হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে আলোচনা করতে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রোববার এক কর্মকর্তা জানান, ভ্যান্স পাকিস্তানে যাচ্ছেন। তবে এ ঘোষণা থেকে খানিক সময় আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভ্যান্স পাকিস্তান সফর করবেন না।
রোববার সকালে ট্রাম্প জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনে তেহরানের সঙ্গে বৈঠকের জন্য তিনি ইসলামাবাদে একটি প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রতিনিধি দল সোমবার সন্ধ্যার দিকে ইসলামাবাদে পৌঁছাবে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বর্ধমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, গত বার যে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছিল তার নেতৃত্ব দেওয়া জেডি ভ্যান্স এবার যাচ্ছেন না। এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘এটি শুধু নিরাপত্তার কারণে। জেডি চমৎকার মানুষ।’’
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরপরই হোয়াইট হাউস ঘোষণা পাল্টায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এই আলোচনায় যোগ দেবেন। উল্লেখ্য, গত ১১-১২ এপ্রিলের বৈঠকেও এই ত্রয়ী উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাম্প শনিবার হরমুজ প্রণালিতে হামলার মাধ্যমে ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ‘‘পুরোপুরি লঙ্ঘন’’ করেছে বলে অভিযোগ করে উত্তপ্ত ভাষায় হুমকি দেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, যুক্তিসঙ্গত চুক্তি না নিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করে দেবে — ‘‘ভদ্র আচরণের দিন শেষ।’’
জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ এবিসি নিউজকে বলেন, নতুন দফার আলোচনার ফলাফল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
এদিকে রোববারও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ ছিল। শনিবার এই জলপথ একদিন খুলে দেওয়ার ঠিক পরই ইরান পুনরায় এটি বন্ধ ঘোষণা করে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ওই প্রণালিতে একটি ট্যাঙ্কারে গুলি চালিয়েছে। নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা ভ্যানগার্ড টেক জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি খালি প্রমোদতরী ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছে ইরানি বাহিনী এবং একটি জাহাজের কন্টেইনারও অজ্ঞাত বস্তুতে আঘাত পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই অবস্থার মধ্যে আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলতি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। (সূত্র: এএফপি)
