যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিরুদ্ধে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্প শুক্রবার রাতে তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রণালি না খোলা হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলা চালাবে, বিশেষত বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধ্বংস করা হবে।
এর আগে তিন সপ্তাহের সংঘাতের পর ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি সামরিক অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছিলেন। কিন্তু এক দিনের মধ্যেই কঠোর অবস্থায় ফিরে এসে এই আলটিমেটাম দেন। বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌ পথ কার্যত বিঘ্নিত অবস্থায় আছে বলে প্রতিবেদনগুলো বলছে।
তেহরান থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তাদের নিষেধাজ্ঞা কেবল সেসব দেশের জাহাজের ওপর আরোপ করা হয়েছে যারা ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত ছিল; অন্য দেশের জাহাজ চলাচলে সহযোগিতা করা হবে। অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনী পাল্টা সতর্ক করে দিয়েছে যে এই অঞ্চলে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের জ্বালানি সরবরাহ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ সংক্রান্ত সুবিধাগুলোও তাদের আঘাতের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, এমন তথ্য জানিয়েছে ফারস নিউজ।
এই উত্তেজনার মাঝেই শনিবার দক্ষিণ ইসরায়েলে দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে, যা চলমান সংঘাতে সবচেয়ে বিধ্বংসী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, আরাদ শহরে ৮৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর; কাছের দিমোনায় আরও ৩৩ জন আহত হয়েছেন। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে আবাসিক ভবনগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বড় বড় গর্ত দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং বলছেন, সব দিক থেকে জবাব দেয়া হবে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, শহরের একটি ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত করেছে; এতে এক শিশুসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে ইরানের দাবিও উঠেছে: ইরান বলেছে, নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনায় নাকি ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা দিমোনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) আরও দাবি করেছে যে তারা দক্ষিণ ইসরায়েল ছাড়াও কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কিছু সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
দিমোনা শহরে মধ্যপ্রাচ্যে কেবলমাত্র পারমাণবিক সুবিধা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়, যদিও ইসরায়েল কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার ঘোষণা দেয়নি।
উপর্যুক্ত ঘটনাগুলো একযোগে ঘটায় অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বেড়েছে এবং বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বার্তা-মাধ্যম ও কূটনৈতিক পটুপুরুষরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এবং পরিস্থিতি দ্রুত অচলাবস্থায় যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।
