এন.এস. রাজা সুব্রমণি ভারতের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক; নৌবাহিনীর প্রধান হচ্ছেন কৃষ্ণ স্বামীনাথন

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এন.এস. রাজা সুব্রমণিকে দেশের নতুন সেনা সর্বাধিনায়ক (চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ) হিসেবে nombr করে দিয়েছে। বর্তমানে এই পদে থাকা জেনারেল অনিল চৌহানের মেয়াদ ৩০ মে শেষ হবে এবং এরপরই সুব্রমণি ওই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একই সময়ে ভাইস অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথনকে পরবর্তী নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে; বর্তমান নৌপ্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল দীনেশ কুমার ত্রিপাঠীর মেয়াদ ৩১ মে শেষ হচ্ছে।

শনিবার (৯ মে) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই নিয়োগের খবর জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সুব্রমণি সেনা সর্বাধিনায়ক হিসেবে তিন বাহিনীর সমন্বয়, উচ্চস্তরের সামরিক পরামর্শ এবং সামরিক নীতির বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। একই সঙ্গে তিনি সামরিক বিষয়ক দপ্তরের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।

সুব্রমণির কর্মজীবন দীর্ঘ ও বহুমুখী। তিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা একাডেমি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে ১৯৮৫ সালে গড়ওয়াল রাইফেলসে কমিশন্ড হন। ব্রিটেনে জয়েন্ট সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে পড়াশোনা করেছেন এবং পরে জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজেও যোগদান করেন। দেশের বিভিন্ন সংঘাতপ্রবণ ও সংবেদনশীল এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্তি থেকে শুরু করে পররাষ্ট্রকাঠামোর অংশ হিসেবে কাজাখস্তানের ভারতীয় দূতাবাসে দায়িত্ব পালন — সবখানেই তার উপস্থিতি ছিল নিরীক্ষণযোগ্য। ৩৫ বছরের কর্মজীবনে তিনি একাধিক জাতীয় সম্মান লাভ করেছেন। ২০২৩ সালে তিনি সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডিং ইন চিফ হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন এবং পরবর্তীতে ৪৭তম ভাইস সিডিএস হিসেবে দায়িত্ব নেন। সক্রিয় সামরিক চাকরি থেকে সাময়িক অবসরের পর তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সামরিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছিলেন।

নৌবাহিনীর নতুন প্রধান কৃষ্ণ স্বামীনাথন মুম্বাই থেকে পশ্চিম নেভাল কমান্ড নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার পূর্ববর্তী দায়িত্বের মধ্যে নৌবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে কাজ করা রয়েছে। কমান্ডে থাকা অবস্থায় তিনি ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরি আইএনএস বিদ্যুৎ, আইএনএস বিনাশ, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী করভেট আইএনএস কুলাইশ, ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী আইএনএস মহীশূর এবং বিমানবাহী রণতরি আইএনএস বিক্রমাদিত্যের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই নিয়োগগুলো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা ও নেতৃত্বের উপর গুরুত্ব আরোপ করে। আগামী মাসের শেষে উভয় পদেই দায়িত্বহস্তান্তরের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব দেশের নিরাপত্তা ও সামরিক প্রস্তুতিকে সামনের ধাপে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করবেন।