পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ খুনের মামলায় অযোধ্যা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত রাজ সিংকে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ ও এসটিএফের যৌথ অভিযানে হাইওয়ের পাশে অবস্থানকালে তাঁকে আটকের খবর নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারের পর থেকে এই ঘটনা দুই রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ সূত্রে দাবি, রাজ সিং একজন পেশাদার ‘শুটার’ হিসেবে পরিচিত। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো যোগ রয়েছে কী না। গ্রেপ্তারের পর কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পর্যায়ের বিভিন্ন পুলিশি ও গোয়েন্দা সংস্থা রাজের অপরাধপটভূমি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত জীবন খতিয়ে দেখছে।
রাজ সিং উত্তরপ্রদেশের বালিয়া জেলার সদর কোতোয়ালি থানার আনন্দ নগর এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়ভাবে তিনি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত বলে স্থানীয়রা জানান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায়ই কালো স্করপিও গাড়িতে, যার উপর বিজেপি-পতাকা লাগানো থাকত, চলাফেরা করতেন।
রাজ সিং উত্তরপ্রদেশ অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। গত কয়েক বছরে তিনি বালিয়া নগর পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে লড়াই করেছিলেন এবং চলতি বছর চিলকাহার ব্লক থেকে স্থানীয় منتخبপদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
তদন্তকারীদের নজরে এসেছে, রাজ সিংয়ের সঙ্গে কয়েকজন উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি রয়েছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়েছে। পুলিশ এখন এসব ছবির প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক যোগসূত্র ও সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের কড়ি জোড়া খুঁজছে।
রাজের বিরুদ্ধে পুরনো এক মামলা-ফাইলও আলোচনায় এসেছে। প্রায় ছয় বছর আগে বালিয়ায় এক শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ডিম ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে তাঁর নাম উঠে এসেছিল; সেই মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন। তদন্তকারীরা দেখছেন, ওই পুরোনো ঘটনার সঙ্গে চন্দ্রনাথ রথ খুনের কোনো যোগ আছে কি না।
ঘটনাটি ইতিমধ্যেই সিবিআইয়ের কাছেও হস্তান্তর করা হয়েছে; একটি সাত সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও তদন্তকারীরা একসাথে ঘটনায় রাজনৈতিক ও অপরাধজগতের অংশীদারদের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছেন।
রাজ সিংয়ের পরিবার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাজের মা জামবন্ত্রী সিং, যিনি বালিয়ার প্রধান ডাকঘরের কর্মচারী হিসেবে কর্মরত, দাবি করেছেন যে তার ছেলেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে। তিনি বলেন, রাজ লখনউতে এক বিজেপি নেতার মেয়ের শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ফেরার পথে গ্রেপ্তার হন এবং ঘটনার দিন রাজ বালিয়াতেই উপস্থিত ছিলেন — সিসিটিভি ফুটেজ থাকলে তা প্রমাণিত হবে বলে তাঁর দাবি।
অখিল ভারতীয় ক্ষত্রিয় মহাসভারকে সাধারণত রাজপুত সম্প্রদায়ের সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়; সমালোচকরা বলেন তাঁদের কিছু অংশ করনি সেনার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। পক্ষান্তরে এ সংগঠনের প্রতিনিধিরা সময়-সময় বিভিন্ন ঐতিহ্যগত নামকরণ ও সংস্কৃতিগত দাবি তুলে থাকেন। দলটির নেতা-কর্মীদের বিজেপির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ নেতাদের সঙ্গে উপস্থিত দেখা গেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন। এগুলোকে আদালত বা তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হবে।
শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারীর হত্যাকাণ্ডে রাজ সিংয়ের গ্রেপ্তারি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর সিবিআই ও এসআইটির তৎপরতায় — তারা জেরা ও প্রমাণ-উপাত্তের মাধ্যমে খোঁজার চেষ্টা করবে খুনের প্রকৃত অদৃশ্য হাতগুলো কারা এবং ঘটনার নেপথ্যে কী উদ্দেশ্য ছিল।
