উন্নত জীবনের স্বপ্নে ইউরোপগামী একটি নৌকায় আট দিন ভেসে থাকার পর অন্তত ২৬ জন অভিবাসীর প্রাণহানি ঘটেছে—রয়টার্সের প্রতিবেদনে এমন শঙ্কা জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্যে নির্দিষ্টভাবে ১৭ জনের মৃত্যুর বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও ৯ জনকে নিখোঁজ বলে গণনা করা হচ্ছে; একই সময়ে সাত জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনায় হতাশা ও মানবিক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জানানো হয়েছে, নৌকা নৌগতি-বিকল থাকার ফলে এ লোকগুলো আট দিন ধরে সমুদ্রের তীর থেকে দূরে ভেসে ছিল। বিশুদ্ধ পানীয় জল ও খাবারের তীব্র অভাবই তাদের মরার প্রধান কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রবিবারের খবর অনুযায়ী উদ্ধারকর্মীরা লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের তোবরুক শহরের কাছাকাছি সমুদ্র থেকে তাদের উদ্ধার করেন; এই অভিযানে লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মি নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ডের সঙ্গে রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরাও অংশ নিয়েছিল। নিরাপত্তা সূত্র বলেছে, কয়েক দিনের মধ্যে নিখোঁজ রয়েছেন বলেও যে নয়জনের মরদেহ তীরে ভেসে আসার সম্ভাবনা রয়েছে সেই আশাও প্রকাশ করা হয়েছে।
এ পর্যন্ত মৃতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। রেড ক্রিসেন্টের প্রচারিত কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, উদ্ধারকারী দল মৃতদেহগুলো কালো প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে পিকআপের পেছনে বোঝাই করছেন—এরই মধ্যে তীব্র আবেগ ও নিন্দার ছোঁয়া দেখা গেছে।
লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরেই সাব-সাহারান আফ্রিকান অভিবাসীদের জন্য ইউরোপ যাওয়ার একটি প্রধান ট্রানজিট পথ হয়ে আছে। বহু ব্যক্তি যুদ্ধ, পীড়া ও দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে মরুভূমি ও সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বিপজ্জনক পথ পাড়ি দেয়; মানবপাচার চক্রগুলো এই পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
এ প্রসঙ্গে, লিবিয়ান অ্যাটর্নি জেনারেল রয়েছেন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপে—গত মঙ্গলবার ত্রিপোলির ফৌজদারি আদালত পশ্চিম লিবিয়ার জুয়ারার অপরাধী চক্রের চার সদস্যকে মানবপাচার, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও নির্যাতনের দায়ে সর্বোচ্চ ২২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড প্রদান করেছে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের তথ্য অনুযায়ী, আরেকটি পৃথক মামলায় পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় তোবরুক থেকে অভিবাসীদের একটি নটিনাটিগ নৌকায় পাঠানোয় জড়িত অন্য একটি চক্রকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে। ওই নৌকাটি ডুবে যাওয়ায় পূর্বে ৩৮ জন সুদানি, মিশরীয় ও ইথিওপিয়ান নাগরিকের মৃত্যু হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাগুলো স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মানবপাচার এবং জীবনহানির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে লিবিয়ায় স্থায়ীভাবে নিরাপদ অভিবাসনবিধি ও পাল্টা অপরাধী নেটওয়ার্ক ভাঙতে কার্যকর তদন্ত ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি—এমনটাই বলছে মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা।
এই ট্র্যাজেডি অভিবাসীদের পরিবার-স্বজনের ওপর গভীর দুঃখ ছড়াচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে মানবিক সুরক্ষা ও নিরাপদ পথ না থাকলে মানুষ জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে বিপজ্জনক পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়। উদ্ধারের পরও আহত ও ক্লান্ত সবার জন্য নৌকা থেকে সরানো চিকিৎসা ও সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে।
