পাকিস্তান ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠালো যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব; আজই বিরতি কার্যকর হতে পারে

রয়টার্স জানিয়েছে, পাঁচ সপ্তাহের বেশি চলা সংঘাত থামিয়ে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও ব্যাপক সমঝোতা বাস্তবায়নের একটি রূপরেখা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠিয়েছে প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে—দুই পক্ষই প্রস্তাবটি গ্রহণ করলে আজই (সোমবার) থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে আনা যেতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

পাকিস্তান এই রূপরেখাটি তৈরি করে রোববার রাতেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিময় করে। এতে একটি দ্বি-স্তরীয় পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে—এক তরফে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হবে এবং দ্বিতীয় স্তরে একটি বিস্তৃত সমঝোতা চূড়ান্ত করা হবে। এক সূত্র জানিয়েছে, ‘আজই সব বিষয়ে একমত হতে হবে’—এমন উদ্দেশ্য নিয়ে প্রাথমিক বোঝাপড়া একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হিসেবে তৈরি হবে এবং চূড়ান্তকরণ ইলেকট্রনিকভাবে, পাকিস্তানের মাধ্যমেই করা হবে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস আগে জানিয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা দ্বি-স্তরীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্ভাব্য ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা করছেন—যা পরবর্তীতে স্থায়ী অবসানে পরিণত হতে পারে।

রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ‘রাতভর’ যোগাযোগে ছিলেন—যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা হবে। এরপর বিস্তৃত সমঝোতা চূড়ান্ত করার জন্য ১৫–২০ দিনের সময়সীমা রাখা হবে। ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ নামে পরিচিত ওই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আঞ্চলিক কাঠামো অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং চূড় finales আলোচনা ইসলামাবাদে সরাসরি অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে তৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়কর্তার কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। চীনের কর্মকর্তাদের থেকেও রয়টার্সের মন্তব্য চাওয়ার অনুরোধে তৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ইরানি কর্মকর্তারা পূর্বে রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তেহরান একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চাইছে, যেখানে নিশ্চিত করা হবে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভবিষ্যতে হামলা চালাবে না। তারা বলেছেন, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে বার্তা আসছে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত সমঝোতায় তেহরানের কাছ থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে—নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দ করা সম্পদ ফিরিয়ে দেয়ার বিনিময়ে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দেবে।

তবে পাকিস্তানের দুটি সূত্র জানায়, সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও ইরান এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেননি। ‘ইরান এখনও কোনো জবাব দেয়নি’—একটি সূত্র এ কথা জানিয়েছে। একই সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবগুলোর পক্ষে এখনও কোনো বাধ্যতামূলক প্রতিশ্রুতি আসেনি।

এই কূটনৈতিক উদ্যোগ এমন সময় উঠল যখন ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রেক্ষিতে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য ইরানকে চাপ দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এবং দ্রুত যুদ্ধবিরতি না হলে কড়াকড়ি ফলাফলের হুমকিও দিয়েছেন। (সূত্র: রয়টার্স)