ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভের ডাক

শনিবার ঢাকা মহানগরীতে সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় গণবিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিলের ডাক দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের জোট। এই কর্মসূচির ঘোষণা এলো শুক্রবার বিকালে, রাজধানীজুড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরে। বোর্ডের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এই বিক্ষোভের মাধ্যমে তারা সরকারকে আশু একনিষ্ঠভাবে দুর্বল করে দিতে চায়।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ১১ দলের লিঁয়াজো কমিটির বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আযাদ একটি জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সরকারি দল সংসদ পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার মতোই স্বৈরাচারী পথে হাঁটছে এবং সংবিধানে কোনও পরিবর্তন ছাড়াই কেবল সংশোধনী আনার চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, সরকার কাঙ্খিত পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ, এবং রাজপথের আন্দোলন ছাড়া কোনো বিকল্প তাদের কাছে থাকছে না।

আযাদ জানিয়েছেন, এই সমাবেশ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, আগামী ৭ এপ্রিল ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

দুর্গন্ধযুক্ত এই পরিস্থিতির মধ্যেই, বুধবার সন্ধ্যার দিকে সংসদ ভবনে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গণভোটের রায় নিয়ে সরকারকে তিনি অত্যন্ত বিস্মিত ও হতবাক। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে বিরোধী দল জামায়াত নেতৃত্বাধীন সংসদ সদস্যরা সংসদ ছেড়ে বেরিয়ে যান। মূল কারণ ছিল, জুলাই সনদ আদেশ না দেওয়া ও বিরোধী দলের নেতাকে মিসকোড করার অভিযোগ। পরে স্পিকারকেও এ ব্যাপারে তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রতিকার চাইছিলাম, বিষয়টি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের সাথে সম্পর্কিত নয়। যারা নির্বাচনের সময় একমত হয়েছিল, তাদের সকলের স্পষ্ট মতামত ছিল যে, এটি দেশের জন্য ভালো। আমরা এই অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ওয়াকআউট করেছি। দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত এড়াতে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’