সরকারি দায়িত্বের সূত্রেই গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব থেকে নিজেই সরে দাঁড়ালেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতা জোনায়েদ সাকি। দায়িত্বভার সাময়িকভাবে গ্রহণ করেছেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু। দলীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি দায়িত্ব ও রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব পৃথক রাখার নীতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি নিজেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি সভায় বলেন, ‘রাজনৈতিক দল ও সরকারকে আলাদা করার জন্য দলীয় প্রধানের দায়িত্ব ছেড়েছি।’

একই সংবাদ সম্মেলনে তিনি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরে বলেন, বাস্তবায়ন কিভাবে হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে, তবে প্রয়োগকালে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামত প্রাধান্য পাবে।

পটভূমি হিসেবে বলা যেতে পারে, গত বছরের ৩ নভেম্বর সাভারে অনুষ্ঠিত দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে জোনায়েদ সাকি পুনরায় প্রধান সমন্বয়কারী নির্বাচিত হন। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন পান গণসংহতি আন্দোলন। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের শরিক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্চারামপুর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জোনায়েদ সাকি।

বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথমে তাকে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হলেও পরে পুনর্গঠন করে শুধু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দলীয় একটি সূত্রের কথায়, সরকারের উচ্চ পদে থেকে দলের প্রধান থাকা সম্ভাব্য সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির কারণেই তিনি দলীয় প্রধানের দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।