ইরানের অভিযোগ: যুদ্ধে মার্কিনদের সহায়তা করেছে আমিরাত

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে চলা সাম্প্রতিক সহিংসতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। তিনি এই মন্তব্য করেছেন ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে থাকা অবস্থায় টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায়।

আরাঘচি বলেছেন, এই আগ্রাসনে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি সক্রিয় অংশীদার এবং এতে কোনো সন্দেহ রাখা যায় না। তিনি আরও দাবি করেছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আমিরাত কেবল নিন্দা জাহির করেই বিরত ছিল না, বরং সরাসরি অংশ নিয়েছিল এবং সম্ভবত তেহরানের বিরুদ্ধে কিছু পদক্ষেপও নিয়েছে।

ইসরায়েল বলেছে, চলমান যুদ্ধের সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের একটি ‘গোপন’ বৈঠক ইউএই-তে হয়েছে। আরাঘচি এই দাবির কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে আবু ধাবি ওই গোপন ভ্রমণের কথা অস্বীকার করেছে।

ফেব্রুয়ারি ২৮-এ মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পরে ইরান প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর পাল্টা হামলা চালায়—তাতে ইসরান ও আমিরাতের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। এরপর থেকে বিরোধ বাড়তে থাকায় দুই দেশের সম্পর্ক তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে; গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বজায় আছে বলে জানানো হয়েছে।

ইরান বারবার অভিযোগ করেছে যে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে মার্কিন বাহিনীকে হামলা চালানোর সুযোগ দিচ্ছে। অন্যদিকে, ওই উপসাগরীয় দেশগুলো এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে তারা সংঘাতের আগে থেকেই প্রতিজ্ঞা করেছিল যে তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা কাউকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার কাজে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বিশ্লেষকরাও আমিরাতের জড়িত থাকার বিষয়ে বিভিন্ন দাবি তুলেছেন। বিপরীতে, চলতি মাসের শুরুতে আমিরাতের ফুজাইরাহ অঞ্চলের একটি জ্বালানি স্থাপনায় দুর্বল ড্রোন হামলার অভিযোগে আবু ধাবি ইরানকে দায়ী করেছিল; ইরান সেই অভিযোগ খারিজ করেছে।

আরাঘচির মন্তব্যের সূত্র হিসেবে ফরাসি সংবাদসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনকে উল্লেখ করা হচ্ছে। সংঘাত ও সম্পর্কজটিলতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন মন্তব্য এবং প্রতিক্রিয়া চলছে, যা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।