সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ আর কোনো দেশের আধিপত্য মেনে নেবে না এবং বিগত দিনের অন্যায়ের বোঝা জনগণ ঘাড় থেকে নামিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা দেশকে দখলমুক্ত করেছেন এবং এখন দেশের যুবসমাজ মাথা উঁচু করে বাঁচতে চায়।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১৫ আসনে চীনের সহযোগিতায় ফুডপ্যাক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
বক্তব্যের শুরুতেই তিনি চীনের রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও আন্তরিক উন্নয়ন অংশীদার। ১৯৭৬ সালে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির পর থেকে চীন দেশে বড় বড় স্থাপনা ও অবকাঠামো নির্মাণে অবদান রেখে চলেছে। তিনি মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়াম ও চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের উদাহরণ টেনে বলেন, এসব স্থাপনা চীনের অকৃত্রিম বন্ধুত্বের প্রতীক; তবে ‘বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে’ এসব নিদর্শন হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল।
চীনকে তিনি একটি দেশের মতো আখ্যায়িত করে বলেন, ‘‘চীন আজও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ কোনো ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করে না। কিন্তু অনেকে কিছু না দিয়ে সব নিয়ে যায় এবং যখন-তখন হস্তক্ষেপ করে। চীন অবিচলিত বন্ধুর পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে।’’
ডা. শফিকুর রহমান আশা প্রকাশ করেন, তিস্তা জলবণ্টন প্রকল্প বাস্তবায়নে ভবিষ্যতে চীন আরও উদ্যোগী ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, তিস্তা প্রকল্প উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের কান্না; আমরা সেই কষ্টের অবসান চাই এবং অতীতের লেগাসি আর বহন করতে চাই না।
তিনি বলেন, চীন ইতিমধ্যে বাংলাদেশে দুইটি এক হাজার বেডের হাসপাতাল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল হল নির্মাণের ঘোষণা ও বাজেট বরাদ্দ করেছে। এছাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি ‘পাইলট প্রজেক্ট’ নেওয়ার জন্য তিনি চীনা রাষ্ট্রদূতের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।
মিরপুরবাসীর উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি আপনাদেরই একজন; এই এলাকা আমার নিজের ঘর। সরকার বা বন্ধু রাষ্ট্র থেকে যা কিছু আসবে, তা আমি আমানত হিসেবে আপনাদের হাতে পৌঁছে দেব। তার বাইরে ব্যক্তিগতভাবে ও আমরা আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’
অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন দুস্থদের হাতে ফুডপ্যাক তুলে দেন। местীয় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দ এবং বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচি চলাকালে স্বেচ্ছাসেবকরা শৃঙ্খলা বজায় রেখে প্রতিটি আসনে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন।
