ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের সামরিক ভারসাম্য বদলে দেওয়ার মতো একটি দাবি সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উঠে এসেছে — উত্তর কোরিয়ার তৈরি হোয়াসং-১৮ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইসিবিএম) এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণে আছে বলে বলা হচ্ছে। সূত্রগুলো এই খবরটি গোপনে ও ধীরে ধীরে এসে পৌঁছানোর কথাও বলছে, যা অনেকে নজিরবিহীন মনে করছেন।
রিপোর্টে বলা হচ্ছে, গত ১৪ মাস ধরে উত্তর কোরিয়া থেকে ইরানে এই ধরনের মিসাইল হস্তান্তর চালানো হয়েছিল এবং পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো—যেমন সিআইএ বা মোসাদ—এই কার্যক্রম সনাক্ত করতে পারেনি। কিভাবে এই চালানগুলি পৌঁছেছে সে বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া তথ্যে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য রুট হিসেবে চীনের ভূখণ্ড ও মধ্য এশিয়ার দুর্লভ পথ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং বিস্তারিত তথ্য এখনও সীমিত।
সংবাদগুলোর একাংশে মিসাইলের পরিমাণ নিয়ে বিস্তর সংখ্যা ঘোরাফেরা করছে; তাদের মধ্যে কিছু সূত্র ৫০০টির মতো হস্তান্তরের কথা বললেও বিশ্বের বিদ্যমান আইসিবিএমের মোটসংখ্যা সম্পর্কিত হিসাব নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা যাচ্ছে। এসব সংখ্যা ও বিবরণ সম্পর্কে প্রতিটি সূত্রের নীতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা আলাদা — ফলে পরিসংখ্যানগুলোর স্বতন্ত্র যাচাই প্রয়োজন।
হোয়াসং-১৮ সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য হিসেবে বলা হচ্ছে, এগুলো সলিড ফুয়েল চালিত এবং দীর্ঘ-পাল্লার লক্ষ্যভেদে সক্ষম। কয়েকটি হাইপোথেটিকাল বর্ণনায় উল্লেখ আছে যে এই ধরনের মিসাইলগুলো ইউরোপের রাজধানীগুলো ও মার্কিন মাটিও আঘাত করার পর্যাপ্ত পরিসরে পৌঁছতে সক্ষম। আরও বলা হচ্ছে, এগুলি নির্দিষ্ট ধরণের নেভিগেশনের ওপর নির্ভর করে — যেমন আকাশের নাক্ষত্রের অবস্থান ব্যবহার করে — যার ফলে সাধারণ রাডার বা জিপিএসকে কাজে লাগিয়ে শনাক্ত বা জ্যাম করা কঠিন হতে পারে। খবরগুলোতে এই মিসাইলগুলোর পরীক্ষিত নির্ভুলতা আনুমানিক ১০০-১৫০ মিটার ধরা হয়েছে। আবার এসব প্রযুক্তিগত বিবরণও স্বাধীন উৎসে যাচাই করা প্রয়োজন।
সোমবারের একবারের খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কউন্সিলের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে দ্রুত বৈঠকে বসে; একই সঙ্গে ইরানের এক কথিত বেসরকারি মুখপাত্র প্রফেসর মারণ্দি দাবি করেছেন যে মিসাইলগুলো ইতোমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে এবং এতে ইরানকে পাল্টা প্রত্যাঘাত সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে।
পাঠককে জানানো প্রয়োজন যে, উপরোক্ত সব বিবরণ অধিকাংশই সংবাদ সূত্রে ‘দাবি’ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে; স্বাধীন ও তত্ত্বাবধায়ক যাচাই ছাড়া এগুলোকে চূড়ান্তভাবে সত্য বলে ধরা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও গোয়েন্দা উৎসগুলো অতিরিক্ত ক্ল্যারিফিকেশন দিচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে আরও উপাত্ত পাওয়া গেলে এই পরিস্থিতির প্রকৃত স্বরূপ স্পষ্ট হবে।
