ভূমধ্যসাগরে আট দিন ভেসে ২৬ অভিবাসীর মৃত্যু

উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে আট দিন ভেসে অন্তত ২৬ জন অভিবাসীর প্রাণহানি ঘটেছে; এর মধ্যে ১৭ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে এবং নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনাটিকে মৃত্যু বলা হচ্ছে কারণ উদ্ধারকারীরা জানাচ্ছেন, পর্যাপ্ত পানীয় পানি ও খাদ্যের অভাবে তারা প্রাণ হারিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ভূমধ্যসাগরে আট দিন ভেসে থাকার পর এই হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ওই নৌকায় থাকা সাতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা লিবিয়ার ন্যাশনাল আর্মি ও কোস্ট গার্ডের সহযোগিতায় মিশর সীমানার কাছে পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক শহরের উপকূল থেকে নিস্পৃহ অবস্থায় থাকা এই গোষ্ঠীকে উদ্ধার করে। নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নিখোঁজ নয়জনের মরদেহ তীরে ভেসে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিবার ও পরিচয় শনাক্তের কাজ এখনও শুরু হয়নি—রক্ষা ও তদন্তকারী সংস্থাগুলি নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। উদ্ধারকাজের সময় রেড ক্রিসেন্ট যে ছবিগুলো প্রকাশ করেছে সেগুলোতে দেখা গেছে মরদেহগুলো কালো প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে পিকআপ গাড়ির পেছনে রাখা হয়েছে, যা এই ট্রাজেডির মর্মাহত দৃশ্য তুলে ধরে।

লিবিয়া ইউরোপে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট; বহু অভিবাসনপ্রত্যাশী সাব-সাহারান আফ্রিকা থেকে যুদ্ধ, অনাহার ও দারিদ্র্য ছাড়িয়ে ভালো জীবন খোঁজায় মরুভূমি ও সমুদ্র পেরিয়ে এই পথে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করে।

ঘটনার প্রেক্ষিতে লিবিয়ার বিচার বিভাগীয় কর্মকাণ্ডও তদারকিতে এসেছে। ত্রিপোলির একটি ফৌজদারি আদালত পশ্চিম লিবিয়ার জুয়ারার চার জনকে মানবপাচার, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে সর্বোচ্চ ২২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন, জানিয়েছে লিবিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল। একইভাবে, পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় আরেকটি পাচার চক্রকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে। অভিযোগ আছে যে এই চক্রগুলো তোবরুক থেকে অভিবাসীদের জরাজীর্ণ নৌকায় পাঠায়; এমন একটি নৌকার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় গত সময়ে ৩৮ জন সুদানি, মিশরীয় ও ইথিওপীয় নাগরিকের মৃত্যু ঘটেছে।

এই আত্মঘাতী যাত্রা এবং পাচার চক্রের জবাবদিহিতার প্রশ্নগুলো আবারও তুলে ধরেছে কেন হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথে নামছেন এবং কেন আন্তর্জাতিকভাবে লেবার, নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা নিয়ে কার্যকর কৌশল প্রয়োজন।