যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) নিজের সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে তিনি লিখেছেন, তিনি ইরানকে চুক্তি করার বা হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছিলেন; এখন সেই সময় শেষের দিকে এসেছে—আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি। ট্রাম্প লিখেছেন, এই সময়ের মধ্যে ইরান যদি তা না করে, তবে তাদের ওপর ‘জাহান্নাম নেমে আসবে’।
পটভূমি: বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ সিংহদ্বার দিয়ে প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ওই প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে থাকার কথা জানিয়েছে ইরান। তেহরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তাদের নৌবাহিনীর ‘‘দৃঢ় ও কর্তৃত্বপূর্ণ’’ হাতে আছে এবং এটি ‘‘শত্রুদের জন্য’’ বন্ধ রাখা হবে। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর রফতানি ঝুঁকির মুখে পড়ায় এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্প গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একের পর এক ডেডলাইন দিয়েছেন। ২১ মার্চ তিনি বলেছিলেন, ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ খুলে না দেয় তবে তিনি দেশটির বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা নিশ্ছিদ্রভাবে ধ্বংস করবেন। দুই দিন পর, ২৩ মার্চ, তিনি কণ্ঠ কিছুটা নরম করে জানান যে দুই দেশের মধ্যে ‘‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’’ হয়েছে এবং তিনি জ্বালানি অবকাঠামোতে কোনো হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখেন। পরে ২৭ মার্চ ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের অনুরোধে সময় বাড়িয়েছিলেন যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে পারে—এমনকি দাবি করেছেন, তেহরান সময় পাচ্ছে বলে তারা আরও সময় চেয়েছিল। ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ৭ দিনের বদলে ১০ দিন সময় দিয়েছেন এবং সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে ৬ এপ্রিল।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাতকারে ট্রাম্প আরও বলেন, তেহরানের কর্তৃপক্ষ ভদ্রভাবে আরও সময় চেয়ে যোগাযোগ করেছে; ‘‘তারা বলেছে, ‘আমরা কি একটু বেশি সময় পেতে পারি?’ কারণ সময়টা খুবই কম ছিল। যদি তারা প্রয়োজনীয় কাজ না করে, আমি তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেব।’’’ এদিকে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের ভঙ্গ এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
তবে ট্রাম্পের অতিক্রমী ডেডলাইন ইরানকে ঘাবড়িয়েছে বলে প্রতীয়মান নয়—তেহরান কড়া অবস্থান বজায় রেখেছে। হরমুজের পাশাপাশি ইরান মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব-এল-মানদেব নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, যা আরব উপদ্বীপের দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত এবং বিশ্বব্যাপী কনটেইনার পরিবহনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই পথ দিয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ওই আকস্মিকভাবে ব্লক হতে পারে এমন ঝুঁকি তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বাব-এল-মানদেব প্রণালীর গুরুত্বের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘‘বিশ্বের কত শতাংশ তেল, এলএনজি, গম, চাল ও সার এই প্রণালী দিয়ে যায়?’’—এই প্রশ্নের মধ্যেই প্রকাশ পায় যে আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইন কতটা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এবং হরমুজ প্রণালী-সহ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র পথে কণ্ঠস্বর লড়াই চলায় বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বজায় আছে।
