দেশের স্বার্থে বিএনপি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অতীতে যেমন একসাথে কাজ করেছে, ভবিষ্যতেও একইভাবে একজোট হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সমবেদনা জানানো শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে জামায়াতের আমির বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, দেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে দাঁড়িয়ে। সামনে একদিকে জাতীয় নির্বাচন ও অন্যদিকে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সংযোজনে তিনি বলেন, গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার, আর সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন—এ দুটি দফতর যাতে নির্বিঘ্ন, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য হয়, সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি।
তিনি আরও জানিয়েছেন, আমরা সকলে একত্র হয়ে দেশের স্বার্থে অতীতেও কাজ করেছি এবং আগামীতেও করব। তারেক রহমান সহ বিএনপির নেতারাও একই আশা ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরাও একই প্রত্যাশা পোষণ করেছি।’
সদ্যপ্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়া তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার পাশাপাশি তিনি ছিলেন এক সংগ্রামী ও আপসহীন নেত্রীর জীবন। তিনি গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। এই সংগ্রামে গিয়ে তার শেষ সময়টায় তাকে জেলেও একাকী জীবন কাটাতে হয়েছে। তখন তিনি দেশের শাসকদের অবমাননাকর আচরণের শিকার হয়েছিলেন।
খালেদা জিয়ার চিকিৎসার উপর বিভিন্ন সময় সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যখন তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন, তখন দেশি-বিদেশি নানা চিকিৎসার জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল, কিন্তু তখন সরকারের পক্ষ থেকে অবহেলা ও উপহাস করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেন, কিন্তু ততদিনে তার স্বাস্থ্যে বেশ ক্ষতি হয়ে গেছে। ব্রিটেন থেকে ফিরে এসে তার শারীরিক অবনতি ঘটে। বর্তমানে তিনি দেশে থাকাকালীন চিকিৎসা নিচ্ছেন। আল্লাহ তাকে যেন রহমত করেন এবং জান্নাতের অর্ধেক স্থান দিন, এই আর্জি জানালেন ডা. শফিকুর রহমান।
বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়ে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি যেন জাতির জন্য একজন সংগ্রামী নেতা হিসেবে ইতিহাসের বিরল সম্মান নিয়ে চলে গেলেন। তার বিদায় উপলক্ষে গতকাল যে সংবর্ধনা ও আনুষ্ঠানিকতা হয়েছিল, লোকজন আবেগে ভরে চোখের জল দিয়ে তাকে বিদায় জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এটি তার অবদান ও সাহসের জন্য প্রাপ্য স্বীকৃতি।’ তার এই অবদান দেখে আমরা উদ্বুদ্ধ হই এবং আশা করি, আমরাও যদি জনগণের জন্য কিছু করতে পারি, তাহলে একদিন আমাদেরও এমন বিদায় ঢের মর্যাদাপূর্ণ হবে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথে ও দেশের স্থিতিশীলতার জন্য ডা. শফিকুর রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, পাঁচ বছরের জন্য হলেও দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা সবাই একত্র হয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু করার পরিকল্পনা করতে পারি। দেশরত্ন নেত্রীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থেকে দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন, আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আবারও বসার জন্য প্রস্তুত থাকবো।
অন্তিমে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান, তার পরিবারের সদস্যদের এবং চিকিৎসকাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যারা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছেন।
Leave a Reply