পাকিস্তানে জ্বালানির দাম নতুন করে উর্ধ্বগতি নিয়েছে; পাম্পে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কার্যত ৪০০ রুপি ছাড়িয়েছে। দেশটির সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) পেট্রোল লিটারপ্রতি ৬.৫১ রুপি এবং ডিজেল লিটারপ্রতি ১৯.৩৯ রুপি বাড়ানো হয়েছে।
প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মূল্য সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হচ্ছে এবং আগামী ৮ মে পর্যন্ত বহাল থাকবে। হাইস্পিড ডিজেলের (HSD) নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে লিটারপ্রতি ৩৯৯.৫৮ রুপি, যা পূর্বের ৩৮০.১৯ রুপির তুলনায় প্রায় ১৯.৩৯ রুপি বেশি। পেট্রোলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯৯.৮৬ রুপি, আগের ৩৯৩.৩৫ রুপির তুলনায় ৬.৫১ রুপি বাড়ল। ডিলার কমিশন ও অন্যান্য খরচ যোগ হলে পাম্পে কার্যত মূল্য ৪০০ রুপির সীমানা ছাড়িয়ে গেছে।
সরকার ক্ষতিগ্রস্ত শ্রেণি—মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী, কৃষক ও পরিবহনখাত—আরও চাপ না বাড়ুক বলে ভর্তুকি চালিয়ে যাচ্ছে। মোটরসাইকেলের জন্য লিটারপ্রতি ১০০ রুপি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে এবং এটি মাসে সর্বোচ্চ ২০ লিটার পর্যন্ত প্রযোজ্য। ভর্তুকি অনুযায়ী পেট্রোলের পরিশোধ্য দাম দাঁড়ায় প্রায় ৩০০ রুপি, যা বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ১৩৫ টাকার সমান।
বৃহৎ চালান ও পরিবহনের জন্যও আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে—পণ্যবাহী ট্রাকের জন্য মাসে ৭০,০০০ রুপি, বড় পরিবহনযানের জন্য ৮০,০০০ রুপি এবং আন্তঃনগর গণপরিবহনের জন্য মাসে সর্বোচ্চ ১,০০,০০০ রুপি পর্যন্ত ভর্তুকি। সরকারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে ভাড়া বাড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে এবং পরিবহন খাতের ওপর নজরদারি জোরদার করা হবে।
অর্থনৈতিক কারণ হিসেবে সরকার বলছে, এই মূল্যসমন্বয় আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা আইএমএফ-এর সঙ্গে সমন্বয়ক্রমে করা হচ্ছে। বর্তমান অর্থবছরে পেট্রোলিয়াম লেভি (শুল্ক) থেকে ১.৪৬৮ ট্রিলিয়ন রুপি আদায় করা সরকারের লক্ষ্য।
তবে সাধারণ জনগণ ও বিশেষত পরিবহনখাত ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব অনুভব করবে, কারণ পরিবহনে ডিজেলের বহুল ব্যবহার সরাসরি জিনিসপত্রের পরিবহন খরচ বাড়ায় এবং মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত করতে পারে।
একই সময়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP) এক বিশ্লেষণে সতর্ক করেছে যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত পাকিস্তানের অর্থনীতিতে ১০ থেকে ৬৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি করতে পারে এবং এর ফলে মূল্যস্ফীতি ১৫–১৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন হচ্ছে, যা লোডশেডিং বৃদ্ধি ও শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মোট মিলিয়ে, সরকারের ভর্তুকি ও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা থাকলেও পাম্প পর্যায়ে জ্বালানির নতুন দাম নাগরিকদের ব্যয়ে সরাসরি ফাঁক ছুঁড়ে দিচ্ছে—বিশেষত পরিবহন ও কৃষি খাতে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজার ও এলাকার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কিভাবে পরিস্থিতি প্রভাবিত করবে, সেটাই এখনored মানুষের নজরকাড়া প্রশ্ন।
