আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পাকিস্তান স্পষ্টভাবে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এখন তীব্র পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার বেশিরভাগ কারণ হলো সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তের হামলা ও পাল্টা হামলা। এরই মধ্যে কাবুল, কান্দাহার এবং অন্যান্য প্রান্তে পাকিস্তানের আক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। পাকিস্তানি সেনারা এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধাকে হত্যা করেছে এবং আরও ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছে।
বিবিসি জানাচ্ছে, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ এক্সে সোশ্যাল মিডিয়ায় কঠোর ভাষায় আফগান তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষণা আসার পরই পাকিস্তানি বাহিনী বিভিন্ন বড় শহর ও প্রদেশে ব্যাপক আক্রমণ চালিয়েছে। কংক্রিটে, এই পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পাকিস্তান সর্বোচ্চ কূটনৈতিক ও সামরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
শুক্রবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে এক্সে পোস্টে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি জানান, পাকিস্তানি পচার বা আর্মি ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ শুরু করেছে। এই অভিযানের অংশ হিসেবে কাবুল এবং পাকতিয়া ও কান্দাহার প্রদেশের বেশ কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করা হয়েছে। এ অভিযানে, কাবুল, পাকতিয়া এবং কান্দাহারের বেশ কিছু সেনা চৌকি ধ্বংস করা এবং আরও কয়েকটি দখল করেছে পাকিস্তানি বাহিনী।
মোশাররফ জাইদি আরও জানান, বিমান থেকে বোমা বর্ষণে আফগান সেনাবাহিনীর দুইটি হেডকোয়ার্টার, তিনটি ব্রিজ হেডকোয়ার্টার, দু’টি গোলাবারুদ ডিপো, একটি লজিস্টিক ঘাঁটি, তিনটি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার, দুইটি সেক্টর হেডকোয়ার্টার, ৮০টির বেশি ট্যাংক ও বিপুল পরিমাণ আর্টিলারি অস্ত্র ধ্বংস হয়েছে।
অপরদিকে, এক বছর আগে, অক্টোবর মাসে, দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও সবসময়ই বিচ্ছিন্নভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারিতেও পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়ে বেশ কিছু এলাকা ধ্বংস করে। তবে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার দাবি করেছে, পাকিস্তানি বিমান বাহিনী লোকালয়ে হামলা চালিয়েছে। তারাও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ‘এর বদলা তারা নেবে।’
বুধবার কারো দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তান খাইবার পাখতুনখোয়ার ডুরান্ড এলাকার পাকিস্তানি সেনা চৌকিতে হামলা চালিয়েছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লা মুজাহিদ এই হামলার কথা জানালেও পরে তিনি এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দেননি। অন্যদিকে, পাকিস্তান ও তালেবানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে, বিভিন্ন সময় সীমান্তবর্তী এলাকায় সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি, পাকিস্তানের বিমান বাহিনী আফগানিস্তানের নানা প্রদেশে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, এই আক্রমণ তালেবানপন্থি সংগঠনের ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। তবে তালেবান এই ধরনের আক্রমণের জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে, বলছে তারা লোকালয়ে হামলা চালিয়েছে।
কিছু দিন আগে, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার সীমান্তে পাকিস্তানি সেনা ও তালেবানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তালেবান পক্ষের দাবি, পাকিস্তানি সেনারা রাতে তাদের চৌকি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানি বাহিনী ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ চালু করে, যা এখন যুদ্ধযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০০১ সালে তালেবানকে বাহিনী হিসেবে সমর্থন দেয় পাকিস্তান। তবে পরে তারা অভিযোগ তোলে যে পাকিস্তান তালেবানের পকা আশ্রয়দাতা। দীঘদিন ধরে পাকিস্তান প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসী আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে পাকিস্তান আরও ৬০০টির বেশি হামলার শিকার হয়েছে।
দীর্ঘ সীমান্তের প্রায় ১৬০০ মাইল (প্রায় ২৫৭৪ কিলোমিটার) দীর্ঘ এ পাহাড়ি সীমান্ত দিয়ে এই অশান্তি চলমান রয়েছে। দেশ দুটির মধ্যে এই সংঘর্ষের প্রভাব এখনও পুরোপুরি কমেনি।
