ইরানের সঙ্গে এক বৈঠকে চুক্তি হতে পারে, কেউ আশা করেনি

বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান দ্বন্দ্বের অবসান হয়ে একমাত্র বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে শান্তিচুক্তি হবে—এমনটি কেউই আশা করেননি বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই। ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেন। এক সাক্ষাৎকারে বাকাই বলেন, “স্বাভাবিকভাবেই, শুরু থেকেই একটি বৈঠকে (যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে) চুক্তির আশা করা উচিত নয়, এবং এটি কেউই ভাবিনি। তবে আমাদের বিশ্বাস, পাকিস্তান ও অন্যান্য আসেপাশের মিত্রদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।” উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এই দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২১ দিন আলোচনা চলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনও সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই সেই সাক্ষাৎকার শেষ হয়। এর পরের দিন, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানে শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের “অপারেশন এপিক ফিউরি”। একই সময়ে ইসরায়েলও শুরু করে তার সামরিক অভিযান, যার নাম দেয়া হয়েছে “অপারেশন রোয়ারিং লায়ন”। এই যুদ্ধের প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ খামেনির মৃত্যু হয়, যিনি টানা ৩৭ বছর এই পদে থাকতেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির এই হামলায় তার স্ত্রী, কন্যা, নাতি, ও মোজতবা খামেনির স্ত্রীসহ অনেকই নিহত হন, মোজতবা গুরুতর আহত হন। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে আনতে কূটনৈতিকভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে ৭ এপ্রিল থেকে। এরপর ১১ এপ্রিল দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা আলোচনা করেন, যা ২১ ঘণ্টা চললেও কোনও ফল হয়নি। এই বৈঠকও শেষ হয়েছে কোন উপসংহার ছাড়াই।