আমার না থাকলে ভারত-পাকিস্তানের ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ নিহত হতো: ট্রাম্প

জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগাম میں জঙ্গি হামলার পরে ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, যদি সেই সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত না থাকতেন, তাহলে কমপক্ষে ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারত। নিজেই এই গুরুত্বপূর্ণ দাবি করেছেন ট্রাম্প।

গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আবারও স্মরণ করিয়ে দেন, তার হস্তক্ষেপের কারণেই ওই সংঘাত শেষ হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, “আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ এবং বহির্মুখী সুরক্ষার ক্ষেত্রে আমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছি। আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দশ মাসের মধ্যে আটটি যুদ্ধ বন্ধ করতে সক্ষম হই, যার মধ্যে রয়েছে ভারত-পাকিস্তানের সঙ্কট। যদি আমি থাকতাম না, তাহলে হয়ত এই দুটি পারমাণবিক শক্তিশালী দেশের মধ্যে ব্যাপক যুদ্ধ বেধে যেত।”

তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিজেই আমাকে এ কথা বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, আমার হস্তক্ষেপ এই যুদ্ধ বন্ধে সহায়তা করেছে এবং আমি কমপক্ষে ৩৫ মিলিয়ন বা ৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষের জীবন রক্ষা করেছি।”

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু-কাশ্মিরের অনন্তনাগ জেলার পেহেলগাম উপজেলায় বাইসরন উপত্যকায় জঙ্গি হামলা চালিয়ে ২৫ জন ভারতীয় নাগরিক নিহত হন। এর উত্তেজনাময় পরিস্থিতিতে ৪ মে ভারত সেনাবাহিনী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করে। পাকিস্তানও পাল্টা জবাবে ‘অপারেশন বুনিয়ান উল মারসুস’ নামে অভিযান চালায়। চার দিনের সংঘর্ষের পর উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে বসে।

ট্রাম্প এর আগেও দাবি করেছিলেন যে, তার একক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে তা সমর্থন এসেছে, তবে ভারতের সরকার এ ব্যাপারে এখনো কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তার বর্তমান লক্ষ্য এখন রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ শেষ করা। তিনি বলেন, “যদি আমি প্রেসিডেন্ট থাকতাম, এই যুদ্ধ হয়ত কখনোই হত না।”