পশ্চিমবঙ্গে সকল প্রকার পশু জবাই নিষিদ্ধের ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গের সরকার বুধবার ঘোষণা করেছে যে এখন থেকে প্রকাশ্যে গরু সহ সব ধরনের পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের পশু পালন এবং জবাই প্রক্রিয়ার উপর নাটকীয় পরিবর্তন আসবে। নতুন এ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনো পশু যেমন গরু, ষাঁড়, মহিষ বা অন্য কিছুরই জবাই করা যাবে না। নিয়মের লঙ্ঘন করলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে।

এনডিটিভির খবরে জানানো হয়েছে, এই নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, অনুমোদিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য বিভাগীয় পশু চিকিৎসকের ফিটনেস সনদ ছাড়া পশু জবাই সম্পন্ন করা যাবে না। বিশেষ করে গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর, মহিষ ও মহিষের বাছুরসহ সব ধরনের পশুর ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য।

সনদপ্রাপ্তির জন্য পশুর বয়স ১৪ বছরের কম হওয়ার প্রমাণ দিতে হবে এবং পশুটি আর কাজ বা প্রজননের উপযোগী নয়, এমনকি আঘাত, বিকলাঙ্গতা বা অসুস্থতার কারণেও অক্ষম বলে চিহ্নিত হতে পারে। এই সনদ দিতে পৌরসভা চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিসহ সরকারি পশু চিকিৎসক যৌথভাবে দায়বদ্ধ থাকবেন।

নতুন নির্দেশনায় কঠোর কিছু শর্তও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পশুর বয়স, নির্ধারিত স্থান ছাড়া জবাই নিষেধ, এবং নিয়ম ভঙ্গ করলে কঠোর শাস্তির প্রাবন্ধিক উল্লেখ রয়েছে। পশু জবাইয়ের জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুমতি নিতে হবে, যেখানে পশুটির উপযোগিতা ও বয়সের তথ্য থাকা বাধ্যতামূলক।

অনুমতির পরে পশুটি কেবল পৌরসভার নির্ধারিত কসাইখানা বা প্রশাসনিক পর্যায়ের নির্দিষ্ট স্থানেই জবাই করতে হবে। খোলা জায়গায় বা জনসমাগমের মধ্যে পশু জবাই সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।

নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য পৌর চেয়ারম্যান, পঞ্চায়েত সভাপতি বা পশু চিকিৎসক যেকোনো স্থান পরিদর্শন করতে পারবেন। কেউ বাধা দিতে পারবে না।

অতিরিক্ত খবর হলো, এই নিয়ম ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, এক হাজার রুপির জরিমানা বা উভয় শাস্তি হতে পারে। সব অপরাধকেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করে কড়া নজরদারি চালানো হবে।