তারেক রহমান: দিল্লি নয়, পিন্ডি নয় — সবার আগে বাংলাদেশ

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ।’’ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের পুণ্যভূমি ময়দানে দলের প্রথম নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই স্লোগানসহ দলের নীতিমালা ও অঙ্গীকার তুলে ধরেন।

তারেক রহমান ফসলের প্রতীক ধানের শীষকে বিজয়ী করে দেশে গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধার শুরু করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষকে জেতাতে হবে; জয়লাভ করলেই স্বৈরাচারমুক্ত দেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হবে।

সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের তিনি প্রশ্ন করেন, তারা ধানের শীষকে জেতাতে প্রস্তুত কি না—জনস্রোত হাত তুলে ‘হ্যাঁ’ বলে উত্তর দিলে তিনি ‘ইনশাল্লাহ’ বলে সাড়া দেন।

বক্তব্যে তিনি দেশের উন্নয়ন-অর্থকৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা চালান এবং গত ১৬ বছরে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার ও লুটপাটের অভিযোগ তোলেন। বলেন, ‘‘বিগত ১৬ বছরে উন্নয়নের নামে জনগণের সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে, দেশকে অন্য দেশের কাছে বন্ধক বানানো হয়েছে।’’ তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশে-বিদেশে যারা ষড়যন্ত্র করছে তাদের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে লড়বে।

তারেক রহমান ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ শ্লোগান ব্যাখ্যা করে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে মা–বোনদের স্বাবলম্বী করে তোলা হবে; সিলেটের মতো অঞ্চলের মানুষের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। তিনি দেশের সবাইকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন—শুধু ভোটাধিক্য নয়, খাওয়ার, কাজের ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে হবে।

সমাবেশে এক প্রাণবন্ত মুহূর্তে তিনি হজ থেকে আসা এক সমর্থক এটিএম হেলালকে মঞ্চে ডেকে এনে জনতার সাথে প্রশ্নোত্তর করেন—কাবা শরীফের মালিক, এই পৃথিবীর মালিক, সূর্য-নক্ষত্রের মালিক ইত্যাদির নাম নিলে সবাই ‘আল্লাহ’ বলে সাড়াওয়ান। তিনি আধ্যাত্মিক ও নৈতিক প্রসঙ্গ ধরে বলেন, ‘‘যে যার মালিক আল্লাহ—তাহলে কোনো দল বেহেশত বা অনন্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষের বিশ্বাস বিক্রি করতে পারবে না; এ শিরক ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে থাকতে হবে।’’

তারেক রহমান ১৯৭১ সালের ত্যাগের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন এবং বলেন, স্বাধীনতার জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করা হয়েছে, তাতে যারা দায়ী ছিল তাদের জাতীয় পর্যায়ে মানুষ আজ বিচার করেছে। মিথ্যা ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস উল্লেখ করে বলেন, ‘‘শহীদ জিয়ার ও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে পেরেছি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছি। আমরা আবার সেই পথে ফিরব—সবার আগে বাংলাদেশ।’’ তিনি ভোটে জেতে দেশের পরিচালনা নবী করিম (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং জনগণকে বিজয়ের আহ্বান জানান: ‘‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’’

সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরাও বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করেন সিলেট জেলা বিএনপি সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী; মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী সঞ্চালনা করেন। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন—সিলেট-১ আসনে দলের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট-৪ প্রার্থী ও সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট-২ প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা, সিলেট-৩ প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মালিক, দলের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক, সিলেট-৬ প্রার্থী ও জেলা সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী এবং কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী প্রমুখ।

জনসভা শুরু হওয়ার আগে বেলা পৌনে ১১টায় কোরআন তেলাওয়াত অনুষ্ঠিত হয়। ঢঙভঙ্গিমায় আন্দোলিত করে হাজার হাজার নেতাকর্মী মঞ্চে তারেক রহমানের অভিবাদন গ্রহণ করেন; দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তিনি মঞ্চে ওঠেন এবং সমর্থকদের শুভেচ্ছাভঙ্গির সঙ্গে সমাবেশ শুরু হয়। স্লোগান-ধ্বনিতে আলিয়া মাদরাসা ময়দান গর্জে ওঠে।