জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, সরকার যদি কোনো ভুল পথে পরিচালিত হয় বা জনগণের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও বিরোধীদলের সঙ্গে মিলিয়ে সমানভাবে সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ করবে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
আযাদ জানান, নারী আসনের জন্য দলীয়ভাবে কম্বাইন তালিকা হিসেবে জমা দেওয়া ১৩টি মনোনয়নপত্রে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকবেন না বলে তারা আশাবাদী। ‘‘এই ১৩টি আসন ১৩টি তালিকার ভিত্তিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কথা; আমরা আশা করি সেভাবেই ফলাফল আসবে,’’ তিনি বলেন।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এ প্রসঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করে আযাদ বলেন, যেহেতু সংসদ কার্যকর রয়েছে এবং মনোনীতরা সময়মত পার্লামেন্টে যোগ দিতে পারলে নারীদের প্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত দেশের প্রত্যাশা পূরণ হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কমিশন যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা ভিন্ন পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে—এটাই তারা প্রত্যাশা করেন এবং কমিশনও আশ্বাস দিয়েছে।
আশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মনোনীত ১৩ জন নারী সদস্য ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব করবেন। দেশের স্বার্থে আইন প্রণয়নসহ সংসদের সব গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে নারীরা সমানভাবে অংশ নিয়ে তাদের বৈধ মর্যাদা ও ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন—সংবিধান সেই সুযোগ দিয়েছে।
জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীতরা বিরোধীদলের প্ল্যাটফর্মে থেকে দেশগঠন ও জাতি গঠনে ভূমিকা পালন করবেন। ‘‘পার্লামেন্টে আমাদের নীতি হচ্ছে ন্যায় সম্মত ও জনকল্যাণমূলক কাজে জনগণের সঙ্গে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা,’’ তিনি যোগ করেন এবং বিরোধীদলীয় নেত্রী ডা. শফিকুর রহমানের ঘোষণার কথা স্মরণ করান।
গণভোট ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে আযাদ বলেন, গণভোটের রায়ে সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন হওয়ার কথা ছিল; তা না হওয়ায় ১১ দল মিলেই সরকারের ওই পদক্ষেপ ও জনরায়ের উপেক্ষার বিরুদ্ধে সংসদেও এবং সংসদের বাইরেও প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও রাস্তায় কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।
মনোনয়ন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনি জানান, জামায়াতে এক পরিবারে দুই সংসদ সদস্যের নীতি অনুসরণ করে আমিরের সহধর্মিণীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়নি; তার বদলে শহীদ পরিবারের মা এবং সমাজের নানা স্তরের পেশাজীবী—ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ইত্যাদি—কে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।
এনসিপির প্রার্থী মুনিরা শারমিন সম্পর্কে আসা প্রশ্নে আযাদ বলেন, সরকারি চাকরি থেকে অবসর না হওয়ার কারণে প্রার্থিতা স্থগিত হওয়ার শর্ত থাকলেও তিনি মনে করেন এ ঘটনা মনোনয়ন বাতিলের পর্যায়ে যাবে না।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল জমা নেয়ার শেষ তারিখ ২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭ ও ২৮ এপ্রিল, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
আযাদ সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করেন, ‘‘যদি সরকার ভুল পথে অগ্রসর হয় বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, আমাদের অপর বিরোধীদলীয় সদস্যদের মতোই ১৩ জন নারী সদস্যও পাল্লা দিয়ে প্রতিবাদে অংশ নেবেন; ৭৭ জন বিরোধীদলীয় সদস্যের সঙ্গে ১৩ জন যোগ হলে মোট ৯০ জন সদস্য একসঙ্গে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’’
