মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন হামলা: কাতার, কুয়েত ও আমিরাতে ঘটনাগুলো

মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশ – কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত – গভীর অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের মধ্যে চলমান কঠোর যুদ্ধবিরতির মধ্যে এই ঘটনা ঘটল, যা উদ্বেগজনক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই হামলার ফলে কাতারে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে অগ্নিকাণ্ড ঘটে গেলেও কুয়েত ও আমিরাতে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি তাদের রিপোর্টে এই হামলার বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে।

এটি জানানো হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক বাহিনী অন্তত দু’টি ড্রোনকে তাদের আকাশে শনাক্ত করে বাধা দেয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘ইরানের এই প্রকাশ্য হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত ৫৫১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ২৯টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২৬৫টি ড্রোন মোকাবিলা করেছে।’’

অপরদিকে, কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার আবুধাবি থেকে আসা একটি পণ্যবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে জাহাজের কিছু অংশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, তবে হতাহত বা হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে উল্লেখ করে, ‘‘রোববার সকালে আবুধাবি থেকে আসা এই পণ্যবাহী জাহাজ মেসাইদ বন্দরের উত্তরে কাতার জলসীমায় ড্রোন হামলার শিকার হয়। এতে সীমিত পরিসরে অগ্নিকাণ্ড ঘটে, তবে কেউ হতাহত হয়নি।’’

এর পাশাপাশি, ব্রিটেনের একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা এক্ষেত্রে জানিয়েছে, দোহার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি পণ্যবাহী জাহাজ অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র সদৃশ বস্তু দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবু, কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রোববার ভোরে দেশটিতে কিছু ড্রোন হামলা হয়েছে। সেনাবাহিনী এক্সে এক বার্তায় জানায়, ভোরে কুয়েতের আকাশসীমায় বেশ কিছু শত্রু ড্রোন শনাক্ত করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে যে ড্রোনগুলো কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি।

আন্তর্জাতিক সূত্র: এএফপি।