জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিএনপি সরকার সম্প্রতি বারবার দাবী করে আসছে যে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে দেশে কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে না। কিন্তু ইতিহাস আমাদের দেখিয়েছে এর উল্টো ছবি। ৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত পরিবর্তনগুলো রক্ষা করতে না পারায় ফলশ্রুতিতে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। একইভাবে, যদি আগামী ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জন রক্ষা না করা হয়, তাহলে ২০২৬ বা ২০২৭ সালে আবারো সেই ধরনের অব্যাহত ঘটনার আশঙ্কা করছে তিনি।
রোববার (৫ এপ্রিল) শহীদ নগরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সরকারের মধ্যে ভোটের রায় উপেক্ষা, সরকারী সংস্কার বিলম্বে অবহেলা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে দেখছি বিএনপি সংবিধানের কথা বলে, কিন্তু তাদের কাজের মধ্যে দেখা যায় সংবিধান লঙ্ঘনের অপপ্রয়াস। রাষ্ট্রের জনপ্রতিনিধি নিয়োগের সময়, সংবিধানের স্পষ্ট বিধান থাকলেও শাসকরা সরকারি অধ্যাদেশের দোহাই দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণের ক্ষমতা রাখছে। এতে বিরোধী দলের কেউ নির্বাচিত হয়েও অপসারণের আতঙ্কে থাকছে, যা সম্পূর্ণ সংবিধানবিরোধী।
অপর এক আলোচনায় তিনি ফোনে আড়ি-পতানোর সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সরকারের সময় এজেন্সিগুলোর ব্যক্তিগত ফোনে নজরদারি করার ক্ষমতা ছিল বলেও উল্লেখ করেন। আগের পরিমার্জনা অনুযায়ী, অন্তর্বতীকালীন সরকার বাজেয়াপ্ত ক্ষমতা অর্ধেক করে ৪টি সংস্থায় সীমাবদ্ধ করলেও বর্তমান সরকার তা তুলে দিয়ে আবারও আড়ি পাতার ক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
মুখপাত্র আরও বলেন, গতকাল অপ্রতিরোধ্যভাবে আমরা ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারী লক্ষণগুলো দেখেছি। যদি সরকার ২০২৪ সালের গণভোটের রায় মানে না, তাহলে তাদেরকে অদ্যুত সরকার হিসেবে ঘোষণা দিতে দ্বিধা করবো না। পাশাপাশি, আমাদের অর্জনগুলো ধুলিসাৎ করতে তারা যত সময় নিচ্ছে, আমরা তত দ্রুত তাদের অবৈধ ঘোষণা করবো।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, আগে থেকেই সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাদের সদিচ্ছার অভাবে তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সকল অংশীজনের সাথে বসে কাজ করতে চান। তবে, গণভোট নিয়ে চলমান নাটকীয়তা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে এখন রাজপথে নামা আর বিকল্প নেই। এ আন্দোলন কোনোভাবেই কারো জন্য ক্ষতিকর হবে না।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সংস্কার কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাবেদের রাসেল, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ আরও অনেকে।
