জ্বালানি সংকটে ভারতে ‘লকডাউন’ নিয়ে জল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা লেগে আছে। রাশিফলে তেলের মূল্য ওঠানামা ও এলপিজি সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্বেগের প্রভাবে এই অনৈচ্ছিক চাপ ভারতের ওপরও পড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে ‘আংশিক জ্বালানি লকডাউন’ নেয়া হতে পারে এমন নানা জল্পনা ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে।

দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাকে সচল রাখতে এবং সরবরাহ সুষম রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন কড়াকড়ি প্রক্রিয়া পরীক্ষার আওতায় আনা হতে পারে—যদি অবস্থা ক্রমশ খারাপ হয়। সরকারি সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের ধারনায় সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে অফিসে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম), নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত রাখা, ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ, নগদ লেনদেন বা খরচে সীমাবদ্ধতা, ব্যাংক থেকে নগদ উত্তোলনে সীমানা নির্ধারণ, ও দোকান এবং রেস্তোরাঁর খোলা রাখার সময় কমানো। তবে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য অপরিহার্য পরিষেবায় ছাড় থাকবে বলে জানা গেছে।

এই বিষয়গুলো নিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা যোগেছে; ‘লকডাউন ইন ইন্ডিয়া’ কীওয়ার্ডটি গুগল ট্রেন্ডসে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেকে কেন্দ্রের শনিবারের উচ্চস্তরের বৈঠককে এই জল্পনার প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখছেন—তবে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের ঘোষণা নেই।

কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার এসব জল্পনা তুলে দিয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী শুক্রবার তার এক পোস্টে বলেছেন, দেশে কোনো লকডাউন আনার কথা প্রচার ‘‘বাস্তবে ভিত্তিহীন গুজব’’; সরকার এমন কোনও প্রস্তাব বিবেচনা করছে না। তিনি সবাইকে শাসনবিধি মেনে শান্ত ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানান এবং অযথা প্যানিক না সৃষ্টি করার কথা বলেন।

পুরী আরও বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়া সত্ত্বেও সরকার নিয়মিত জোরালো নজর রাখছে—তাই তেল, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন,‘‘ভারত ভোগ্যপণ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রা যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার।’’

প্রধানমন্ত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকও ডাকছেন মোদি; সূত্র বলছে ভিডিও কনফারেন্সে এই বৈঠক সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে পশ্চিমবঙ্গসহ যে কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড চলছে, সেসব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা সভায় অংশ নেবেন না—এমনই খবর আছে।

অবশেষে, স্থানীয়ভাবে জ্বালানি ব্যবস্থায় কোনো বড় ধরনের আঁটসাঁট করার আগে সরকারের পক্ষে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় বজায় রাখা এবং সমাজে বিভ্রান্তি না ছড়ানোই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, এনডিটিভি