কেরালায় ইতিহাস: ফাতিমা থাহিলিয়া আইইউএমএলের প্রথম নারী বিধায়ক

কেরালার নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় রচিত হলো। কোজিকোড় জেলার পেরাম্বরা আসনে আইইউএমএল মনোনীত ফাতিমা থাহিলিয়া বিজয়ী হয়ে দলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হলেন। ক্ষমতাসীন বাম জোটের বরিষ্ঠ নেতা টিপি রামকৃষ্ণনকে পরাজিত করে তার এই জয় অনেককে অবাক করেছে।

স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, পেরাম্বরা আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই সিপিআইয়ের ঘাঁটি হিসেবে পরিগণিত—১৯৮০ সাল থেকে এখানে ওই দলটির প্রভাব ছিল শক্ত। তবু ফাতিমার দুর্দান্ত লড়াই ও সমর্থকের জোরদার প্রচারণা এই ধারাকে বদলে দিল।

ফাতিমা থাহিলিয়া একজন আইনজীবী ও কোজিকোড় পৌরসভার কাউন্সিলর। তার এই জয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কেরালার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের নিদর্শন হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে বামদের দখলে থাকা আসনে এই ফলাফল নতুন সমীকরণ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক চিত্রকে বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচনের সময় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) অভিযোগ করেছিল যে, এলডিএফ তাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক প্রচারণা চালিয়েছে এবং বিষয়টি তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ছিল।

আইইউএমএল এইবার মোট ২৭ জন প্রার্থী দিয়েছিল, তার মধ্যে মাত্র দুজনই নারী ছিলেন; ফাতিমা তাদের একজন। দলের ইতিহাসে আগে দু’জন নারী প্রার্থী মনোনয়ন পেয়লেও কেউ জয়ী হননি—এবার ফাতিমার জয় তাই দলীয় ইতিহাসেও তাৎপর্যপূর্ণ।

ফাতিমার রাজনৈতিক জীবনের গোড়াপত্তন ছাত্ররাজনীতির মধ্যেই। তিনি মুসলিম স্টুডেন্টস ফেডারেশনের (এমএসএফ)-এর নারী শাখা ‘হারিতা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। ২০১২ সালে গঠিত এই সংগঠনটি আইইউএমএল সমর্থক নারী শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে এবং কলেজ ক্যাম্পাসে দলটির প্রভাব বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

পরবর্তীতে এমএসএফ-এর কিছু শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে এবং সেই ঘটনাকে ঘিরে দলের ভেতরে উত্তাপ দেখা দেয়। অভিযোগ চাপা দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোয় ফাতিমা দলীয় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হন এবং হারিতা সংগঠনও ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—এই বিষয়গুলো কেরালার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে দীর্ঘ দিন আলোচনার বিষয় ছিল।

বর্তমানে ফাতিমা আইইউএমএলের যুব সংগঠন মুসলিম ইয়ুথ লিগের সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি কেরালার রাজনীতিতে এক নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছেন—যাঁরা দলগত পরিচয়ের ভেতর থেকেও নারী অধিকার, অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র এবং সংস্কারের প্রশ্নগুলো সামনে আনতে নারাজ হন না। তার জয় কেবল একটি আসনই বদলায়নি; কেরালার রাজনৈতিক ভেতরকেও নতুন ভাবনা, নতুন নেতৃত্ব ও নারী অংশগ্রহণের সম্ভাবনা দেখিয়েছে।