জ্বালানি তেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরান নিয়ন্ত্রিত সম্ভাব্য পদক্ষেপের নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করতে যাচ্ছে—এমন খবরের পর ক্রুড অয়েলের বাজারে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এশিয়ার লেনদেনে ব্রেন্ট অপরিশোধিত কাঁচা তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বাড়ে এবং ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারেরও বেশি হয়ে যায়; এটাই ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের পর থেকে সর্বোচ্চ লেভেল। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেল প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ে এবং ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৯ ডলারে পৌঁছে।

জুন মাসের ডেলিভারির ব্রেন্ট ফিউচার্স চুক্তির মেয়াদ বৃহস্পতিবার শেষ হওয়ার কথা। ফিউচার চুক্তি বলতে বোঝায়—একটি নির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ তারিখে কোনো সম্পদ ক্রয় বা বিক্রয়ের চুক্তি। এশিয়ার সকালের লেনদেনে তুলনামূলকভাবে সক্রিয় জুলাই মাসের ব্রেন্ট চুক্তিটি প্রায় ২ শতাংশ বাড়ে এবং প্রায় ১১৩ ডলারে পৌঁছায়।

সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে যে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানের ওপর ধারাবাহিকভাবে ‘স্বল্প ও শক্তিশালী’ ধরনের হামলা চালানোর সম্ভাব্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত হামলাগুলোর মধ্যে অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুও থাকতে পারে।

আরেকটি পরিকল্পনার মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালির একটি অংশ দখল করে সেটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খোলা; এমনটি করতে স্থলভাগে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন পড়তে পারে—অ্যাক্সিওস এই তথ্য জানিয়েছে।

বিবিসি বিষয়টি সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তেহরান যতদিন হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে হুমকি দিতে থাকবে ততদিন তারা ইরানের বন্দরগুলোকে অবরোধে রাখতে পারে, এবং এমন অবরোধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাতে পারে। ওয়াশিংটনের ‘দীর্ঘমেয়াদি’ অবরোধের প্রস্তুতির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বুধবার তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

মোটকথা, সামরিক পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য অবরোধের খবর বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং বাজারকে উদ্বღ্রীব করে তুলেছে।