আজ রোববার (১০ মে) বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তার অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। দলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম প্রার্থীদের নাম পরিচিত করেছেন এবং জানান, এই প্রথম দফায় তারা ১০০ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছেন।
সারজিস আলম বলেছেন, ‘খুব বেশি সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছিল—হাজারের বেশি। আমরা সেগুলো থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রাথমিকভাবে ১০০ জনের নাম ঘোষণা করছি। আশা করছি, ঈদের আগেই ২০ মে তারিখের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ প্রার্থী ঘোষণা থাকবে। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সারা দেশ থেকে যারা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বে আছেন, নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই, যাদের বিরুদ্ধে জুলুম বা ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে কারো সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ নেই; তারা যেকোনো রাজনৈতিক দলের হোক বা অন্য কেউ, তারা এনসিপির প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। যাচাই-বাছাই শেষে অন্য কোন দল থেকে কেউ যোগ চাইলে তা স্বাভাবিকভাবে বিবেচনা করা হবে।’
প্রতিনিধিত্বশীল এই তালিকায় মোট ১০০ প্রার্থী রয়েছেন—যার মধ্যে ৫0 জন উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ৫০ জন পৌর মেয়র প্রার্থী। বিভাগ অনুযায়ী প্রার্থীদের নাম এখানে তুলে ধরা হলো:
খুলনা বিভাগে কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবুল হাশেম বাদশা, ভেড়ামারা জান্নাতুল ফেরদৌস টনি, চিতলমারী ইশতিয়াক হোসেন, ফকিরমারী লাবিব আহমেদ, মঙ্গলপুর মো. রহমত উল্লাহ, বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র সৈয়দ মোর্শেদ আনোয়ার, যশোরের বাঘারপাড়ার ইয়াহিয়া জিসান, নোয়াপাড়ার শাহজাহান কবির, খুলনার চালনা থেকে এস এম এ রশিদ, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে খায়রুল বাশার বিপ্লব, মেহেরপুরের গাংনী শহরে সোহেল পারভেজ, ঝিনাইদহের শহরে তারেকুল ইসলাম।
রংপুর বিভাগের উজ্জ্বল প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, বোদা শিশির আসাদ, দেবীগঞ্জ মাসুদ পারভেজ, ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল গোলাম মর্তুজা সেলিম, দিনাজপুরে ইমরান চৌধুরী নিশাত, বোচাগঞ্জের মাওলানা এম এ তাফসির হাসান, ফুলবাড়ির শিহাব হোসেন, ঘোড়াঘাট মো. আব্দুল মান্নান ও হাকিমপুরের রায়হান কবির।
নীলফামারীর জলঢাকায় আবু সাইদ লিয়ন, নীলফামারী সদরে ড. কামরুল ইসলাম, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িতে ইমরান চৌধুরী নিশাত, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে শাহ সুলতান নাসির উদ্দিন আহমেদ, রংপুরে কৃষ্ণ চন্দ্র বর্মণ ও গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে খাদিমুল ইসলাম।
রাজশাহীর বিভাগে রাজশাহীর গদাগাড়া মো. আতিকুল রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর, নওগাঁর নেআমতপুর, বাদলগাছীর আসাদ মোর্শেদ আজম, ধামুরহাটের মাহফুজার রহমান চৌধুরী রুবেল।
বগুড়ার শিবগঞ্জে মো. জাহাঙ্গীর আলম, দুপচাঁচিয়ার মুন্সিগঞ্জে আবু বক্কর সিদ্দিক, বগুড়া সদরে এ. এম জেড শাহরিয়ার, নাটোরের সদর পৌরসভায় আব্দুল মান্নান, পাবনার চাটমোহরে খন্দকার আক্তার হোসেন, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ আদনান ও উল্লাপাড়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আল-মামুন লিয়ন।
সিলেট বিভাগে হবিগঞ্জের আজমিরিগঞ্জ মো. কামাল আহমেদ, হবিগঞ্জ সদর পৌরসভার মাহবুবুল বারী চৌধুরী, মৌলভীবাজারের রাজনগর খালেদ হাসান, কুলাউড়ার আবু রুকিয়ান, সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ ও ওবায়েদ আহমেদ, কুনালগঞ্জের ভবানীপুরে বোরহান উদ্দিন ইউনূস, ওসমানী নগরে হাজি মো. মোশাহিদ আলী, জৈন্তাপুরে জাকারিয়া ও গোয়াইনঘাটে মনসুরুল হাসান।
ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের মধ্যে শেরপুরের ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া, নূর ইসলাম, জামালপুরের অ্যাডভোকেট আবু সাইদ শামিম, নেত্রকোণার খালিয়াজুড়ি মো. মুশফিকুর রহমান মিন্টু, বারহাট্টার শফিকুল হক চৌধুরী বাবলু, নেত্রকোণা সদরে সোহাগ মিয়া প্রিতম, ময়মনসিংহের তারাকান্দার ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম, ভালুকার নূরুল ইসলাম, হালুয়াঘাটের আবু হেলাল ও ধোবাউড়ার মো. সাইফুল্লাহ।
উত্তর ঢাকা বিভাগের প্রার্থীদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের আহনাফ সাইদ খান, তাড়াইলের ইকরাম হোসেন, করিমগঞ্জের খাইরুল কবির, ঢাকার সাভার শাহাবদুল্লাহ রনি, মানিকগঞ্জের আরিফুল ইসলাম, দৌলতপুরের আবু আব্দুল্লাহ, টাঙ্গাইলের কালিহাতির মেহদী হাসান, টাঙ্গাইল পৌরসভার মাসুদুর রহমান রাসেল, ভূঞাপুরের হাসান ইমাম তালুকদার, শফিপুরের মাওলানা আনসার আলী, নরসিংদীর সাইফ ইবনে সারওয়ার এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জের শোবেদ মিয়া।
অপরদিকে দক্ষিণ ঢাকা বিভাগে নারায়ণগঞ্জের সেনারগাঁওয়ে তুহিন মাহবুব এবং মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে আলী নেওয়াজ প্রার্থীরা রয়েছেন।
ফরিদপুর বিভাগের মধ্যে নগরকান্দার রেজাউল করিম সবুজ, নগরকান্দা পৌরসভার নাজমুল হুদা, ফরিদপুরের সাইদ খান, মাদারীপুরের মো. হাসিবুল্লাহ ও গোপালগঞ্জের ফেরদৌম আমেনা উল্লেখযোগ্য প্রার্থী।
