অবমানবিক আচরণ ও আক্রমণ বন্ধ না করলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না—এমন সতর্কবার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে দেশকে দখলের চেষ্টা শেষে, এবার তিনি মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও কিউবার প্রতি হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। ট্রাম্প ছাড়ছেন না, এই তিন দেশের জন্য সতর্কতা প্রকাশ করে বলেছেন যে, ভেনেজুয়েলার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে তাদের দেশগুলোতে যদি পরিস্থিতি উত্তরণ না ঘটে। মাদক চোরাকারবারি ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় যে কোনো পদক্ষেপ নিতে তিনি প্রস্তুত, এবং এই ক্ষেত্রে কাউকেই তার নীতি থেকে বিচ্যুত করতে দেবেন না। বেশ কয়েকটি বিশ্ব শক্তি যেমন চীন, রাশিয়া ও ইরান, ইতিমধ্যেই ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। বেইজিং উল্লেখ করে, মার্কিন এই অভিযানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং এতে ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বাড়বে। একই সঙ্গে, রাশিয়া ও ইরানও এই সামরিক পদক্ষেপটিকে অজনপ্রিয় ও বৈধতার বিরুদ্ধে বলে নিন্দা জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক দিকে মাদুরোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পর, অন্য দিকে মেক্সিকো, কলম্বিয়া ও কিউবার প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও তিনি পিছপা হবেন না। তিনি বলেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে আমেরিকা প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হবে এবং কেউ তার শক্তিকে ঠেকাতে সক্ষম হবে না। ট্রাম্পের শাসনামলে বিশেষ করে মেক্সিকো ও আমেরিকার সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়েছে। শরণার্থী অনুপ্রবেশ ও শুল্কনীতি নিয়ে চলমান বিরোধের পাশাপাশি, মেক্সিকোকে নানা হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প বারবার সতর্ক করে বলেছেন, মেক্সিকো যদি শরণার্থী ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে তার ফল ভুগতে হবে। এই পরিস্থিতিতে, ট্রাম্প মেক্সিকো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ও সংঘর্ষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি, কলম্বিয়াকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন যে, তাদের মাদক তৈরির কারখানাগুলি মার্কিন শত্রুদের জন্য ভয়ঙ্কর বিপদ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, কলম্বিয়ায় মাদক উৎপাদন করছে পেত্রো এবং তার কারখানাগুলি অত্যন্ত সক্রিয়। তাঁর ভাষায়, এই মাদক চোরাচালান আমেরিকার অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই হবে। এরইমধ্যে ভেনেজুয়েলার ঘটনার ফাঁকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিউবার জন্যও সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি কিউবার নেতৃস্থানীয় ব্যর্থ শাসক মিগুয়েল দিয়াজু-কানেলকে ‘ব্যর্থ’ বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, কিউবার পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত খারাপ। রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ভেঙে পড়ার কারণে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ বেড়েছে। তিনি দাবি করেন, বহু বছর ধরে কিউবার মানুষ এই দুঃশাসনের কারণেই বিপদে রয়েছে এবং তাদের মুক্তির জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন অভিযান। রাজধানী করাকাসে একদিকে নিরবচ্ছিন্ন বিস্ফোরণের শব্দ শোনা অবধি, অন্যদিকে বিভিন্ন প্রদেশে প্রচুর আঘাত হানে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই আঘাতের পিছনে আসল কারা তা শুরুতে স্পষ্ট ছিল না। তবে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে জানিয়ে দেন, ভেনেজুয়েলা ও তার নেতাকে বড় ধরনের সফল অভিযান চালানো হয়েছে। তা ছাড়া, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর বন্দি করা হয়েছে। এই ঘটনা বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছে ওভেহ, পরিস্থিতি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করছে।
Leave a Reply