মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা নিয়ে ‘সুখবর’ আসতে পারে আগামী শুক্রবারের মধ্যে। এই তথ্য বুধবার নিউইয়র্ক পোস্টকে ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে দেওয়া এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান।
পাকিস্তানি সূত্রগুলো জানায়, তেহরানের সঙ্গে ইতিবাচক মধ্যস্থতা চলছে এবং আগামী ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শান্তি আলোচনা এগোবার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। এ বিষয়ে নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প একটি টেক্সট মেসেজে সংক্ষিপ্তভাবে বলেছেন, ‘এটা সম্ভব!’— এবং নিজেকে ‘প্রেসিডেন্ট ডি.জে.টি.’ হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন।
এর আগে ট্রাম্প নিজ ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অনুরোধে তারা ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রাখার আবেদন করেছে, যাতে ইরানি নেতৃত্ব ও প্রতিনিধিরা একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব নিয়ে আসতে পারেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ‘অবরোধ অব্যাহত রাখার’ নির্দেশ দিয়েছেন এবং অন্য সব অবস্থায়ও প্রস্তুত ও সক্ষম থাকতে বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, প্রস্তাব জমা দেওয়া ও আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো পর্যন্ত তিনি যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়িয়ে রেখেছেন।
পাকিস্তান ইসলামাবাদের সঙ্গে তেহরানের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে এবং ওই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে বলে এক পাকিস্তানি সূত্র জানায়। নাম প্রকাশ না করে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি বজায় আছে, যা উভয় পক্ষের ইতিবাচক মনের ইঙ্গিত দেয়—কারণ কোন পক্ষ থেকেও সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি না করার কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’
তবে ইরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ বা শান্তিচুক্তি বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বুধবার এক ব্রিফিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, পাকিস্তানের আহ্বানের পর তারা তাদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এ ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেনি।
বাঘাই বলেন, ইসলামাবাদে প্রথম দফার সংলাপকে তারা গুরুত্ব দিয়েছিল এবং তাদের প্রতিনিধিরা সদিচ্ছা নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন; কিন্তু সেখানে তাদের যে দলের সঙ্গে বৈঠক করতে হয়েছে, তাদের সদিচ্ছা ছিল না এবং তারা সংলাপের গুরুত্বও বুঝতে পারেনি। তিনি আরও যোগ করেন, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষার উপায় হিসেবে কূটনীতি প্রয়োগ করা হবে; যখনই উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে, তখনই পদক্ষেপ নেবে ইরান।
পাকিস্তান মধ্যস্থতার চাপ অব্যাহত রাখছে এবং ইসলামাবাদ আরও উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। তারা এই বিলম্বকে কূটনৈতিক ব্যার্থতা নয়, বরং একটি সাময়িক বাধা হিসেবে দেখছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, এনডিটিভি
