শেরপুর ও বগুড়ায় নজিরবিহীন ভোট ডাকাতি ও অনিয়মের অভিযোগ

শেরপুর ও বগুড়ায় উপনির্বাচনে ব্যাপক ভোটাধিকার লুটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলছেন, কেন্দ্র দখলের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের রহস্যজনক হামলা ও জাল ভোটের মাধ্যমে এই নির্বাচনগুলোর সাথে অপ্রত্যাশিত অনিয়ম ঘটেছে। এই ঘটনা এতটাই গুরুতর যে, তা বিএনপির জন্যও শোরগোল সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাদ জুমা, বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তৃতা দেয়ার সময় গোলাম পরওয়ার এসব অভিযোগ করেন। এই সমাবেশের আয়োজক ছিল ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী, যা শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ নম্বর আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি প্রকাশ্যে বলেছিল, তারা গণভোটে জিতলে তা মানবে। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর তারা সেই গণভোটের ফলাফলই বাতিল করছে, যা সম্পূর্ণভাবে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা এবং শহীদদের রক্তের সাথে বেঈমানি।

তিনি অভিযোগ করেন, শেরপুর ও বগুড়ার নির্বাচনে জাল ভোট, কেন্দ্র দখল এবং প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও নির্বাচন কমিশন নানা তত্ত্ব দিয়ে বলছে, এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হয়েছে, যা একান্তই কপটতা এবং জাতির সাথে তামাশা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গোলাম পরওয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ক্ষমতায় থাকা কোনো দিনই সম্ভব নয়। জনগণের সুবিচার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য বিএনপিকে এখনই রাজনৈতিক সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এতে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান সহ অন্যান্য নেতারা।

এর আগে, জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে এক বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়, যা শেষ হয় পল্টন মোড়-বিজয়নগর গোলচত্বর এলাকায়। এই মিছিলে বগুড়া ও শেরপুরের উপনির্বাচনের ফল বাতিলের দাবিতে বক্তৃতা ও শ্লোগান দেওয়া হয়।