হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে শনিবার দেওয়া এক পোস্টে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, বিশেষত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে।

ট্রাম্প তার পোস্টে আরও জানান, প্রয়োজন হলে তারা ইরানের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দিতে পারে — এমনকি অভিযান শুরু করা হবে এমন নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এর এক দিন আগে তিনি এক পর্যায়ে ইরানে সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার কথাও বিবেচনা করছিলেন, তবে পরে কঠোর অবস্থানে ফিরে এই আলটিমেটাম দেন। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্র পথ কার্যত ব্যাহত রয়েছে।

তেহরান অবশ্য দাবি করছে তারা কেবল তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলায় জড়িত দেশগুলোর জাহাজের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, অন্য দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে সহযোগিতা করা হবে।

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানের সেনাবাহিনী পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের ঘোষণায় বলা হয়েছে, এই অঞ্চলে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের মালিকানাধীন জ্বালানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনাগুলোও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে — এমন খবর প্রকাশ করেছে ফারস নিউজ এজেন্সি।

এই উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। শনিবার দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যা চলমান সংঘাতের মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বংসী আখ্যা পেয়েছে। এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

স্থানীয় উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, আরাদ শহরে ৮৪ জন আহত হয়েছেন; তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। এর আগেও কাছের দিমোনা শহরে আরও ৩৩ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবাসিক ভবনগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।

দিমোনায় মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক স্থাপনা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যদিও ইসরায়েল কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেনি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে শহরের একটি ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে, এতে এক শিশু সহ কয়েকজন গুরতর আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন এবং ‘সব দিক থেকে প্রতিশোধ’ নেওয়ার কথা বলেছেন। পরে ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, তারা তেহরানে বড় ধরনের হামলা শুরু করেছে।

ইরান meanwhile দাবি করেছে, তাদের নাতাঞ্জ পারমাণবিক কেন্দ্রে যে হামলা হয়েছে তার প্রতিশোধ হিসেবে দিমোনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে। দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে তারা দক্ষিণ ইসরায়েলের পাশাপাশি কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু সামরিক স্থাপনাতেও আঘাত চালিয়েছে।