ইস্ফাহানে শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরান একটি মার্কিন এমকিউ-১ প্রিডেটর ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির ফার্স নিউজ। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড ওই ড্রোনটি ভূপাতিত করেছে।
এর আগে শুক্রবার দক্ষিণপূর্ব ইরানের আকাশে একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে ইরানি বাহিনী, এমনটি জানিয়েছে আল-জাজিরা। একই দিন হরমুজ প্রণালী এলাকায় আরেকটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু যুদ্ধবিমানও ভূপাতিত করা হয়।
আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, এফ-১৫ই বিমানটিতে দুইজন ক্রু ছিলেন। তাদের মধ্যে একজনকে মার্কিন সেনারা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়; আরেকজন এখনও নিখোঁজ। এ-১০ বিমানের পাইলট তার বিমানকে ইরানের আকাশসীমা থেকে বের করে নিতে সক্ষম হন, কিন্তু পরে হরমুজ প্রণালীর কাছে পারস্য উপসাগরে ওই বিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই পাইলট পরে উপসাগরীয় আরব এক দেশে পৌঁছে চিকিৎসা নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে বের করতে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টারগুলোকে ইরানি পুলিশ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ারও খবর পাওয়া যায়; এক হেলিকপ্টারের লেজে আগুন ধরে ধোঁয়া উঠলেও সেটি শেষপর্যন্ত ইরানের আকাশ থেকে পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকার্য চলাকালে ইরানি বাহিনীও ওই নিখোঁজ ক্রুকে ধরা বন্দোয়স্ত করার জন্য পাল্টা অভিযান চালিয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনাগুলোয়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সবচেয়ে তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং উত্তরোত্তরকালে পরিস্থিতি অস্থিরতার দিকে এগোচ্ছে। ঘটনা সম্পর্কে বিভিন্ন পক্ষের দাবিদাওয়া চলছে, ফলে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের নিশ্চিত তদন্তের দিকে আন্তর্জাতিক নজর আছে।
