ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি নিজেকে একজন ক্ষ্যাপাটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পরিচিত, তার এই ব্যতিক্রমী আচরণ আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। তিনি সম্প্রতি তার স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন ভাষণের সময় বিক্ষোভের মধ্যে দুই মুসলিম নারী আইনপ্রণেতা ইলহান ওমর ও রাশিদা তালাইবকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন, এই দুই সংরক্ষিত নারী জননেতাকে ‘যেখান থেকে এসেছিলেন, সেখানেই ফেরত পাঠানো উচিত’। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের অভিবাসননীতি এবং তার প্রশাসনের সমালোচকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিশেষ করে, তারা ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আমেরিকান রাশিদা তালাইব এবং সোমালি বংশোদ্ভើতা ইলহান ট্রাম্পের ও তার প্রশাসনের অভিবাসন দমননীতির সমালোচনা করছিলেন। মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্পের ভাষণের সময়, তিনি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় কথা বলেন এবং চেয়েছিলেন যেন এই দুই মুসলিম নারী আইনপ্রণেতা দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ট্রাম্প বলেন, তারা কেবল দেশটিকে ক্ষতি করতে পারে, দেশের জন্য কোনো উপকারী কাজ করতে পারে না।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার তিনি নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছিলেন, এই দুই নারী কুটিল ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ, এবং তাদের যেন অবিলম্বে আমেরিকা থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি আরও গালাগালি করে দাবি করেন, তারা অসুস্থ, মানসিক বিকারগ্রস্ত এবং কম বুদ্ধিসম্পন্ন।
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সময়, তার দুটি ভাষণে উল্লেখযোগ্য ছিল যখন তিনি বলেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপরাধের অভয়ারণ্য’ শহরগুলো বন্ধ করা প্রয়োজন—যেখানে অভিবাসন ও কাস্টমস এজেন্সির সঙ্গে অসহযোগিতা দেখা যায়। এ সময়, ইলহান ওমর ও রাশিদা তালাইব অসহযোগিতার প্রতিবাদে চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘আপনাদের হাত দিয়ে আমেরিকানদের হত্যা করা হচ্ছে!’ এই ঘটনাগুলো আবারও স্পষ্ট করে দেয় ট্রাম্পের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভাজন ও উত্তেজনা কতটা বেড়ে গেছে।
