ভারতের উত্তরপ্রদেশে গতকাল তীব্র ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে এবং কয়েকশ লোক আহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে, হাজার হাজার গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে এবং অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।
সরকারী সূত্রে এনডিটিভি জানিয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে প্রয়াগরাজ জেলায় — সেখানে কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। ভাদোহীতে ১৮ জন, মির্জাপুরে ১৫ জন, ফতেহপুরে ১০ জন ও উন্নাও ও বদায়ুন জেলায় প্রত্যেকে ৬ জন করে মারা গেছেন। প্রতাপগড় ও বেরেলিতে চারজন চারজনের, এবং সীতাপুর, রায়বেরলি, চান্দৌলি, কানপুর দেহাত, হারদোই ও সমভলে থেকেও বহু মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
কর্মকর্তারা বলেন, কাঁচা ঘর বল্লিষ্ঠ ঝড়ে ধসে পড়া, গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়া এবং বজ্রপাতে এসব প্রাণহানির সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে ফসল নষ্ট হয়েছে এবং গবাদি পশুও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় আবহাওয়ায় হঠাৎ পরিবর্তন এনে তীব্র বেগে বাতাস বইতে শুরু করে। বাতাসে উড়ন্ত বড় বড় বিলবোর্ড, টিনের চালা ও ভাঙা গাছগুলো বহু জায়গায় গাড়ির ওপর পড়ে যায় এবং কয়েকটি সড়ক বন্ধ হয়ে পড়ে।
ঘটনাস্থলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বারেলির বামিয়ানা গ্রামের একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি প্রবল বাতাসে টিনের চালাসহ প্রায় ৫০ ফুট দূরে একটি ফিল্ডে ছিটকে পড়ছেন — এই দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে শোক ও আতঙ্ক বাড়িয়ে দিয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ দিয়ে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে রাজস্ব ও কৃষি বিভাগ এবং বিমা কোম্পানিকেও দ্রুত জরিপ করে সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। উদ্ধারকাজ ও জরিপ চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত আছে।
সূত্র: এনডিটিভি
