত মানছে না, যা জনগণের জন্য মহাপরিহাস্ক। বিএনপি জনস্বার্থে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে উল্টো নিজের ক্ষতি করছে, যা দেশের জন্যও ক্ষতিকর।
গণমাধ্যম সম্পর্কেও তিনি আলোকপাত করেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় যাদের যারা স্বাধীন সাংবাদিকতার কথা বলতেন, এখন তারাই বিভিন্ন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত ও হয়রানির সাথে জড়িত। বিশেষ করে সরকার সমালোচক সাংবাদিকদের targeting করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন।
এর আগে, বিমানবন্দরে গোলাম পরওয়ার ও তার সফরসঙ্গীদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মাওলানা আব্দুল মুনতাকিম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান জুয়েলসহ আরও শতাধিক নেতা-কর্মী। পরে তারা সড়ক পথে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
