ছাত্রদের গণঅভ্যুত্থান, রাজনৈতিক দলের লাভ-ক্ষতি

বিগত চব্বিশ বছর ধরে ছাত্ররা যে গণঅভ্যুত্থান চালিয়ে আসছে, তার মূল লক্ষ্য ও অবদান এখনো যথাযথ মর্যাদা পাননি বলেও মন্তব্য করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদের এই অভ্যুত্থানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকলেও বারবার তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের সময় নির্ধারিত থাকলেও সংশ্লিষ্টরা তা মানতে নারাজ, বরং গণভোট ও জনগণের রায়ের বিরোধিতা করে অবস্থান কর্মসূচি চালাচ্ছে। যা এক ধরনের অঙ্গীকারবিরোধী আচরণ। নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ার করে দেন, যদি সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ না হয়, তবে সংসদের কোনো মূল্য থাকবে না। কারণ জনগণ কেবল ব্যক্তিগত পরিবর্তন চান না, বরং স্বৈরাচারী কাঠামোর পতন ও দীর্ঘদিনের সংস্কার চান। কিন্তু বর্তমান সরকার বিচার, সংস্কার ও অর্থনৈতিক লুটপাটের বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশার বিপরীতে অবস্থান নিচ্ছে।

একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের অপসারণের ঘটনা বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আঙুল তোলে। এর সঙ্গে ঋণখেলাপিদের পুনর্বাসনের অভিযোগও তুলে সরকারকে কঠোর সমালোচনা করেন।

নাহিদ ইসলাম ওবং উল্লেখ করেন, সংসদে মত প্রকাশের পরিবেশ না থাকলে আন্দোলন রাজপথে গড়াবে এবং এজন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। তিনি এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন করে যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ারও আহ্বান জানান।