স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী রয়েছে যারা বারবার হতাশা থেকে বের হয়ে এসে সমাজকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, ‘‘আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তিকে নিশানা করতে চাই না। আমাদের রাজনীতি এখন সুন্দর বা পরিশীলিত নয়। মানুষ বারবার পরিবর্তনের জন্য লড়েছে, প্রাণ দিয়েছে, পরিবর্তনের চেষ্টাও করেছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সত্যিকারের পরিবর্তন আসেনি।’’
শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসর রবীন্দ্র কাছারিবাড়িতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের মূল পরিচয় হচ্ছে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম। আমরা ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে যে সক্রিয়তা ও পরিচয় অর্জন করেছি, সেটা সবসময় মনে রাখতে হবে। স্বাধীনতা এমনি এমনি পাওয়া হয়নি—নয় মাস ধরে যুদ্ধ করে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। গণতন্ত্রও সংগ্রাম করে ফেরত আনা হয়েছে; সেটিও হঠাৎ ফিরে আসেনি।’’
মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, ‘‘জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা যে সার্বিক সংগ্রাম করেছে, আমরা সেটাকে ‘জুলাই যুদ্ধ’ বলি। তাতে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে, নতুন নির্বাচন হয়েছে, মানুষ নতুন সরকারের কাছে আশা নিয়েছে। যে ঘুণ ধরে থাকা শাসন ব্যবস্থা ছিল, তারা দেশকে ধ্বংসের দিকে ধাবিত করেছে—অর্থনৈতিক লুটপাট হয়েছে, ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুট করা হয়েছে, প্রশাসন দুর্বল করা হয়েছে। এসবের বিরুদ্ধে লড়াই করেই আজকের অবস্থায় পৌঁছেছি। কেউ কেউ চেষ্টা করছে এই পরিবর্তনকে বিকৃত করে ভিন্ন খাতে নেওয়ার, ছোট ইস্যু নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার। আমরা চাই না দেশ যেন অস্থির হয়।’’
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘‘রবীন্দ্রনাথ যখন এখানে অবস্থান করতেন, তিনি কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে একটি ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন এবং কৃষিকে আধুনিকভাবে উন্নয়নের উদ্যোগে কাজ শুরু করেছিলেন। এটা তাঁর জীবন, কাজ ও কবিতার চর্চার বাইরের একটি কার্য্যগত প্রমাণ। কবিতা, পদ্য, গদ্য, নাটক ও গানে তাঁর বিচরণ ছিল প্রকৃত আদর্শমানবকল্যাণে প্রবাহিত—গীতাঞ্জলি লিখে তিনি বিশ্বের মন কাড়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়লেও শেষ করা যায় না—এই অনুভূতিই আমার প্রায়ই হয়।’’
আলোচনা সভায় রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ এন এম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ এর সংসদ সদস্য এনামুল হক, নওগাঁ-৩ এর সংসদ সদস্য ফজলে হুদা, নওগাঁ-৪ এর সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ এর সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, বাংলাদেশ দূতাবাস মেক্সিকোর সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মুশফিকুল ফজল আনসারী, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নুসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভার পরে ঢাকার এবং স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশন হয়। কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত পতিসরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়—দিনভর হাজারো দর্শক ও রবীন্দ্রপ্রেমী সেখানে ভিড় করেন।
