জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রশ্ন করেছেন, প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকায় না হলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কীভাবে উন্নয়ন হবে। তিনি ওই মন্তব্য করেন শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগের কেন্দ্রীয় দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘যে এলাকায় নেতারা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা আইনমন্ত্রী হবে না, সেই এলাকায় কি কোনো উন্নয়ন হবে না? উন্নয়নকে বৈষম্যমুক্ত করতে সরকারের উচিত জাতীয়ভাবে জরিপ করা—কোথায় রেল বা সড়ক যোগাযোগ প্রয়োজন। ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়তে সরকারের দায়িত্ব পালন করা জরুরি।’
তিনি জুন/জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ স্মরণ করে বলেন, ‘হাজারো মানুষের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে এই সরকার ক্ষমতায় এলেও আবারও বৈষম্যের সমাজ গড়ে তোলা হচ্ছে। হাজার রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতায় এসে তারা ন্যায়ের বদলে অন্যায় করছেন। উন্নয়নে সমতা রক্ষা হচ্ছে না; আমরা যে বৈষম্যহীনতার জন্য লড়েছি, সেই আদর্শকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। এটা শহীদদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’
রেল যোগাযোগের বর্তমান বেহাল দশার দায় তিনি দুর্নীতিকেই দিয়েছেন। ‘বিশ্বে রেল যোগাযোগ যখন আধুনিকীকরণ ও সাফল্যের শিখরে উঠছে, তখন বাংলাদেশে রেলখাত পিছিয়ে পড়ছে। এত বড় যোগাযোগ নেটওয়ার্ককে আমরা এখনও আধুনিকায়ন করতে পারিনি’—গোলাম পরওয়ার জানান।
আগামী বাজেটে প্লেস্কেল সংশোধন, রেলের শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি মানা ও আধুনিক রেলপথ নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বিদেশি শক্তির প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলবে; কোনো বিদেশি শক্তির প্রেস্ক্রিপশন বা রিমোট কন্ট্রোল আধিপত্যকে আমরা মেনে নেব না। দেশকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাখতে বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।’
ট্রেড ইউনিয়ন প্রায় সংকুচিত করে শ্রমিকদের অধিকার বঞ্চিত করারও তীব্র সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘সরকার শ্রমিক ও গণতন্ত্রের কথা বলে, মেহনতি মানুষের কষ্টের কথা বলে; কিন্তু বাস্তবে ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে সীমিত করা হয়েছে। এক কারখানায় তিনটির বেশি সংগঠন রেজিস্ট্রেশন করা যাবে না—এটা ঠিক হয়নি।’
তিনি দাবি করেন, বৃহত কারখানায় আরও বেশি ট্রেড ইউনিয়ন থাকা উচিত। সংগঠনের সংখ্যা বেশি থাকলে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিসহ মালিকদের সঙ্গে আলোচনাও সহজ হবে এবং দাবি আদায় করা সম্ভব হবে।
