মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এক দাবি উঠেছে, যেখানে বলা হয়েছে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক কোড ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এই খবর অনুসারে, সিআইএ বিশ্লেষক ল্যারি জনসনের এক পডকাস্টে উল্লেখ করা হয়, হোয়াইট হাউসের এক জরুরি বৈঠকে ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের জন্য সংকেত দেন, কিন্তু তখন জেনারেল ড্যান কেইন, যা জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান, তৎক্ষণাৎ তার এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেন। এই পরিস্থিতিকে জনসন ‘বড় ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ সংঘর্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ওই বৈঠকের এক পর্যায়ে ট্রাম্প পারমাণবিক কোড সক্রিয় করার প্রস্তুতি নেন, কিন্তু জেনারেল কেইন সরাসরি ‘না’ বলে তাদের বক্তব্য স্পষ্ট করেন এবং সামরিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তবে এই দাবির সত্যতা নিয়ে অনেক বিশ্লেষক সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কারণ, মার্কিন আইনে প্রেসিডেন্টের একার পক্ষে সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়; এ জন্য ক্যাপ্টেন, সেনাপতি বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সম্মতি জরুরি। অন্যদিকে, সিএনএনের খবর অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে জেনারেল কেইনসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, এবং তার উপস্থিতি বিভিন্ন ফুটেজে দেখা গেছে যে, তিনি দ্রুত ভবন থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ও কেইনের মধ্যে ইরান সম্পর্কিত মতবিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল। ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, কেইন মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ‘সহজেই জেতা সম্ভব’, তবে বাস্তবে মিত্রদের তথ্য বলছে, কেইনের পরামর্শ ছিল ভিন্ন। এছাড়াও, অন্যান্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে আটকে পড়া মার্কিন বিমানসেনাদের উদ্ধার অভিযানের সময় ট্রাম্পকে ‘সিচুয়েশন রুম’ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল, কারণ তিনি অত্যন্ত উত্তেজিত ছিলেন এবং সহকারীদের ওপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা চিৎকার করছিলেন। এসব পরিস্থিতিতে, ট্রাম্পের পারমাণবিক হামলার স্পষ্ট কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি, তবে তার সাম্প্রতিক কট্টর রণনীতি এবং সামরিক নেতৃত্বের অবস্থানের মধ্যে থাকা বিস্তৃত ভিন্নতা এই দাবি আরও উসকে দিয়েছে।
