কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। এর মাঝেই ওয়াশিংটন থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হলেও, তারা জানায় যে এই উদ্যোগটি অত্যন্ত নাজুক ও সংবেদনশীল। শুক্রবার সন্ধ্যার আগে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংক্ষিপ্ত এক বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের প্রতি আস্থার কথা ব্যক্ত করেন। তবে আলোচনা কী রকম ফলপ্রসূ হবে, তা আগে থেকেই নির্ধারিত—এমন কোনও আভাস তিনি দেননি। ট্রাম্প বলেছিলেন, “শেষ পর্যন্ত কী হয় দেখা যাক। সেখানে জেডি (ভ্যান্স), স্টিভ ও জ্যারেড আছেন। আমাদের দক্ষ এক দল আছে এবং তারা কাল বৈঠকে বসবে। আমরা দেখব কী উন্নতি হয়।” তিনি মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও শীর্ষ উপদেষ্টা দলের কথা উল্লেখ করেন। ট্রাম্প একই সঙ্গে এই আলোচনাকে কৌশলগত ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বলে চিহ্নিত করেন, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের বিষয়গুলো শেষ পর্যন্ত আলোচনা ফলাফলে প্রভাব ফেলবে। তিনি আরও বলেন, “প্রণালিটি (হরমুজ প্রণালি) খুলে যাবে। আমরা যদি এটি ছাড়া দিই, তবে এটি নিজেদের মতোই খুলে যাবে। আমারা এই নৌপথের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল নয়—অন্য দেশগুলো এগিয়ে আসবে।” সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বিকল্প পরিকল্পনা বা ব্যাকআপ প্ল্যানের বিষয়ে সরাসরি কোন মন্তব্য করেননি, বরং বলেন, “এটি সহজ হবে না, তবে আমরা খুব দ্রুত পথ খুলে দিতে পারি।” তার এই বক্তব্যে বোঝা যায়, তিনি আলোচনার ফলাফল নিয়ে একদিকে আত্মবিশ্বাসী, অন্যদিকে অনিশ্চিত। তিনি এই প্রক্রিয়াটিকে প্রকৃতিতে সুচিন্তিত ও পরিকল্পিত বলে মনে করেন। অন্যদিকে, ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বদানকারী ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, আলোচনাকে তিনি ‘ইতিবাচক’ বলে মনে করছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তেহরান যেন আমাদের সঙ্গে ‘চতুরতা’ বা কারসাজি করতে না আসে। এই মন্তব্যে তাদের গভীর অবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান নিজেকে কেবল মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নয়, বরং একটি ‘সহায়ক প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে উপস্থাপন করছে। দেশটি মূলত আলোচনা পরিচালনায় পরিবেশ তৈরির জন্য একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত রিজওয়ান সাঈদ শেখ বলেন, অনেক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও তৎপরতার ফলেই আজকের এই ইতিবাচক পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। তিনি প্রশংসা করেন পাকিস্তান ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূমিকাকে। তিনি জানিয়ে দেন যে, এখন আলোচনাগুলোর চূড়ান্ত পর্যায় শুরু হয়েছে, এবং এর মধ্যে রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে উঠেছে। কূটনৈতিক এ অগ্রগতি মূলত অপ্রত্যাশিত নয়, বরং প্রাথমিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে এই অবস্থায় এসেছে। তিনি আরও সর্তক করেন, আলোচনা শুরুর আগে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে, সেগুলোর প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা দেখা জরুরি। এটি শুধু বাহ্যিক পরিবেশের জন্য নয়, বরং মূল বিষয়বস্তুর ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, উভয় পক্ষের মনোভাব ও সহযোগিতার মানসিকতা পুরো বিষয়টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই চূড়ান্ত পর্যায়কে তিনি ‘চলমান প্রক্রিয়া’ হিসেবে দেখছেন, যেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী আলোচনা ও সমন্বয় চালিয়ে যাওয়াই মূল লক্ষ্য।
