যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় সব বন্দর অবরুদ্ধের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্র পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ইরানের উপসাগরীয় অঞ্চলের সব বন্দর অবরুদ্ধ করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিক এই অবরোধের ঘোষণা দেয়। এই সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে জানানো হয়, যেকোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজের সঙ্গেও এই অবরোধ কার্যকর হবে। অর্থাৎ, ইরানের বন্দরের দিকে যেসব জাহাজ যাচ্ছে বা আসছে, তাদের সবাইকে আটকানো হবে।

তবে আশ্চর্যজনকভাবে, শুধুমাত্র উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের বন্দরে প্রবেশের ক্ষেত্রে এই অবরোধের প্রভাব পড়বে না। সেন্ট্রাল কমান্ড এক্সে (মাইক্রো ব্লগিং সাইট) এক পোস্টে জানিয়েছে, “ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর পূর্বে আড়াই আরব সাগরে অবস্থানরত সব দেশের পতাকাবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে এ নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানিয়েছেন, “অ_permissions ছাড়া অবরোধ এলাকায় কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে বা সেখানে থেকে বের হলে তা আটক করা, পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা বা জব্দ করা সম্ভব। তবে এই অবরোধ শুধু ইরানের বন্দরের জন্য নয়, অন্যান্য বন্দরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না।”

এদিকে, এই মার্কিন একতরফা অবরোধের জবাবে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। তার এক মুখপাত্র বলেছেন, “পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের সব বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে, কোনও বন্দরই নিশ্চিন্ত থাকবে না।”

তিনি আরও বলেন, “মার্কিন সরকারের এই কার্যক্রম অযৌক্তিক এবং সামুদ্রিক দস্যুতা হিসেবে গণ্য হবে।” গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে ইরান হরমুজের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। দেশটির দাবি, তাদের শত্রুরা এই রুট দিয়ে আর চলাচল করতে পারবে না।

বিশ্বের মোট ২০ শতাংশ জ্বালানি এই গুরুত্বপূর্ণ রুট দিয়ে সরবরাহ হয়। উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের তেল ও গ্যাসের আউটপুট হরমুজের মাধ্যমে রপ্তানি করে থাকে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্লেষকরা।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান