স্কুলের মধ্যাহ্নভোজের খাবারে মরা সাপ, শতাধিক শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহারের সাহারসা জেলায় এক গুরুত্বর ঘটনা ঘটেছে যেখানে স্কুলের মধ্যাহ্নভোজের (মিড-ডে মিল) খাদ্যে মরা সাপের বাচ্চা পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে। ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৭ মে) মহিষী ব্লকের এক সরকারি স্কুলে ঘটে, যেখানে স্থানীয় এনার্জি ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের মাধ্যমে সরবরাহ করা খাবার খেয়ে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, সাধারণভাবে স্কুলে রোজকারের মতোই মধ্যাহ্নভোজ পরিবেশন করছিলেন স্কুলের স্টাফরা। হঠাৎ করে এক শিক্ষার্থী তার প্লেটের মধ্যে একটি বড় সাপের বাচ্চা দেখতে পায়। তারপর ধীরে ধীরে অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও খাবারে অস্বাভাবিক কিছু দেখতে পায়। এই আবহে অনেক শিক্ষার্থী পেট ব্যথা, গুরুতর অসুস্থতা শুরু করে এবং কিছু ক্ষেত্রে জ্ঞান হারানোর ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতির অবনতি হলে স্কুল কর্তৃপক্ষ দ্রুত পুলিশ ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলের একটি খাবার প্লেটের ওপর একটি বড় বিষাক্ত সাপ পড়ে থাকতে দেখা যায়, যার প্রজাতি তেলিয়া বলে মনে করা হচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে ছাত্র-ছাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, অনেকেরই জ্ঞান হারিয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন একজন শিশুর পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, অনেকের অবস্থা বেশই গুরুতর এবং দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য কিছু শিশুকে সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তাদের লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত টিম গঠন করেছে। পাশাপাশি, ওই এনজিওর মধ্যাহ্নভোজের নিয়মিত রান্না কেন্দ্রটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তাদের গাড়িতে করে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়, পরে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে আরও অনেককেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সবাই এখন সেখানকার মেডিকেল টিমের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

উল্লেখ্য, ভারতের মিড-ডে মিল কর্মসূচি ১৯২৫ সালে চেন্নাই (তখন মাদ্রাজ) শুরু হয়, যা দেশের দরিদ্র শিশুদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ খাবার সহায়তা প্রোগ্রাম হিসেবে পরিচিত। তবে, এখন প্রশ্ন উঠছে এর খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে। বিহারে ২০১৩ সালে মিড-ডে মিলের খাবারে বিষক্রিয়ায় ২৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছিল, যা এই ঘটনার মতোই ভয়ংকর।

সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত নিয়মকানুনের আরোপের দিকে আবারো প্রশ্ন উঠেছে, কারণ প্রতিটি মিড-ডে মিলের খাবার যেন নিরাপদ ও পুষ্টিকর হয়, যার নিশ্চয়তা প্রয়োজন।